স্পোর্টস ডেস্ক: বর্তমান বিশ্বে জনপ্রিয় খেলাগুলোর মধ্যে একটি ক্রিকেট। এই খেলাটি কবে, কোথায় প্রথম শুরু হয়েছিল তা অনেকেই জানে। কিন্তু ক্রিকেটের বেশ কিছু ইতিহাস আছে যা আড়ালেই রয়েছে। এবার আমরা পাঠকদের জন্য সেই অজানা বিষয়গুলো তুলে ধরবো।
ক্রিকেট:-
ক্রিকেট (ইংরেজি: Cricket) হচ্ছে ব্যাট ও বলের একটি দলীয় খেলা যাতে এগারোজন খেলোয়াড়বিশিষ্ট দুইটি দল অংশ নেয়। এই খেলাটির উদ্ভব হয় ইংল্যান্ডে। পরবর্তীতে ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোসহ অন্যান্য দেশগুলোতে এই খেলা ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার লাভ করে চলছে।

ক্রিকেটের প্রথম ব্যাট
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ৫ দিনের টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচ খেলে থাকে। এছাড়া, আরো বেশ কিছু দেশ ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিসি'র সদস্য।
টেস্টখেলুড়ে দেশগুলি ছাড়াও আইসিসি অনুমোদিত আরো দু’টি দেশ অর্থাৎ মোট ১২টি দেশ একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটখেলায় অংশগ্রহণ করে থাকে। খেলোয়াড় হিসেবে যিনি ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ করেন বা খেলে থাকেন, তিনি ক্রিকেটার নামে পরিচিত।
ক্রিকেটের মাঠ:-
ক্রিকেট খেলা ঘাসযুক্ত মাঠে (সাধারণত ওভাল বা ডিম্বাকৃতির) খেলা হয়, যার মাঝে ২২ গজের ঘাসবিহীন অংশ থাকে, তাকে পিচ বলে। পিচের দুই প্রান্তে কাঠের তিনটি করে লম্বা লাঠি বা স্ট্যাম্প থাকে। ঐ তিনটি স্ট্যাম্পের উপরে বা মাথায় দুইটি ছোট কাঠের টুকরা বা বেইল থাকে। স্ট্যাম্প ও বেইল সহযোগে এই কাঠের কাঠামোকে উইকেট বলে।

প্র্রথম মাঠ
অংশ গ্রহনকারী:-
ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী দু’টি দলের একটি ব্যাটিং ও অপরটি ফিল্ডিং করে থাকে। ব্যাটিং দলের পক্ষ থেকে মাঠে থাকে দুইজন ব্যাটসম্যান। তবে কোন কারণে ব্যাটসম্যান দৌড়াতে অসমর্থ হলে ব্যাটিং দলের একজন অতিরিক্ত খেলোয়াড় মাঠে নামতে পারে।তা বর্তমানে বাতিল করা হয়েছে। তিনি রানারনামে পরিচিত।
ফিল্ডিং দলের এগারজন খেলোয়াড়ই মাঠে উপস্থিত থাকে। ফিল্ডিং দলের একজন খেলোয়াড় (বোলার) একটি হাতের মুঠো আকারের গোলাকার শক্ত চামড়ায় মোড়ানো কাঠের বা কর্কের বল বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়ের (ব্যাটসম্যান) উদ্দেশ্যে নিক্ষেপ করে। সাধারণত নিক্ষেপকৃত বল মাটিতে একবার পড়ে লাফিয়ে সুইং করে বা সোজাভাবে ব্যাটসম্যানের কাছে যায়।
ব্যাটসম্যান একটি কাঠের ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে ডেলিভারীকৃত বলের মোকাবেলা করে, যাকে বলে ব্যাটিং করা। যদি ব্যাটসম্যান না আউট হয় দুই ব্যাটসম্যান দুই উইকেটের মাঝে দৌড়িয়ে ব্যাটিং করার জন্য প্রান্ত বদল করে রান করতে পারে। বল নিক্ষেপকারী খেলোয়াড়বাদে অন্য দশজন খেলোয়াড় ফিল্ডার নামে পরিচিত। এদের মধ্যে দস্তানা বা গ্লাভস হাতে উইকেটের পিছনে যিনি অবস্থান করেন, তাকে বলা হয় উইকেটরক্ষক। যে দল বেশি রান করতে পারে সে দল জয়ী হয়।

