চলতি বছর ক্রিকেট থেকে কি পেয়েছে বাংলাদেশ? এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলেও, লজ্জায় মুখ লুকাবেন যে কেউ। তবে এ বছর নিজেদের শেষ সিরিজে আনন্দের খোড়াক জোগানোর বড়সড় উপলক্ষ পেয়ে গেছে টাইগাররা। উপলক্ষ্যেও প্রথম ধাপ টেস্ট সিরিজ। র‌্যাংকিং-এ নয় নম্বরে থাকা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে প্রথম ম্যাচে শনিবার মাঠে নামছে র‌্যাংকিং-এ দশ নম্বরে থাকা মুশফিক বাহিনী। তাই জিম্বাবুয়েকে দিয়েই আবারো জয়ের ধারায় ফিরতে চায় বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য নিয়ে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে নয়টা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ দিনের লড়াইয়ে নামবে স্বাগতিকরা।

চলতি বছর বাংলাদেশের পারফরমেন্সের উত্তরটা দিতে গেলে লজ্জায় মুখ লুকাতে হবে যে-কাউকেই। কিভাবে? এমন উত্তরটা পরিসংখ্যান ঘাটলেই স্পষ্ট। টেস্ট ফরম্যাটে ২০১৪ সালে ৪টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। হেরেছে তিনটিতে এবং ড্র করেছে ১টিতে। আর রঙ্গীন পোশাকে ম্যাচ খেলেছে ১৩টি। হারের ঢেঁকুর তুলেছে ১২টি-তে। একটি ম্যাচ হয়েছে পরিত্যক্ত। ধুমধারাক্কার টুয়েন্টি-টুয়েন্টিতেও, অসহায় ছিল টাইগাররা। ১০টি ম্যাচে অংশ নিয়ে হেরেছে ৮টি-তে, জিতেছে ২টি-তে। জয় দুটি এসেছে পুচকে আফগানিস্তান ও নেপালের বিপক্ষে। তবে এই জয় কতটা আত্মবিশ্বাসী ছিল মুশফিকদের জন্য, তার প্রমান মিলে নিজেদের পরের ম্যাচেই। হংকং-এর মত দলের কাছেও হারের মালা বরণ করে নেয় বাংলাদেশ।

তাই বছরের সব দুঃস্মৃতিকে সঙ্গী করেই জয়ের ধারায় আবারো ফিরতে চায় বাংলাদেশ। জয়ের ধারার শুরুটা জিম্বাবুয়েকে দিয়েই করতে চায় টাইগাররা। বাংলাদেশের টেস্ট দলপতি মুশফিকুর রহিমের কন্ঠে তেমনই সুর, ‘এ বছর জয়ের অনেক সুযোগই আমরা পেয়েছি। কিন্তু ভাগ্য সাথে না থাকায়, জয়কে সঙ্গী করা সম্ভব হয়নি। তবে এ্ সিরিজে ভালোই কিছু করতে চাই। আবারো জয়ের ধারায় ফিরতে চাই। এজন্য অনুশীলনে অনেক পরিশ্রম করেছি। এখন ম্যাচে পরিকল্পনা মাফিক সব কিছু করাই প্রধান লক্ষ্য আমাদের।’

দেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রধান অস্ত্র স্পিন বিভাগ। সেখানে অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসানের সাথে আছেন দুই তরুন তাইজুল ইসলাম ও জুবায়ের হোসেন। নিষেজ্ঞা কাটিয়ে তিন মাস পর আবারো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছেন সাকিব। তাই সাকিব-তাইজুল-জুবায়েরের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন মুশফিকুর, ‘আমাদের স্পিনাররা খুবই ভালো মানের। তাই আমাদের স্পিনাদের নিয়েই বেশি ভাবছে জিম্বাবুয়ে। এই সুযোগটাকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে চাই আমরা।’

এদিকে দীর্ঘ নয় বছর পর আবারো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে নামছে জিম্বাবুয়ে। আর ২০০১-০২ মৌসুমের পর এই প্রথম তিন ম্যাচের সিরিজ খেলতে নামবে ব্রেন্ডন টেইলরের দল। তবে এত্তসব হিসাবের তোয়াক্কা করছে না তারা। তাদের চিন্তা জুড়ে ভর করেছে বাংলাদেশের স্পিন। তাই এ সিরিজকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে তারা। সফরকারী অধিনায়ক টেইলরের মুখে ঝড়ল তেমন কথাই, ‘এই সিরিজটি আমাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জের। নিজেদের মাটিতে কঠিন প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। বিশেষভাবে স্পিন বিভাগে। স্বাগতিকদের বিপক্ষে সেরাটাই ঢেলে দিতে হবে। খুবই উত্তেজনাকর টেস্ট সিরিজ হবে।’ টেস্ট সিরিজ শেষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশ দল : মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, শামসুর রহমান, মমিনুল হক, রুবেল হোসেন, শুভাগত হোম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, শফিউল ইসলাম, জুবায়ের হোসেন, শাহাদাত হোসেন, মার্শাল আইয়ুব, আল-আমিন হোসেন ও তাইজুল ইসলাম।

জিম্বাবুয়ে দল: ব্রেন্ডান টেইলর(অধিনায়ক), সিকান্দার রাজা বাট, রেজিস চাকাবা, ব্রায়ান চ্যারি, টেন্ডাই চাতারা, এলটন চিগুমবুরা, ক্রেইগ আরভিন, তাফাদজা কামুঙ্গোজি, হ্যামিলটন মাসাকাদজা, শিঙ্গিবগরাই মাসাকাদজা, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, নাতসাই এমসাঙ্গবে, রিচমন্ড মুতুমবামি, জন নিউম্বু, তিনাসে পেনিয়াঙ্গারা,ভুসিমুজি সিবান্দা, ম্যালকম ওয়ালার।

জেডআই