স্পেনের ওভিয়েদো শহরে দুই দিনব্যাপী বৈঠক শেষে বিশ্বের ১২টি দেশের ২৭ জন মনোনীত প্রার্থীর মধ্য থেকে বিচারক প্যানেল সর্বসম্মতিক্রমে মেসিকে এ বছরের ক্রীড়া পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করে।

পুরস্কার ঘোষণার সময় বিচারক কমিটির সভাপতি ও খ্যাতিমান প্যারালিম্পিক সাঁতারু তেরেসা প্যারালেস বলেন, মাঠে অসাধারণ ফুটবল প্রতিভা, ২৩ বছরের বর্ণাঢ্য ক্রীড়া জীবন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘদিনের মানবিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মেসিকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

বিচারকরা উল্লেখ করেন, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে মেসির অর্জন প্রশ্নাতীত। দীর্ঘ পেশাদার ক্যারিয়ারে তিনি দলগতভাবে রেকর্ড ৪৭টি শিরোপা জিতেছেন।

স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে তিনি ১০টি লা লিগা, ৭টি কোপা দেল রে, ৮টি স্প্যানিশ সুপার কাপ এবং ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন। পরে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনের হয়ে দুটি লিগ ওয়ান ও একটি ফরাসি সুপার কাপ জয়ের কৃতিত্ব দেখান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন তিনি।

জাতীয় দলের জার্সিতেও মেসির সাফল্য অসাধারণ। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি জিতেছেন বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা, একটি ফিনালিসিমা, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকের স্বর্ণপদক।

ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও তিনি অনন্য। তার ঝুলিতে রয়েছে রেকর্ড আটটি ব্যালন ডি’অর, ছয়টি ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট এবং তিনটি ফিফা ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কার। এছাড়া বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে দুবার আসরের সেরা খেলোয়াড়ের ‘গোল্ডেন বল’ জয়ের কীর্তিও গড়েছেন তিনি।

ফুটবলের বাইরে মানবিক কর্মকাণ্ডেও সমানভাবে প্রশংসিত মেসি। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘লিও মেসি ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। বিচারকদের মতে, তার এই মানবিক অবদানও পুরস্কারটি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কারের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো ফুটবলার এককভাবে এই সম্মাননা অর্জন করলেন। এর আগে দলগতভাবে এই পুরস্কার পেয়েছিল ব্রাজিল ও স্পেন জাতীয় ফুটবল দল। আর ২০১২ সালে যৌথভাবে সম্মাননা পেয়েছিলেন ইকার ক্যাসিয়াস ও জাভি হার্নান্দেজ।

পুরস্কারের অংশ হিসেবে মেসি পাবেন ৫০ হাজার ইউরো, একটি স্মারক পদক, সনদপত্র এবং স্পেনের বিখ্যাত শিল্পী হোয়ান মিরোর তৈরি ভাস্কর্যের একটি প্রতিরূপ।

গত বছর এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতেছিলেন টেনিস কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামস। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির নাম।

এস