পিঠে ও মেরুদণ্ডের কশেরুকায় আঘাত পেয়ে বিশ্বকাপে প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে নেইমার। তবে আশাহত নন ব্রাজিল কোচ ফেলিপে স্কলারি। তার মতে ফাইনালে যেতে পারলে আমরা কয়েকটা দিন সময় পাবো। এই সময়ের মধ্যেই নেইমার আশা করি সুস্থ হয়ে ফিরবে। তবে এখন আমাদের প্রথম কাজ জার্মান বাধা উৎরানো।
গত শুক্রবার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে কলম্বিয়া ডিফেন্ডার জুনিগা নেইমারকে পিছন থেকে ট্যাকল করতে গেলে পিঠে বড়সড় আঘাত পান বার্সেলোনা তারকা। মাঠেই লুটিয়ে পড়েন ব্রাজিলের ‘ওয়ান্ডার কিড’। খেলার প্রায় শেষ মূহুর্তে আঘাত পেয়ে ব্রাজিল দলের প্রাণভোমরা নেইমারের মাঠ ত্যাগ করার খবরটি বিদ্যূতবেগে পৌছে গেছে কোটি কোটি ফুটবল প্রেমীর কাছে।
ব্রাজিল ২-১ গোলে কলম্বিয়াকে হারালেও নেইমারকে হারিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সিলভা, লুইজদের। এরপর থেকেই ভক্ত-সতীর্থদের মনে ভয় নেইমার কি সত্যি আর খেলতে পারবে না?
কোটি কোটি ভক্তের মনে যখন এই ভাবনা তখন একটা সুখবর দেয়া যায়। হাসপাতালে বেশিদিন থাকতে হল না দলের ব্রাজিল তারকা নেইমারকে। শনিবারই হাসপাতাল থেকে নেইমারকে ছেড়ে দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন নেইমারের পিঠের হাড়ে চিড় ধরেছে।
নেইমার বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে অনিশ্চিত বলে ব্রাজিল দলের পক্ষ থেকে জানানো হলেও আপাতত দলের সঙ্গেই থাকছেন নেইমার। শনিবার তাই হাসপাতাল থেকে ব্রাজিল বেসক্যাম্পেই ফিরছেন নেইমার।
সেমিফাইনালে দেখা হবে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ পরাক্রমশালী জার্মানির। তারপর বহু আকাঙ্ক্ষিত ফাইনাল। নেইমার ছাড়া কী করে হবে? চিন্তায় সতীর্থ-কোচের কপালে ভাঁজ পড়ার জোগাড়।
প্রাথমিক রিপোর্টে অস্থির ফাটলের কথা বলা হলেও নেইমারের বাবা নেইমার ডি' সিলভা সিনিয়র ও প্রিয় কোচ লুই ফেলিপ স্কোলারি একদম আশাহত নন।
ব্রাজিল কোচ স্কলারি জানালেন, সেমিফাইনালে আমরা নিশ্চিত নেইমারকে পাচ্ছি না। তবে সেমিতে যদি জার্মানি বাধা টপকাতে পারি তবে আমরা কয়েকটা দিন সময় পাবো ফাইনাল ম্যাচ খেলার আগে। এই সময়ের মধ্যে নেইমার সুস্থ হবে বলে আশা করছি।
এবিসি নিউজের শেষ খবর অনুযায়ী আপাতত হাসপাতাল থেকে ক্যাম্পে ফিরেছেন ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের প্রধান এ কান্ডারী। রিপোর্ট বলছে, নেইমারের থার্ড লাম্বার ভার্টিব্রা (এল থ্রি) অর্থাৎ কোমরের উপরের তৃতীয় কশেরুকার কোথাও ফাটল আছে। মেরুদণ্ডকে সোজা রাখতে যে কশেরুকাগুলোয় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে, থার্ড লাম্বার ভার্টিব্রা তাদের মধ্যে অন্যতম।
তবে আশার কথা হলো, স্ট্রেচারে করে মাঠ থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় দুই পা নাড়াতে দেখা গেছে নেইমারকে। বেশিরভাগ অ্যাথলেটরা এ ধরনের ইনজুরির পর আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাতে মাংশপেশীসহ শরীরের অন্যান্য অংশও ক্ষতির শিকার হয়। সেক্ষেত্রে নেইমারের পা নাড়ানো খুবই ভাল লক্ষণ বলছেন চিকিৎসকরা।
আরও আশার কথা, নেইমারের কোন নিউরাল সমস্যা নেই, অন্যথায় অপারেশন করতে হতো। এ ধরনের ফাটলে একমাত্র কার্যকরী চিকিৎসা হলো বিশ্রাম আর মনোবল ধরে রাখা।
নেইমার ইতোমধ্যেই পরিচিতি লাভ করেছেন বিস্ময় বালক হিসেবে। কেন তার কাঁধে সওয়ার হয়ে ব্রাজিল হেক্সা জয়ে স্বপ্ন দেখে- তার জবাব দিয়েছেন প্রতি ম্যাচেই। পাঁচ ম্যাচে চার গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দ্বিতীয়। সামনে পড়ে আছে মহাগুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচ আর এই সময় কি না তিনি মাঠের বাইরে! ভক্তদের মনের কথা সবার হয়ে যেন একাই বলে দিল অ্যালেক্স নামের এক ভক্তের টুইট- ফিরে এস নেইমার, আমরা তোমার হাত থেকে বিশ্বকাপ নিতে চাই!
ঢাকা, জেইউ, ০৫ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ





