পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে জয়ের বিকল্প ভাবছেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে সোমবার মুশফিক বলেছেন, "ড্রয়ের চিন্তা করে খেললে মাথার মধ্যে রক্ষণাতত্মক ভাব চলে আসার ঝুঁকি থাকে। সবকিছুই নির্ভর করে ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর। তারপরও আমাদের ম্যাচে নামতে হবে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। জয় ছাড়া ভিন্ন কোনো কিছু করার নেই।"

নিজেদের আত্মবিশ্বাসের পিছনে কারণও দাঁড় করিয়েছেন টাইগার নেতা, "দলে অনেক ম্যাচ উইনার খেলোয়াড় আছে। এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ, নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য আমরা কেন প্রস্তুত হব না? আমি মনে করি জয়ের চিন্তা করাই আমাদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।"

মুশফিকের আত্মবিশ্বাসের পিছনে আরো কারণ আছে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর প্রথম পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ জিতে শেষ পর্যন্ত সফরকারীদেরকে হোয়াইট ওয়াশ করেছে টাইগারা। একমাত্র টি-টোয়েন্টিতেও বজায় ছিল স্বাগতিকদের দাপট।

এবার সেই পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট লড়াই। আগামীকাল মঙ্গলবার খুলনার আবু নাসের স্টেডিয়ামে সকাল ১০টায় শুরু হবে তাদের লড়াই।

এই ম্যাচের আগে নিজেদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে মুশফিক বলেন, “সত্যি বলতে শেষ দুই বছর ধরে নিজেদের মাঠে এবং বাইরে খুব ভাল ক্রিকেট খেলছি। আরও একটি আত্মবিশ্বাসের জায়গা আছে। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে যতগুলো টেস্ট খেলেছি, এতোটা ভাল মানসিক অবস্থা নিয়ে মাঠে নামেনি বাংলাদেশ।”

মুশফিক আরও বলেছেন, ‘আমাদের অ্যাপ্রোচ অবশ্যই জয়ের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২টি টেস্ট ম্যাচই কিন্তু আমরা লাস্ট সেশনে গিয়ে জয় লাভ করেছি। টেস্ট ম্যাচ কখনো সহজ হয় না কারও জন্য। আমাদের বিশ্বাস আছে, আমাদের বোলিং আক্রমণ যেমন তাতে ২০ উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা আছে। ব্যাটসম্যানদেরও ৬০০ প্লাস রান করার মতো ক্ষমতা আছে। দলের ফিল্ডাররা প্রাপ্ত সুযোগগুলো যদি কাজে লাগাতে পারে রেজাল্ট আমাদের পক্ষে আসবে।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮ টেস্টের একটিতেও জয় পায়নি বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৪টি ম্যাচই বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে। ২০০৩ সালে মুলতান টেস্টে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ এসেছিল টেস্ট জেতার। কিন্তু শেষ অবধি জয় ধরা দেয়নি। মুলতান টেস্টের আক্ষেপ মুশফিকের মনে নাড়া দেয়। অবশ্য মুশফিক তখনও বিকেএসপির ছাত্র।

এ ব্যাপারে মুশফিকের জবাব, ‘খেলাটা দেখেছিলাম এবং খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম। আক্ষেপ অবশ্যই আছে। আক্ষেপ শুধু এটা নয়, টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের যে ক্ষমতা সেই অনুযায়ী আমরা শেষ ১৫ বছর ধরে টেস্ট খেলতে পারেনি।"

বোলিং বিভাগ খুব দুর্বল হয়ে গেল কিনা এ ব্যাপারে তিনি বলেছেন, ‘না, রুবেল খুব ভাল বোলিং করছে। রাজীব গত টেস্ট খেলছে। হয়তো সব ম্যাচে ভাল করেনি। তারপরও আমরা যতটুকু প্রত্যাশা করেছিলাম ততটুকু করেছে। শহীদ গত এক-দেড়বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট ভাল ক্রিকেট খেলেছে। বোলিং বিভাগ নিযে আমরা আশাবাদী।"

জেডআই