২০১৩ সালের নভেম্বরে নিজেদের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। এবার ঘটেছে বিপরীত ঘটনা। ঘরের মাঠেই টি-টোয়েন্টির পর ওয়ানডেতেও লংকাওয়াশ হয়েছে তারা। শ্রীলংকার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ছয় উইকেটে হেরে ধবধবে হয়ে গেছে স্বাগতিকরা।
শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ৫০ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রান সংগ্রহ করে টসে হেরে যাওয়া বাংলাদেশ। জবাবে ৪৭.৩ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে স্কোর বোর্ডে ২৪৬ রান জমা করে লংকানরা।
এশিয়া ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শ্রীলংকার বিপক্ষে চলতি লড়াইয়ে বরাবরের মতোই ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ। এর সঙ্গে বোলিং সমস্যা ও ফিল্ডিং মিস তো আছেই। বাঁচা-মরার শেষ ম্যাচেও এর ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। সুযোগটি ভালোভাবেই কাজে লাগিয়ে জয় তুলে নিয়েছে শ্রীলংকা।
চলতি সফরে বাংলাদেশকে বেশি কাঁদিয়েছেন লংকান অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা। তবে শেষ ম্যাচে একাদশে ছিলেন না তিনি। ছিলেন না তিলকারাত্নে দিলশানও। তবুও ২৪০ রান তাড়া করতে অভিজ্ঞদের অনুপস্থিতি অনুমানই করতে দেননি ওপেনার কুসল পেরেরা। বাংলাদেশের বোলারদেরকে বেধড়ক পিটিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। এরপর মাঠে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তবে রুবেল হোসাইনের বলে বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে ১২৪ বলে ছয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ১০৬ রান করেন তিনি।
ওপেনিং জুটির লাহিরু থিরিমান্নে (১৮) ও ওয়ানডাউনে নামা ভিথানাগে (৯) দ্রুত মাঠ ছাড়লেও পেরেরাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন দিনেশ চান্দিমাল। সেই সঙ্গে পূর্ণ করেছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১১তম হাফ সেঞ্চুরি। তবে ৬০ রান করে সেই রুবেলের বলে উইকেটরক্ষক এনামুল হকের তালুবন্দী হন তিনি। দলনেতা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস (২০) ও প্রিয়ঞ্জন (২২) দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটির সমস্যায় ভোগা বাংলাদেশ শুরুতেই হারায় এনামুল (২) ও শামসুর রহমানকে (২৫)। তবে মুমিনুল ও মুশফিক দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে মুমিনুলকে রান আউটের ফাঁদে ফেলেন ভিথানাগে। মাঠ ছাড়ার আগে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেছেন মুমিনুল।
শেষ দিকে ১৩ বলে ২৩ রান করে আউট হয়েছেন সোহাগ গাজী। এর আগে ৩৮ রান করে সাজঘরে ফিরে যান নাসির হোসাইন। এছাড়া নাঈম ইসলামের ৩২ রান ও মুশফিকের ৩০ রানই উল্লেখযোগ্য। শ্রীলংকার বোলার ধাম্মিকা প্রাসাদ তিনটি ও সুরাঙ্গা লাকমাল দুটি উইকেট পান।
এই হারের ফলে শ্রীলংকার বিপক্ষে হারের রেকর্ডটিও দীর্ঘায়িত করল বাংলাদেশ। সর্বপ্রথম ১৯৮৬ সালে লংকানদের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল লাল-সবুজ বাহিনী। এই ম্যাচের আগে খেলেছে ৩৫টি ওয়ানডে। দীর্ঘ এই লড়াইয়ে মোট ৪ বার জয়ের মুখ দেখেছে টাইগাররা। বিপরীতে হেরেছে ৩০ বার। বাকিটি পরিত্যক্ত।
লংকানদের বিপক্ষে প্রথম জয়টির জন্য সাধনা করতে হয়েছে ২০ বছর। দুই দলের ১৬তম লড়াইয়ে প্রথম জয়ের মুখ দেখে বাংলাদেশ। ২০০৬ সালে বগুড়ার মাটিতে ৪ উইকেটে জিতেছিল তারা।
এরপর ফের অপেক্ষার পালা। পার হয়ে যায় আটটি ম্যাচ। প্রথম জয়ের পর নবম ম্যাচে দ্বিতীয় জয়ের দেখা পায় তারা। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানটা আগের চেয়ে অনেকটা ভিন্ন। চলতি সিরিজের আগে ২০১৩ সালে শ্রীলংকার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচটিতে হেরে গেলেও দ্বিতীয় ম্যাচটি ড্র করে। শেষ ম্যাচটিতে জয় নিয়ে সিরিজটিও ড্র করে তারা। কিন্তু এবার ফের হারের রাজ্যে হারিয়ে গেছে মুশফিকরা।
ঢাকা,২২ ফেব্রুয়ারি(টাইমনিউজবিডি)//জেডআই