প্রথম অংশগ্রহনকারী দুই দল।
১৭২৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ক্রিকেটের ইতিহাস:-
এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ক্রিকেট-বিষয়ক সবচেয়ে পুরনো তথ্যসূত্রটি ১৫৯৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং সেটি অনুসারে ১৫৫০ সালের দিকেও ক্রীড়াটি প্রচলিত ছিল বলে জানা যায়। কিন্তু ক্রিকেটের আসল উৎপত্তি কবে কোথায় হয়েছিল, তা এখনও এক রহস্য। তবে মোটামুটি দৃঢ়ভাবেই বলা যায় যে ১৫৫০ সালের আগেও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে ক্রিকেট খেলত।
যে দলগুলো খেলত :-
ক্রিকেট ইতিহাস হতে জানা যায় ,সে সময় ভিবিন্ন দলের মাঝে খেলা হত ।সেগুলো হল,
কেন্ট, সাসেক্স ও সারি কাউন্টিগুলিতে, বিশেষ করে Weald নামের অঞ্চলটিতে, ক্রিকেটের প্রচলন ছিল। ব্যাট-বল-ফিল্ডার দিয়ে খেলা হয়, এমন অন্যান্য ক্রীড়ার থেকে ক্রিকেটের একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য ছিল।
মাঠের ধরণ:-
এটি খেলার জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট দৈর্ঘ্যে ঘাসবিশিষ্ট মাঠের প্রয়োজন হত, কেন না, ১৭৬০-এর দশকের আগ পর্যন্তও ব্যাটসম্যানকে মাটিতে গড়িয়ে বল করা হত। একারণে যেসমস্ত জায়গায় বনাঞ্চল সাফ করা হয়েছিল, কিংবা ভেড়া চরানো হত, সেই সমস্ত জায়গাই ক্রিকেট খেলার জন্য উপযোগী ছিল।
প্রথম যাদের খেলা ছিল:-
ক্রিকেটের শুরুর দিকের বছরগুলির উপর তথ্য দেখে বোঝা যায়, এটি আসলে সম্ভবত ছোট বাচ্চাদের খেলা ছিল। ১৭শ শতকে এসে শ্রমিকেরা এটি খেলা শুরু করে। রাজা ১ম চার্লসের সময় অভিজাত শ্রেণী খেলাটির প্রতি আকৃষ্ট হতে শুরু করে।
ক্রিকেটে জুয়া:-
ক্রিকেট খেলার চেয়ে ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে জুয়া খেলার সুযোগই তাদের বেশি আকৃষ্ট করেছিল। ক্রমে ক্রিকেটে প্রচুর বিনিয়োগ হওয়া শুরু হয় এবং লন্ডন ও দক্ষিণ ইংল্যান্ডে এটি একটি জনপ্রিয় বিনোদনে পরিণত হয়। এসময় বড় বড় ক্লাব ও পেশাদার ক্রিকেট খেলোয়াড়ের আবির্ভাব ঘটে।
ক্রিকেটের ইতিহাস ১৭২৬ - ১৭৬৩:-
১৭২৭ সালে ক্রিকেট লন্ডন ও দক্ষিণ ইংল্যান্ডের একটি প্রধান ক্রীড়া ছিল। ঐ শতাব্দীতে বাজিকরদের আগ্রহের কারণে ক্রীড়াটিতে প্রচুর অর্থলগ্নি করা হয়। ধনী ব্যক্তিদের অনুদানে ও বিনিয়োগে কাউন্টি দল, পেশাদার খেলোয়াড় এবং প্রথম বড় ক্লাবগুলির আবির্ভাব ঘটে।
১৭২৬ সালে লন্ডন ও ডার্টফোর্ড ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাব। কেন্ট, মিডলসেক্স, সারি ও সাসেক্সের কাউন্টি দলগুলি ছিল প্রথম সারির ক্রিকেট দল। আর্টিলারি গ্রাউন্ড, ডার্টফোর্ড ব্রেন্ট, কেনিংটন কমন, মুলজি হার্স্ট এবং রিচমন্ড গ্রিন ছিল তখনকার দিনের সুপরিচিত ক্রিকেট মাঠ।
১৮৮৪ থেকে ১৮৮৯ সাল পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাস:-
অস্ট্রেলীয়দের উপর ইংরেজদের আধিপত্যের ইতিহাস। এই সময়ে খেলা সবগুলি টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ড জয়লাভ করে। এই পর্বেই মুদ্রণ গণমাধ্যমে ১৮৮৫ সালে ক্রিকেটের দীর্ঘ সংস্করণকে নির্দেশ করতে প্রথমবারের মত "টেস্ট ক্রিকেট" পরিভাষাটি ব্যবহার করা হয়। তখন থেকে আজ পর্যন্ত এই নামটি বহাল আছে।
১৮৮৪ থেকে ১৮৮৯ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া ১৯টি টেস্ট খেলেছিল। এর মধ্যে ইংল্যান্ড ১৪টি টেস্ট জেতে, অস্ট্রেলিয়া জেতে ৩টি, আর দুইটি টেস্ট অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়।
১৮৮৯ সালে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট দল প্রথম বারের মত দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যায়। সেখানে অনুষ্ঠিত দুইটি টেস্টেই তারা জয়লাভ করে।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাস:-
১৮৭৭ সালে এসে টেস্ট ক্রিকেটের জন্ম হয়। ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম টেস্ট ম্যাচে অংশগ্রহণ করে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।১৮৭৭ সালের ১৫ ই মার্চ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ওয়ানডে ম্যাচেও অংশ গ্রহণ করে এই দুটি দল। দুই ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়া জয় লাভ করে।
বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা হিসেবে ‘ইম্পেরিয়াল ক্রিকেট কনফারেন্স’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৯ সালে।পরে ১৯৫৬ সালে ‘ইম্পেরিয়াল’কথাটি পরিবর্তন করে ‘ইন্টারন্যাশনাল’ শব্দটি যোগ করে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল’রাখা হয়। সংক্ষেপে আইসিসি। ১৮৮২-৮৩ সাল থেকে শুরু হয় মর্যাদাপূর্ণ অ্যাশেজ লড়াই।
এরপর থেকে অন্যান্য দেশ টেস্ট ক্রিকেটে একে একে পদার্পণ করে। দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮৮৮-৮৯,ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯২৮,নিউজিল্যান্ড ১৯২৯-৩০,ভারত ১৯৩২,পাকিস্তান ১৯৫২-৫৩,শ্রীলঙ্কা ১৯৮১-৮২,জিম্বাবুয়ে ১৯৯২ এবং বাংলাদেশ ১৩ নভেম্বর, ২০০০।
মো: নাছের মাহমুদ





