দিন যত যাচ্ছে, ব্রাজিল বিশ্বকাপ তত কাছে চলে আসছে। আগামী জুন মাসের ১২ তারিখে থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ। এজন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা জড়ো হচ্ছেন ব্রাজিলে। খেলা দেখা ছাড়াও সেখানে ভ্রমণ করা হবে তাদের অন্যতম লক্ষ্য। এজন্য বিশ্বকাপের ভেন্যু ও শহরগুলোর গুরুত্বও বেড়ে যায়। বিশ্বকাপের জন্য তৈরি স্টেডিয়ামগুলো পরে কি কাজে ব্যবহার করা হয় তা নিয়েও আগ্রহ কম থাকে না। এই স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে কোনোটি কারাগার, কোনোটি আবার বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এমন মজার তথ্যসহ স্টেডিয়ামগুলোর পরিচিতি তুলে ধরা হলো।
২০১৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে ব্রাজিলে-এটা অনেক আগেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ভেন্যুগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত হয় আরো পরে। বিশ্বকাপের ভেন্যুর জন্য ফিফার কাছে ১৮টি শহরের নাম প্রস্তাব করেছিল আয়োজক দেশ ব্রাজিল। প্রস্তাবিত এই শহরগুলো ছিল বেলো হরিজোন্টে, ব্রাসিলিয়া, কুইবা, ক্রুইটিবা, ফোর্টালেজা, ম্যানাউস, নাটাল, পোর্টো অ্যালিগ্রে, রিসিফ, রিও ডি জেনেরিও, সালভাদর, সাও পাওলো, বেলেম, ক্যাম্পো গ্রান্ডে, ফ্লোরিয়ানোপোলিস, গুইয়ানিয়া, রিও ব্রানকো ও ম্যাসিও।
কিন্তু ফিফা শর্ত দেয় যে একটি শহরে দুটির বেশি স্টেডিয়াম তৈরি করা যাবে না। একই সঙ্গে শহরও নির্ধারণ করে দেয় ৮ থেকে ১০টির মধ্যে। পরে ১২টি শহরে ১২টি স্টেডিয়াম তৈরির প্রস্তাব দেয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। অবশেষে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে এই প্রস্তাব গ্রহণ করে ফিফা।
২০০৯ সালের ৩১ মে স্বাগতিক শহরগুলোর নাম ঠিক করা হয়। এতে বেলেম, ক্যাম্পো গ্রান্ডে, ফ্লোরিয়ানোপোলিস, গুইয়ানিয়া এবং রিও ব্রানকো বাদ দেয়া হয়। এর আগেই ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ম্যাসিওকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত বাকি ১২টি শহর বিশ্বকাপের ভেন্যুর জন্য নির্ধারণ করা হয়।
এই স্টেডিয়ামগুলো তৈরি করতে ৩.৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি শহরে শুধু বিশ্বকাপের জন্য নতুন করে স্টেডিয়াম তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানী শহর ব্রাসিলিয়ার ন্যাশনাল স্টেডিয়াম ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হয়। আর বাকি ছয়টি স্টেডিয়াম সংস্কার করা হয়। ইতোমধ্যে কনফেডারেশন কাপের জন্য ছয়টি ভেন্যু ব্যবহার করা হয়েছে।
ব্রাজিল বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম সমূহ:
[b]মিনেইরাও স্টেডিয়াম[/b]
[b][img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400748319.jpg[/img]
[/b]বেলো হরিজোন্টে শহরে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামটি ১৯৬৫ সালে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের জন্য এটা অত্যাধুনিকায়ন করা হয়। স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা ৬৪ হাজার। এই স্টেডিয়ামে ৬২ লাখ ৭০ হাজার লিটার বৃষ্টির পানি ধরে রাখা এবং পরে ব্যবহার করার পদ্ধতি রয়েছে। এই স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্ব, রাউন্ড -১৬ এবং সেমিফাইনালের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
[b]ন্যাশনাল স্টেডিয়াম[/b]
[b][img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400748348.jpg[/img]
[/b]ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ার পুরাতন ন্যাশনাল স্টেডিয়ামটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে সেখানে নতুন স্টেডিয়ামটি তৈরি করা হয়। এটির ছাঁদ ও স্তম্ভগুলো ধাতু দিয়ে তৈরি। এটির ধারণক্ষমতা ৭১ হাজার ৪১২। বিশ্বকাপের ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের ম্যাচসহ, রাউন্ড ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণকারী ম্যাচ এখানে অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৩ সালে কনফেডারেশন কাপের উদ্বোধনী ম্যাচ এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিশ্বকাপের পর এখানে কনসার্ট ও কালচারাল ইভেন্টের অনুষ্ঠান হবে।
[b]অ্যারিনা পানটানাল[/b]
[b][img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400748398.jpg[/img]
[/b]কুইয়াবা শহরে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামের ধারণ ক্ষমতা ৪৩ হাজার। নতুন এই স্টেডিয়ামটি নিয়ে ব্রাজিলকে অনেক সমালোচনা শুনতে হয়েছে। ফিফার কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের সময় এই স্টেডিয়ামের বাহিরেই সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ করেছিল। এখানে শুধু গ্রুপ পর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
[b]অ্যারিনা দ্য বাইজাদা[/b]
[b][img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400748478.jpg[/img]
[/b]
ক্রুটিবা শহরে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামটি তৈরি হয়েছিল ১৯১৪ সালে। ১০০ বছরের পুরনো এই স্টেডিয়ামে একত্রে ৪১ হাজার দর্শক খেলা দেখতে পারেন। এটি নিয়েও ব্রাজিল কর্তৃপক্ষকে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। কারণ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ভালো না হওয়ায় ব্রাজিল শ্রমিক ট্রাইবুন্যাল এটির কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। এখানে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
