ওয়ানডেতে বাংলা ওয়াশের পর এবার টি টোয়েন্টিতেও ধরাশায়ী বুম বুম আফ্রিদীর বাহিনী। টাইগার ঝড়ে রীতিমতো লন্ডভন্ড পাক বাহিনী। ওয়ানডে সিরিজে চরমভাবে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর অভিজ্ঞ আফ্রিদীকে দিয়ে টি টুয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টাও হালে পানি পায়নি টাইগারদের ভয়ানক থাবায়।
 
প্রথমবারের মতো টি টুয়েন্টিতে পাকিস্তানকে হারিয়ে  বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন ক্রিকেট ভক্ত দেশের লাখো কোটি মানুষ।
 
টাইগারদের এই দুর্দান্ত পারফরমেন্সকে কিভাবে দেখবে ভারত। বাংলাদেশে আসন্ন সফর ভারতীয় ক্রিকেট টিম করবে তো? নাকি নানা অজুহাতে টাইগারদের গুহায় আসতে ভয় পাবে এই সাবেক বিশ্বকাপ জয়ী দল? এমন বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন টাইগার ভক্তরা তাদের ফেসবুক পেইজে।

টাইমনিউজবিডির পক্ষ থেকে টাইগারদের অভিনন্দন এবং একইসাথে জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া ক্রিকেটপ্রেমিদের কিছু মন্তব্য পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:
 
প্রভাষ আমীন: এমন সেলিব্রেশন শুধু বাংলাদেশকেই মানায়। আমার ভয় হচ্ছে ভারত না ছুতোনাকায় সরিজি ক্যান্সেল করে। বাঘের গুহায় কে আসতে চায়?

মাসুম মাহবুব: ভালোবাসার বাংলাদেশের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইলো। এই বাংলাদেশ আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ। এগিয়ে যাও টাইগাররা। ১৬ কোটি মানুষ আছে তোমাদের সাথে। প্রধানমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ মাঠে গিয়ে খেলেয়ারদের উজ্জীবিত করার জন্য।

ওবায়দুল্লাহ তারেক: কাছ থেকে টাইগারদের র্গজন শুনার মজাই আলাদা!

আহমেদ আইমান আন্দালিব: গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাকিস্তান দলকে হারালাম, এরপরও সার্মথ্য নিয়ে কোন প্রশ্ন??? এ এক বদলে যাওয়া বাংলাদশে! ভাবতেছি হিন্দিয়া না এবার তাদের বাংলাদেশ ট্যুরটাই বাতিল করে ভয়ে!

আরেকবার ক্যাপ্টেন ম্যাশরে অসাধারণ ক্যাপ্টেন্সি... বাংলার ম্যাক্সওয়েল সাব্বিরের ধামাকা আর সাকিবের অলরাউন্ড র্পাফরমেন্স!

মো: ইসা খান রাশেদ: বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এবারের বিশ্বকাপ টিম হচ্ছে "বেস্ট টমি" আগেই বলেছি। মূল কথা হচ্ছে এই কন্টিনিটি যদি ছেলেরা ধরে রাখতে পারে নেক্সট বিশ্বকাপ আমাদের ঘরে, এইটা লিখে দিতে পারি।

এবারের টিমে সবগুলো ছেলের বয়স প্রায় কাছাকাছি। তারপর মাশরাফির মত ক্যাপ্টেন মুশফিক, সাকিব, তামিমের মত সিনিয়র এবং হেল্পফুল টিম মেট যেখানে আছে সেখানে নতুন ছেলেদের তো পোয়া বারো অবস্থা। এর ফলে ছেলেরা খুব সহজেই একে অপরের সাথে নিজিদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারবে যা র্পূবর্বতি বাংলাদশে ক্রিকেট টিমের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

তালুকদার মোহাম্মদ রাকিব: টাইগাররা জিতলে যেমনিভাবে পুরো বাংলাদেশ এক হয়ে আনন্দ উদযাপন করে, তেমনিভাবে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় কী এমন একতাবদ্ধ বাংলাদেশ পাওয়া যাব?
 
বুলবুল আকন্দ: পাকিস্তানের উচিৎ নিজেদের সমকক্ষ দল যেমন- ভুটান, মালদ্বীপ এদের সাথে বেশি বেশি ম্যাচ খেলে হাত পাকিয়ে পরে বাংলাদশেের মতো বড় দলগুলোর সাথে খেলতে আসা।

শাহাদাতুল ইসলাম: সোসাল মডিয়িায় সবাই পাকিস্তানকে কেনিয়া বা আফগানিস্তানের সাথে খেলার কথা বলছে। কেনরে ভাই? পাকিস্তান তো তাদের আসল খেলাটাই খেলেছে এমন তো নয়। খারাপ খেলার কারনে হেরেছে॥ আমাদের বলা উচিত বিশ্বের যে কোন দলকে আমরা বাংলাওয়াশ করতে সক্ষম। যদি নিরপেক্ষ আম্পায়ারিং হয়। ইনশাআল্লাহ

সাইফুল ইসলাম শামীম: এমন একটা পরিণত বাংলাদেশ দেখার স্বপ্ন দেখতাম; আর বিশ্বাস করতাম একদিন এটা হবে। তবে এতো তাড়াতাড়ি হবে সেটা ভাবি নাই। আল্লাহর কাছে অনেক অনেক শুকরিয়া যে এটা দেখতে পেলাম। সবাই যখন কেন ফালতু খেলা দেখি বলে কটুক্তি করতো সেটার জবাব দেবার ভাষা ছিলনা। আজ অনেক কথাই মনে পড়ে ... বাংলাদেশের মানুষেরাই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রেখেছে; আর এগিয়ে নিচ্ছে। যতদিন মানুষের ভালোবাসায় মোড়ানো থাকবে এই খেলাটি ততদিন ক্রিকেট অনেক কিছুই দেবে দেশকে।

খোমেনী ইহসান: বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অনেকেইে গ্রাম থেকে এসেছেন, ভাবতে অবাক লাগে এরপরও এদের বিবেকে কাজ করলো না, রানাপ্লাজার গণহত্যার দিন ওরা ক্রিকেট খেলবে! ক্রিকেটার হওয়া সহজ, কিন্তু মানুষ হওয়া কঠিন, সংবদেনশীল মানুষ হওয়া আরো কঠিন।

মঞ্জুরুল আলম পান্না: আজকের খেলার বিজয়টা গার্মেন্টস শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করলে খানিকটা হলেও ওই মেহনতি মানুষগুলোর প্রতি একটু ভিন্ন মাত্রায় সম্মান জানানো যতেো। কারন, আজ ২৪শে এপ্রিল। ভয়াল রানা প্লাজা ট্রাজেডীর দুই বছর। প্রিয় বাংলাদেশের বিজয়ে সবার চোখে-মুখে যেমন ভালোবাসার হাসি, একই সময়ে তখন প্রিয় মানুষ হারানোর কষ্টে, হাজারো চোখে হৃদয় ভাঙা বেদনার জল...!!!
   
কেবি