প্রতিবেশী ভারতকে 'বাংলাওয়াশ' করা হল না টাইগারদের। স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে ম্যাচে ৭৭ রানের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। তবে প্রথম দুই ম্যাচের জয়ে ২-১ সিরিজ ঘরে তুললেন মাশরাফিরা।

বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩১৭ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে ৪৭ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২৪০ রান সংগ্রহ করতে পারে বাংলাদেশ।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে এলবিডব্লিউ'র ফাঁদে পড়ে মাঠ থেকে বিদায় নেন ওপেনার তামিম ইকবাল।

সৌম্য ও লিটন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও তা বেশি দূর যায়নি। ১০ম ওভারে কুলকার্নির হাতে অশ্বিনের হাতে ক্যাচ আউট হন সৌম্য (৪০)।

মাঠে এসে ২৪ রান করতেই রায়নার বলে ধোনির হাতে ক্যাচ আউট হন মুশফিক। পরে অক্ষর পাটেলের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে যান ৩৪ রান করা লিটন দাস।

সাকিব ও সাব্বির রানের চাকা ঘুরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ২০ রান করা সাকিব রায়নার বলে কুলকার্নির হাতে ক্যাচ আউট হলে বাংলাদেশের আশার প্রদীপ নিভু নিভু করে।

সাব্বির ও নাসির লড়াই করলেও বড় জুটি দাঁড় করাতে পারেননি। অবশেষে স্টুয়ার্ট বিনি সাব্বিরকে বোল্ড করলে জয়ের আশা মলিন হয়ে যায়। সাব্বিরের ৩৮ বলে ৪৩ রানই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোর।

মাশরাফি এদিন রানের খাতা খুলতে পারেননি। নাসির আউট হয়েছেন ৩২ রান করে। বাকিরা নিয়মিত বিরতিতে মাঠে আসা যাওয়া করেন। শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন আরাফাত সানি।

ভারতের বোলার রায়না তিনটি উইকেট পান। দুটি করে উইকেট শিকার করেন কুলকির্নি ও অশ্বিন।

এর আগে নিজেদের মান বাঁচানোর লক্ষ্যে প্রথমে ব্যাট করতে নামা ভারতের দুই ওপেনার এদিন ঠান্ডা মাথায় ব্যাটিং শুরু করেন। ফলে উইকেট পেতে ৬ ওভারেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় টাইগারদের।

অবশেষে সপ্তম ওভারের শেষ বলে রোহিতকে বিদায় করে দেন টাইগার যাদু মুস্তাফিজুর রহমান। তার বল ঠেকাতে গিয়ে উইকেটরক্ষক লিটন কুমারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ২৯ বলে ২৯ রান করা রোহিত।

ওয়ানডাউনে নামা কোহলিকে নিয়ে রানের চাকা ঘুরিয়ে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শিখর ধাওয়ান। এতে তাদের জুটিতে থেকে আসে ৭৫ রান।

এই জুটিকে আর বাড়তে দেননি বাংলাদেশের অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ২০তম ওভারের পঞ্চম বলে কোহলিকে সরাসরি বোল্ড করে দেন তিনি। ৩৫ বলে মাত্র ২৫ রান জুটল কোহলির ভাগে।

হাফ-সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাওয়া ধাওয়ানকে শিখর থেকে মাটিতে নামিয়ে দেন মাশরাফি ও নাসির। মাশরাফির বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে নাসিরের অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন ৭৩ বলে ৭৫ রান করা এই ব্যাটসম্যান।

রাইদুকে সঙ্গে নিয়ে ধোনি এক শক্তিশাল জুটি গড়ে তোলেন। ধোনির পর রাইদুও হাফ সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যান। অবশেষে মাশরাফি তাদের জুটি ভাঙেন। ৪৪ রান করা রাইদু লিটনের হাতে ক্যাচ আউট হলে ভেঙে যায় তাদের ৯৩ রানের জুটি।

প্রথম ম্যাচে পেসার মুস্তাফিজকে ধাক্কা দিয়ে যেন বিপদেই পড়লেন ভারতীয় অধিনায়ক ধোনি। দ্বিতীয় ম্যাচে বল হাতে তার উইকেট শিকার করার পর তৃতীয় তথা শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে প্রতিশোধ নিলেন মুস্তাফিজ। মাশরাফির বলে ধোনি বিদায় হওয়ার আগে ৬৯ রান করেন।

২১ বলে ৩৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে রায়না বিদায় নেয়ার আগে রানের ভিতটা মজবুত করে দিয়ে যান। বিনি ১৭ ও পাটেল ১০ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের বোলার মাশরাফি তিনটি উইকেট শিকার করেন। দুটি উইকেট পান মুস্তাফিজ। বাকি উইকেটটি পান সাকিব।

জেডআই