[b]অ্যারিনা কাস্টেলাও[/b]
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400748442.jpg[/img]
ফোর্টালেজা শহরে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামটি তৈরি করা হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে পুন:সংস্কার করা স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে এটির কাজই সর্বপ্রথম শেষ হয়। সংস্কার করে বৃহৎ ছাঁদ তৈরিসহ আন্ডারগ্রাউন্ডে ৪২০০ গাড়ি পার্কিং করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৬৩ হাজার ৯০৩ জন দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ (ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ), রাউন্ড ১৬ ও কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
[b]অ্যারিনা দ্য আমাজোনিয়া[/b]
[b][img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400748540.jpg[/img]
[/b]আমাজন রাজ্যের মানাউসে এই স্টেডিয়ামটি তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে তৈরি এই স্টেডিয়ামের ধারণ ক্ষমতা ৪৪ হাজার। এখানে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ব্রাজিলে ফুটবলের ঐতিহ্য থাকলেও এই অঞ্চলটি ফুটবলের ছোঁয়া থেকে বেশ দূরে। তাই বিশ্বকাপ শেষ এই স্টেডিয়াম কারাগার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। অন্য কারাগের উপর চাপ কমাতে এটি ব্যবহারের বিষয় কারা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে সায় দিয়েছে।
[b]অ্যারিনা দস দানুস[/b]
[b][img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400748582.jpg[/img]
[/b]বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে নাটালে এই স্টেডিয়ামটি তৈরি করা হয়। ২০১১ সালে ভেঙ্গে ফেলা পুরনো মাচাদাও স্টেডিয়ামের জায়গায় এটি তৈরি করা হয়েছে। ৪৩ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
[b]স্টেডিও জোসে পিনহেইরো বোর্ডা[/b]
[b][img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400748628.jpg[/img]
[/b]পোর্টো অ্যালিগ্রেতে এই স্টেডিয়ামটি তৈরি করতে ১০ বছর সময় লেগেছিল। স্টেডিও বেইরা রিও নামে পরিচিত স্টেডিয়ামটি ১৯৬৯ সালে সর্বপ্রথম খুলে দেয়া হয়। ফুটবল প্রেমীরা ইট, সিমেন্ট ও লোহা দিয়ে এটি তৈরিতে অবদান রাখেন। বিশ্বকাপের জন্য ২০১২ সালের ডিসেম্বরে সংস্কারের কাজ শুরু হয়। গত বছরের শেষের দিকে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও আর্থিক সমস্যার কারণে কাজ শেষ করতে দেরি হয়। ৫২ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়ামটিতে গ্রুপ পর্ব ও রাউন্ড-১৬ এর ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
[b]অ্যারিনা পারনামবুকো[/b]
[b][img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400748664.jpg[/img]
[/b]রেসিফ শহরে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামটি তৈরির কাজ শুরু হয় ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে। চলতি বছরের মে মাসে শেষ হওয়া স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪৬ হাজার। এখানে গ্রুপ পর্ব ও রাউন্ড-১৬ এর ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপের পর এটি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া এখানে সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট তৈরি করা হবে, যা গড়ে ৬ হাজার মানুষের বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে।
[b]মারকানা স্টেডিয়াম[/b]
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400748698.jpg[/img]
রিও ডি জেনেরিওতে অবস্থিত এটি বিশ্বের অন্যতম একটি বড় স্টেডিয়াম। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে এটি তৈরি করা হয়। এই স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৭৮ হাজার ৮৩৮ হলেও বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে প্রায় দুই লাখ দর্শক হতে পারে। এটির ছাঁদ কনক্রিটের পরিবর্তে ফাইবার গ্লাস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচসহ গ্রুপ পর্ব, রাউন্ড-১৬ ও কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ এখানে অনুষ্ঠিত হবে।
[b]অ্যারিনা ফন্টে নোভা[/b]
[b][img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400748739.jpg[/img]
[/b]সালভাদরে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামে একত্রে ৫৩ হাজার ৭০০ দর্শক খেলা দেখতে পারবেন। তবে স্টেডিয়ামটি নিয়ে অনেক সমালোচনার শিকার হয়েছে ব্রাজিল। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এটির ছাঁদ ভেঙে গিয়েছিল। এখানে গ্রুপ পর্ব, রাউন্ড ১৬ ও কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
[b]অ্যারিনা কোরিনথিয়ান্স[/b]
[b][img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400748780.jpg[/img]
[/b]সাও পাওলে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামে এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। এর আসন সংখ্যা ৪৮ হাজার হলেও উদ্বোধনী ম্যাচ উপলক্ষ্যে সরানোযোগ্য অতিরিক্ত প্রায় ২০ হাজার আসন দিয়ে মোট ৬৫ হাজার আসন তৈরি করা হবে। এখানে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ ছাড়াও রাউন্ড ১৬ ও সেমিফাইনালের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
[b]ঢাকা,জেডএইচ, ২২ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএএইচ[/b]