পেস বোলার তৈরিতে বিশ্বে অদ্বিতীয় পাকিস্তান। শুরু থেকেই দেশটি ক্রিকেট বিশ্বকে দিয়েছে অমূল্য সব বোলিং প্রতিভা। ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম থেকে হালের মোহম্মদ আমির- পাকিস্তান ক্রিকেটের একেকটি রত্ম যেন।

কিন্তু এবার পাকিস্তান খুঁজে পেয়েছে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক বোলিং প্রতিভা। ইয়াসির জান নামের এই যুবক দুই হাতেই দারুণ পেস বোলিং করতে পারেন। এমনকি তার গতিও যেন তেন নয়- ডান হাতে গড়ে ১৪৫ ও বাম হাতে ১৩৫ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন ইয়াসির জান।

সম্প্রতি পাকিস্তান সুপার লিগের দল লাহোর কালান্দার্সের এক প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচিতে আবিষ্কৃত হয়েছে এই প্রতিভাবান তরুণ। কর্মসূচির সাথে যুক্ত পাকিস্তানের সাবেক পেসার আকিব জাভেদ খুজে বের করেছেন ২১ বছর বয়সী এই সব্যসাচী বোলারকে। রত্ম চিনতে হয়তো ভুল করেননি আকিব, তাই ইয়াসির জানের সাথে এখনই ১০ বছর মেয়াদি একটি ‘ডেভলপমেন্ট চুক্তি’ সই করেছে লাহোর কালান্দার্স। এই সময়ে তাকে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দিবে দলটি। এর আগে ২০০৮ সালে প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করা এক যুবককে খুঁজে পেয়েছিলেন আকিব, দুই বছর পর যে পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঠে নামে। ৭ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার পেসারটির নাম মোহাম্মদ ইরফান।

পাকিস্তানের পেশোয়ার থেকে ২৯ কিলোমিটার দূরের চারসাদ্দা শহরে জন্ম ইয়াসির জানের। তবে ১২ বছর বয়সে পরিবারের সাথে ইসলামাবাদে চলে আসনে তিনি। সেখানে বড় ভাইদের সাথে সবজির দোকান চালাতেন এই তরুণ। কাজের অবসরে টুকটাক ক্রিকেট খেলতেন। লাহোর কালান্দার্সের প্রতিভা অন্বেষণের খবর পেয়ে বড় ভাইয়ের উৎসাহে তাতে নাম লেখান ইয়াসির। আর তারপরই নজরে পড়েন আকিব জাভেদের।

লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনের ইয়াসিরকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সময় আকিব বলেন, ‘সে প্রথম ডান হাতে বোলিং করলো। এরপর আমার এরপর আমার কাছে এসে বলে, আমি বাম হাতেও সমানভাবে বোলিং করতে পারি। এটা ছিল আশ্চর্য হওয়ার মত, কারণ আগে আমি এমন কাউকে দেখিনি। সত্যিই সে অসাধারণ’।

আকিব জাভেদ বলেন, সে এখনো আনাড়ি। তাকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের উপযুক্ত করতে এক বছরের মত সময় লাগবে।
নিজের ভবিষ্যত নিয়ে খুবই আশাবাদী তরুণ ইয়াসির। তার বিশ্বাস আকিব জাভেদের সহচার্য পেলে সে নিজেকে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রস্তুত করতে পারবে। ২০০৯ সালে মোহাম্মদ আমিরের বোলিং দেখে ক্রিকেটে আগ্রহী হওয়া এই তরুণ অনুসরণ করেন ডেল স্টেইন ও শোয়েব আখতারকে। ক্রিকইনফো

এসএ