মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েসের জোড়া হাফসেঞ্চুরিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২৪৯ রান করেছে বাংলাদেশ। মাত্র ৮৭ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে একটি সম্মানজনক স্কোর গড়ে দেন এই দুই ব্যাটসম্যান।

১৮ রানে দুই উইকেট পড়ে গেলে হাল ধরেন মুশফিকুর রহিমর ও লিটন দাস। তৃতীয় উইকেটে তারা ৬৩ রান যোগ করেন। এরপর ৬ রানের ব্যবধানে ফেরেন লিটন, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। লিটন-মুশফিকরা ৪১ ও ৩৩ রান করে করলেও শূন্য রানে ফেরেন সাকিব।

৮৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে থাকা বাংলাদেশ দলকে খেলায় ফেরান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েস। ষষ্ঠ উইকেটে বাংলাদেশের হয়ে ১২৮ রানের রেকর্ড জুটি গড়ার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়তে বড় অবদান রাখেন তারা।

রিয়াদ ৭৪ রান করে সাজঘরে ফিরলেও ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত খেলে যাওয়া ইমরুল কায়েস করেন ৮৯ বলে ৭২ রান। তাদের জোড়া ফিফটিতে ৭ উইকেটে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ২৪৯ রান। জয়ের জন্য আফগানিস্তানকে করতে হবে ২৫০ রান।

আফতাব আলমকে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ তুলে দেন রিয়াদ। সাজঘরে ফেরার আগে ৮১ বল খেলে তিন চার ও দুই ছক্কার সাহায্যে ৭৪ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। তার আগে কায়েসের সঙ্গে ১২৮ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন রিয়াদ।

ইমরুলের ১৫তম ফিফটি: হঠাৎ করেই জাতীয় দলে সুযোগ পান ইমরুল কায়েস। দুবাইয়ে এশিয়া কাপে টাইগারদের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে শর্ট নোটিশে খুলনা থেকে নেয়া হয় তাকে।  আগের দিন দুবাই পৌঁছানো কায়েস রোববার খেলতে নেমে যান। এদিন ইনিংসের শুরুতে তার ভুল কলে সাড়া দিতে গিয়ে ‍রান আউট হয়ে ফেরেন অসাধারণ খেলতে থাকা মুশফিকুর রহিম।

এরপর বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করেন ইমরুল কায়েস। ৮৭ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ষষ্ঠ উইকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ১২৪ রানে জুটি গড়েছেন তারা।

মাহমুদউল্লাহর ২০তম ফিফটি: ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২০তম ফিফটি তুলে নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে হাল ধরেছেন এ অলরাউন্ডার। ৮৭ রানে ৫ উইকেট পড়ে গেলে ইমরুল কায়েসকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামত করেন রিয়াদ।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৬০তম ম্যাচে ফিফিটি তুলে নেন রিয়াদ। এই ম্যাচের আগে ১৫৯ ম্যাচ খেলে ৩ সেঞ্চুরি এবং ১৯টি ফিফটির সাহায্যে ৩ হাজার ৪৯০ রান করেন তিনি।

৫ হাজার রানের রেকর্ড গড়লেন মুশফিকুর রহিম 

৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন মুশফিকুর রহিম। তার আগে যে স্বাদ পেয়েছেন বাংলাদেশের কেবল আর মাত্র দুজন। মাইলফলকের খুব কাছে মুশফিক পৌঁছে গিয়েছিলেন আগের ম্যাচেই। তবে থামতে হয়েছিল আত্মঘাতী রিভার্স সুইপে।

আজ (২৩ সেপ্টেম্বর) আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে প্রয়োজন ছিল কেবল ৭ রান। উইকেটে যাওয়ার পর সেই পথটুকু বাড়ি দেন বেশ দ্রুতই।  বাংলাদেশের হয়ে ৫ হাজার ওয়ানডে রানের স্বাদ আগে পেয়েছেন কেবল তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান।

১৮১ ইনিংস খেলে ৬ হাজার ৩০৭ রান করেছেন তামিম। সাকিব আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে করেছেন ১৮০ ইনিংসে ৫ হাজার ৪৮২ রান।

রান সংখ্যার মতো তামিম এগিয়ে ৫ হাজার পৌঁছানোর গতিতেও। ১৫৮ ইনিংসে ছুঁয়েছিলেন ৫ হাজার। সাকিবের লেগেছিল ১৬৮ ইনিংস। মুশফিকের লাগল ১৭৬ ইনিংস।

মুশফিক সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। রানও সবচেয়ে বেশি তাদের বিপক্ষেই, ৩৯ ইনিংসে ৩৮.৮০ গড়ে ১ হাজার ২০৩। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৮.৪৩ গড়ে করেছেন ৬১৫ রান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৫ ইনিংসে ২৪.৩২ গড়ে ৬০৮ এবং ভারতের বিপক্ষে ১৯ ইনিংসে ৩৭.৪৩ গড়ে ৫৯৯ রান।

২০০৬ সালের অগাস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল মুশফিকের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই ম্যাচ বাংলাদেশের হয়ে তার ১৯০তম ওয়ানডে। কেবল মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান তার চেয়ে বেশি খেলেছেন বাংলাদেশের হয়ে। এই ম্যাচ বাংলাদেশের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের ১৯২তম ওয়ানডে।

এমবি