রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করলেই মনে হতে পারে কোনো স্পোর্টস যাদুঘরে এসে পড়েছেন আপনি। দেয়ালটা মাঠের ঘাসের মতো সবুজ টার্ফে তৈরি। একপাশে ব্যাটিংয়ের চিত্রকর্ম, অন্যপাশে সাকিব আল হাসানের কলকাতা নাইট নাইডার্স ও বাংলাদেশ দলের দুটি জার্সি।

দ্বিতীয় তলায় আরও একটি রুম রয়েছে। ওই রুমে দেয়ালে টানানো ১০টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের জাতীয় পতাকা। এছাড়া, ব্যাট, গ্লাভস, হ্যালমেটও শোভা পাচ্ছে দেয়ালে। সরাসরি খেলা দেখার জন্য থাকছে দুটি প্রজেক্টর এবং টিভি।

আসলে, এতক্ষন কোন যাদুঘরের বর্ণনা দেয়া হয়নি। বলা হয়েছে সাকিব আল হাসানের রেষ্টুরেন্ট সাকিব’স ডাইন-এর কথা। একেবারেই ঘরোয়া পরিবেশে রেষ্টুরেন্টের সব সুযোগ সুবিধা ও খেলা দেখার সুযোগ। রেস্টুরেন্টের তৃতীয় তলাটা সাজানো হয়েছে সাকিবের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশিরের পরিকল্পনায়।

বনানীর ১১ নম্বর রোডে, ৪৮ নম্বর প্লটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ফ্লোরে সাকিব আল হাসানের এই রেষ্টুরেন্টটির শনিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল। যদিও রেষ্টুরেন্টটা চালু হয়েছে প্রায় তিনমাস হয়ে গেছে। তবে শনিবার সাংবাদিকদের ডেকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের ঘোষণা দিলেন। বিসিবির কয়েকজন পরিচালক, ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং সাবেক বেশ কিছু ক্রিকটোরও উপস্থিত ছিলেন সেখানে।

একই দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষনা এল আরও একটি। আগামী নভেম্বরে বাবা হতে যাচ্ছেন সাকিব। একই সঙ্গে শিশির জানিয়ে দিলেন, ক্রিকেটের মতো ব্যবসাতেও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

শনিবার রাতে রেষ্টুরেন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে গিয়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বলেন, ‘আপনারাতো জানেন অনেকদিন ধরে এটা (রেস্টুরেন্ট) চলতেছে। এতোদিন ঘোষণা দিয়ে ওপেন করিনি, কারণ ব্যবসায় আমি এবারই প্রথম। বুঝে ওঠার একটু সময় লেগেছে। আগে বোঝা, অভিজ্ঞতা অর্জন করা এবং যদি ভুল হয় সেটা দেখা। এসবের জন্যই সময় লেগেছে। এটাই হয়তো আমার জন্য সঠিক সময়, তাই ওপেন করার ঘোষণা দিচ্ছি। আপনাদের সবার কাছে ব্যবসায়ও যেন সফল হই, তার জন্য দোয়া চাইবো।’

নিজের রেস্টুরেস্টের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘খাবার মাশাল্লাহ ভালো হবে। আমি খেয়ে দেখেছি (হাসি)। এখানে যারা আসবে তারা সন্তুষ্ট হবেন, বাকিটা তো আপনাদের উপর।’

এশিয়ার সবচেয়ে বড় শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কে সাকিবের আরও একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কসমেটিকসের ওই শো রুমের নাম কসমিক জাভিয়ান। সেখান থেকে লাভের একটি অংশ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যানে দান করা হয়। সাকিবের পরিকল্পনা রয়েছে বণানীর এই রেষ্টুরেন্টেরও লাভের একটি অংশও দান করা হবে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যমুনা ফিউচার পার্কে কসমিক জাভিয়ানোর লাভের একটি অংশ বিভিন্ন জায়গায় যায়। এখান (রেষ্টুরেন্ট) থেকে আমার একটা ইচ্ছা আছে সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন করার। লাভের একটি অংশ সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য ব্যায় করার ইচ্ছা থেকেই এটি করা। এছাড়া এই ধরণের মানুষদের মাসে একবার সকালের নাস্তা কিংবা দুপুরের খাওয়ানোর ইচ্ছা রয়েছে। অনেকের ইচ্ছা থাকলেও কিছু আয়োজন করার সামর্থ্য নেই; কিন্তু আমার এখানে তাদের জন্য আয়োজনের করার ব্যবস্থা করবো।’

রেস্টুরেন্ট সাজানোর কাজটা কে করেছে? শিশির বলেন, ‘আমি তো দেশের বাইরে ছিলাম। এরপর দেশে এসে একটু সাহায্য করেছি শুধু, তেমন কিছু করা হয়নি আসলে।’ সাকিব কথা কেড়ে নিয়ে বলেন, ‘উপরের তলা বলতে গেলে সবই ওর (শিশির) পরিকল্পনায় করা। অন্যজনে কাজ করেছে; কিন্তু মুল পরিকল্পনাটা ওরই ছিল।’ এবার শিশির বললেন, ‘ব্যবসায়ী হিসেবে খুব ভালো অলরাউন্ডার।’

ইআর