দুটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে গেলেও শেষে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ঠিকই জয় তুলে নিয়েছে মেক্সিকো। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১-০ গোলের এই জয়ে 'এ' গ্রুপ থেকে ব্রাজিলের সঙ্গে এক ধাপ এগিয়ে গেল উত্তর আমেরিকার দেশটি।
দুই দলই ভাগ্যের সহায়তায় বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের টিকেট পায়। শুক্রবার দাস দুনাস স্টেডিয়ামে ক্যামেরুন-মেক্সিকো ম্যাচটিকে বলা হচ্ছিল ভাগ্য পরীক্ষার লড়াই। ওরিবে পেরলাতার প্রথম বিশ্বকাপ গোলে তাতে ভালোভাবেই উতরে যায় মেক্সিকো।
তবে শুরু থেকেই বৃষ্টির কবলে পড়া এই ম্যাচের ভাগ্য কিছুতেই মেক্সিকোর পক্ষে যাচ্ছিল না। প্রথমার্ধে তাদের দু'টি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেন রেফারি।
আক্রমণাত্মক ফুটবলের মন্ত্র নিয়েই মাঠে নামে মেক্সিকো। পরিকল্পনা অনুযায়ী মিগেল এররেরার শিষ্যরা শুরু থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যামেরুনের অর্ধে।
তবে মেক্সিকোর আক্রমণাত্মক ফুটবলকে অকার্যকর করার প্রতিশ্রতি নিয়ে নামা আলেক্সন্দ সং ও এনোহ এইয়োংরা এর পর থিতু হয়ে বসেন।
দশম মিনিটেই এক্তর এররেরার ক্রস থেকে বল জালে জড়িয়েছিলেন দস সান্তোস। কিন্তু রেফারি গোলের বাঁশি না বাজিয়ে অফসাইডের নির্দেশ দেন। টিভি রিপ্লেতে পরে দেখা গেছে, বিতর্কিত ছিল সিদ্ধান্তটি। সান্তোসের বাতিল হওয়া এই গোল দিয়েই মেক্সিকোর মিনিট দশেকের আধিপত্য শেষ হয়।
এর পর শুরু হয় ক্যামেরুনের চেপে ধরার পালা। সং, এইয়োং আর এরিক ম্যাক্সিম চুপো-মতিংয়ের সমন্বয়ে দারুণ কিছু আক্রমণ করে 'আফ্রিকার অদম্য সিংহ' নামে পরিচিত দলটি।
১৬তম মিনিটে মেক্সিকোর জালেও বল জড়ায় ক্যামেরুন। স্তেফান এমবিয়ার ব্যাক হেড থেকে বল জালে পাঠিয়েছিলেন চুপো-মতিং। কিন্তু স্যামুয়েল এতো আগেই অফসাইডে ছিলেন। রেফারি গোলের বাঁশি আর বাজাননি।
২১তম মিনিটে এতোর নেয়া দারুণ একটি শট পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়। এর পর গোলের সুযোগও নষ্ট করেন তিনি।
মেক্সিকো আর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে না পারলেও গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। প্রথমার্ধে আরো একবার তাদের গোল-বঞ্চিত করে ভাগ্য আর রেফারির ভুল।
২৯তম মিনিটে আবারও দুর্ভাগ্যের শিকার বার্সেলোনার সাবেক ফরোয়ার্ড দস সান্তোস। কর্নার থেকে পাওয়া বল দারুণ এক ভলিতে জালে জড়ান তিনি। বলটি তার কাছে আসার আগে ক্যামেরুনের এক খেলোয়াড়ের মাথায় লাগে। কিন্তু রেফারি মেক্সিকোর কোনো খেলোয়াড়ের মাথায় লেগেছে মনে করে দস সান্তোসের বিরুদ্ধে অফসাইডের নির্দেশ দেন।
২৭তম মিনিটে মোরেনোর নেয়া ফ্রি-কিকে মাথা ছোঁয়ালেই গোল পেতে পারতেন মেক্সিকোর অধিনায়ক রাফায়েল মার্কেস। তা না হওয়ায় গোলশূন্যভাবেই প্রথমার্ধ শেষ করে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলা মেক্সিকো।
ক্যামেরুনের জমাট রক্ষণ ভাঙতে দ্বিতীয়ার্ধে খেলার ধরণে একটু ভিন্নতা আনে মেক্সিকো। লম্বা পাস আর প্রতি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এর ফলও খুব দ্রুতই পেয়ে যায় উত্তর আমেরিকার দেশটি।
৬১তম মিনিটে কাঙ্খিত গোলের দেখা পায় মেক্সিকো। বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে দলকে এগিয়ে দেন ওরিবে পেরলাতা। তবে তার গোলটিতে মিশে ছিল দস সান্তোসের ছোঁয়া।
ডি বক্সের অনেক বাইরে বল পেয়ে আরো সামনে এগিয়ে যান ভিয়ারিয়ালের ফরোয়ার্ড। এর পর দারুণ এক শট নেন, কিন্তু ক্যামেরুনের গোলরক্ষক পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ফিরতি বল থেকে গোল করেন পেরলাতা।
এর পর মেক্সিকো ভালো কয়েকটি সুযোগ পেলেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি।
ম্যাচের শেষ দিকে ক্যামেরুনও ভালো কিছু সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু মেক্সিকোর গোলরক্ষকের দক্ষতা আর রক্ষণের দৃঢ়তা এবং ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় ম্যাচে ফেরা হয়নি ১৯৯০ সালে কোয়ার্টার-ফাইনাল খেলা দলটির।
বিশ্বকাপে নিজেদের ৫০তম ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখা জয়টি আফ্রিকার কোন দেশের বিপক্ষে মেক্সিকোর প্রথম।
ঢাকা, ১৪ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





