বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের পর আইসিসি অনুমোদিত চেন্নাই বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়ো-মেকানিকাল পরীক্ষা দিয়েছেন বাংলাদেশের স্পিনার আরাফাত সানি। শনিবার তিনি ধর্মশালা থেকে চেন্নাই গিয়ে এই পরীক্ষা দেন। আগামী ১৬ মার্চ সানির বোলিং অ্যাকশন ত্রুটিপূর্ণ কি না তা জানা যাবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আগামী সোমবার একই পরীক্ষা দিবেন আরেক বাংলাদেশী পেসার তাসকিন আহমেদ। তারও বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইসিসি।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনে আইসিসি। ফলে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী ১৪ মার্চের মধ্যে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিতে হবে তাদের।

সে অনুযায়ী শনিবার পরীক্ষা দিলেন সানি। তবে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন সানি এবং তাসকিন।

এদিকে আইসিসির অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শ্রীলংকান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।

তিনি আইসিসির কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে বৃহস্পতিবার বলেন, 'আমি আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলিনি। তবে তাদের বিষয়টা ভাবনার তো বটেই। তারা আমার বোলারদের নিয়ে সংশয় জানিয়েছে; আমার সংশয় আছে তাদের (আইসিসি) ভূমিকা নিয়েও।'

শুধু কোচ নয়, অনলাইন এবং অফলাইনে দেশ-বিদেশের টাইগারপ্রেমীরা এ ঘটনার তীব্র সমালোচনা করছেন। আইসিসির প্রতি তারা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগও তুলেছেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার ধর্মশালায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দায়িত্ব পালন করা আম্পায়াররা বাংলাদেশ দলের তরুণ পেসার তাসকিন আহমেদ এবং স্পিনার আরাফাত সানির বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এদিন মাঠে দায়িত্ব পালন করেন ভারতের সুন্দরম রবি ও অস্ট্রেলিয়ার রড টাকার।

সর্বপ্রথম সানির বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহের কথা জানান এক আম্পায়ার। এরপর তাসকিনের নামও টানা হয়। তাসকিনের বোলিং অ্যাকশন দেখে নাকি আম্পায়ারদের মনে হয়েছে তার বোলিংয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে।

এর আগেও বাংলাদেশের স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক, সোহাগ গাজী, আল আমিন হোসেনের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল আইসিসি। ওই তিন বোলারের অ্যাকশন অবৈধও ঘোষণা হয়েছিল।

পরে নিজেদের শুধরিয়ে ফের দলে জায়গা করে নেন রাজ্জাক, সোহাগ এবং আল-আমিন। এই তিন বোলারের মধ্যে আল-আমিন বর্তমানে জাতীয় দলের হয়ে বিশ্ব কাঁপাচ্ছেন।

ওএফ