এ মাসের শুরুতে ঘোষণা করা হয়েছিল আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে ও টেস্ট দল। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে জায়গা করে নেয়া মুস্তাফিজুর রহমান হয়তো আরও বড় কোনো সুখবরের অপেক্ষায় ছিলেন। বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার ছিলেন বাংলাদেশের এই পেস বিস্ময়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি উঠল অস্ট্রেলিয়ার তরুণ পেসার জশ হ্যাজলউডের হাতে। মুস্তাফিজের জন্য সান্ত্বনা একটাই, উপমহাদেশের চার টেস্ট খেলুড়ে দেশের কেউই এ বছর ব্যক্তিগত বিভাগে কোনো পুরস্কার জিততে পারেননি! বুধবার বিভিন্ন বিভাগে ২০১৫ সালের সেরাদের নাম ঘোষণা করেছে আইসিসি।
সবচেয়ে বড় পুরস্কার উঠেছে স্টিভেন স্মিথের হাতে। এ বছর আইসিসির বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার স্যার গ্যারি সোবার্স ট্রফি জিতে নিয়েছেন আস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। পাশাপাশি বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার হয়েছেন স্মিথ।
ওয়ানডেতে টানা দ্বিতীয় ও সবমিলিয়ে তৃতীয়বারের মতো বর্ষসেরার পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। বর্ষসেরা টি ২০ পারফরম্যান্সের পুরস্কার উঠেছে আরেক প্রোটিয়ার হাতে। বছরের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৬ বলে ১১৯ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংসটির জন্য এই পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার টি ২০ অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি।
আগের দু’বছর আইসিসির বর্ষসেরার স্বীকৃতি পেয়েছিলেন মিচেল জনসন ও মাইকেল ক্লার্ক। তারা অবসর নিলেও স্মিথের সৌজন্যে স্যার গ্যারি সোবার্স ট্রফিটা অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে গেল। চতুর্থ অস্ট্রেলিয়ান ও সবমিলিয়ে ১১তম ক্রিকেটার হিসেবে বর্সসেরার মুকুট উঠল ২৬ বছর বয়সী স্মিথের মাথায়।
একই বছরে বর্ষসেরা ও টেস্টসেরার ‘ডাবল’ জেতা সপ্তম খেলোয়াড় তিনি। স্মিথের আগে এই কীর্তি ছিল রাহুল দ্রাবিড় (২০০৪), জ্যাক ক্যালিস (২০০৫), রিকি পন্টিং (২০০৬), কুমার সাঙ্গাকারা (২০১২), মাইকেল ক্লার্ক (২০১৩) ও মিচেল জনসনের (২০১৪)।
২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমার পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত বিভাগের পুরস্কারগুলো দেয়া হয়েছে। এ সময়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান স্মিথের। ১৩ টেস্টে ২৫ ইনিংসে ৮২.৫৭ গড়ে তার রান ১৭৩৪। সেঞ্চুরি সাতটি। এছাড়া ২৬ ওয়ানডেতে ৫৯.৪৭ গড়ে করেছেন ১২৪৯ রান।
ঝলমলে পারফরম্যান্সের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পেয়ে একইসঙ্গে গর্বিত ও রোমাঞ্চিত স্মিথ। তবে এর মধ্যেও অ্যাশেজ হারের দুঃখটা ভুলতে পারছেন না অসি অধিনায়ক, ‘বছর শেষে পেছন ফিরে তাকালে অনুভূতিটা মিশ্র। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জেতা ও অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া নিঃসন্দেহে বিশাল অর্জন, কিন্তু অ্যাশেজ হারের দুঃখ সহজে ভোলার নয়।’
ডি ভিলিয়ার্সের অনুভূতিটাও মিশ্র। নিজে ফর্মের তুঙ্গে থাকলেও ভারত সফরটা দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছে দক্ষিণ আফ্রিকার। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ওয়ানডেতে মাত্র ২০ ইনিংসে ৭৯.০৬ গড়ে ১২৬৫ রান করেছেন ডি ভিলিয়ার্স। স্ট্রাইক রেট ১২৮.৪! আরেক মারকুটে ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন ম্যাককালাম পুরস্কৃত হয়েছেন তার ক্রিকেটীয় চেতনার জন্য। আইসিসি স্পিরিট অব ক্রিকেট পুরস্কারটি পেয়েছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। মেয়েদের ক্রিকেটে এ বছর বর্ষসেরা হয়েছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মেগ ল্যানিং। আর বর্ষসেরা প্রমীলা টি ২০ ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন
ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্টেফানি টেলর। আইসিসির
সহযোগী দেশগুলোর সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের খুররম খান। এছাড়া টানা তৃতীয়বারের মতো বর্ষসেরা আম্পায়ার হয়েছেন রিচার্ড কেটেলবরো। আইসিসি/ক্রিকইনফো।
এক নজরে যত পুরস্কার
আইসিসি বর্ষসেরা ক্রিকেটার (স্যার গ্যারি সোবার্স ট্রফি) : স্টিভেন স্মিথ (অস্ট্রেলিয়া)
বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার : স্টিভেন স্মিথ (অস্ট্রেলিয়া)
বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার : এবি ডি ভিলিয়ার্স (দক্ষিণ আফ্রিকা)
বর্ষসেরা টি ২০ পারফরম্যান্স : ফাফ ডু প্লেসি (দক্ষিণ আফ্রিকা)
বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার : জশ হ্যাজলউড (অস্ট্রেলিয়া)
সহযোগী দেশগুলোর সেরা ক্রিকেটার : খুররম খান (আরব আমিরাত)
স্পিরিট অব ক্রিকেট অ্যাওয়ার্ড : ব্রেন্ডন ম্যাককালাম (নিউজিল্যান্ড)
মেয়েদের বর্ষসেরা ক্রিকেটার : মেগ ল্যানিং (অস্ট্রেলিয়া)
বর্ষসেরা প্রমীলা টি ২০ ক্রিকেটার : স্টেফানি টেলর (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
বর্ষসেরা আম্পায়ার : রিচার্ড কেটেলবরো
এআই





