বন্ধুত্ব থাকলেও প্রতিযোগিতায় নিজে হেরে কে বন্ধুকে জিতিয়ে দিতে চায়? বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশ দুই দেশকে বন্ধু বলে মানে। ক্রিকেটের বাইরে অনেক সংকট মিটিয়ে বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে। ক্রিকেট জগতেও দুই দেশের বোর্ডও পরস্পর বন্ধু। কিন্তু ক্রিকেট মাঠে যে একে অপরের শত্রু।
সম্প্রতি দেখা গেছে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশকে দেখা গেছে ম্যাচ জেতার খেলা। ভারতের বিপক্ষে খেলা মানেই তেতে ওঠা বাংলাদেশ! গত এশিয়া কাপে এর ব্যতিক্রম ঘটে নি। এবারও কোনো ভক্তই চাইছে না ব্যতিক্রম কিছু ঘটুক।
বুধবার বেলা ২টায় ফতুল্লাতে বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা পরাজয় দলের আত্মবিশ্বাসে ভাটা পড়লেও এশিয়া কাপের শুরুর ম্যাচটা যে ভারতের বিপক্ষে। ভারতের বিপক্ষে গত এশিয়াকাপে যে আগ্রাসী খেলা খেলেছে সাকিব-মুশফিকরা এবারও তাই ‘একটা কিছু করে ফেলব’ আত্মবিশ্বাস বিস্ময়করভাবে খেলা করছে বাংলাদেশ দলের মধ্যে।
এমন নয় যে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ-ভারত সমানে সমান। ২৪টি ওয়ানডের মধ্যে মাত্র তিনটিতে জয় বাংলাদেশের, ২১টিতেই হার। তারপরও ভারতকে সামনে পেলে বাংলাদেশ দলের জেগে ওঠার কারণ বড় মঞ্চের সাফল্য।
২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের প্রথম জয়টা দ্বিপক্ষীয় সিরিজে হলেও পরের দুটি জয়ই বাংলাদেশ পেয়েছে বড় দুটি টুর্নামেন্টে। প্রথমটি ২০০৭ বিশ্বকাপে পোর্ট অব স্পেনে, আর সর্বশেষটি ঢাকায় অনুষ্ঠিত গত এশিয়া কাপে।
গত এশিয়া কাপ অবশ্য বাংলাদেশের ক্রিকেটেই বড় একটা গৌরব তিলক হয়ে থাকতে পারত। ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে মাত্র ২ রানের হার সেই সম্ভাবনাটাকে পরিণত করল কান্নায়। তবে দুই বছর পর সেই কান্নাই এখন আত্মবিশ্বাসে রূপান্তরিত। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পরও তাই এশিয়া কাপ নিয়ে গোপন স্বপ্ন আছে।
ভারতকে আবারও বড় মঞ্চে হারিয়ে স্বপ্ন বাস্তবায়নের পদযাত্রা আজই শুরু করতে হবে। আর যখনই ভারতকে হারানোর ব্যাপারটা সামনে আসে, সামনে চলে আসেন মাশরাফি বিন মুর্তজাও। ভারতের বিপক্ষে তিন জয়ের প্রথম দুটিতেই ম্যান অব দ্য ম্যাচ তিনি। সে সূত্র ধরেই সম্ভবত ম্যাচের আগের দিন বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এলেন মাশরাফি। তাতে একটা সুবিধা হলো। ভারতকে চটিয়ে দেওয়া গেল ম্যাচের আগেই। ভারতীয় এক সাংবাদিককে মাশরাফি মুখের ওপর বলে দিলেন, বাংলাদেশের ভারতকে হারানোটা এখন নাকি আর অঘটন নয়!
মাশরাফির ক্রিকেট অবশ্য বরাবরই এমন ভয়ডরহীন। তিনি দলে থাকলে যেটি ছড়িয়ে পড়ে দলেও। মাশরাফি নিজেও দলে উদ্দীপনাই দেখছেন, ‘দলের সবাই খুব এক্সাইটেড। বিশেষ করে তরুণ যারা এসেছে, তারাও চাচ্ছে কিছু করে দেখানোর জন্য। ভালো খেলার জন্য সবাই মুখিয়ে আছে।’ কিন্তু শ্রীলঙ্কা সিরিজের ক্ষতটা যে এখনো শুকায়নি! বারবার জিততে জিততে হেরে যাওয়ার দুঃখ বুকে বয়ে বেড়াচ্ছে ক্রিকেটাররা।
অবশ্য মাশরাফি আশা দিলেন, বললেন, ‘শ্রীলঙ্কা সিরিজটা খুব ভালো না গেলেও আমরা এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেটা থেকে ফিরে আসতে হবে।’ এদিক দিয়ে ভারতও খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। গত আটটা ওয়ানডের মধ্যে হেরেছে ছয়টিতেই। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ডে খেলা গত মাসের সফরেই সিরিজ হার ৪-০ ব্যবধানে।
কাগজ-কলমে তার পরও ভারতের শক্তিমত্তা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। সাকিব-তামিমের যুগল অনুপস্থিতিতে সেই পার্থক্য আরও বাড়ারই কথা। সাকিবের অনুপস্থিতে মানে তো একসঙ্গে একজন বোলার ও একজন ব্যাটসম্যানের না-খেলা! এই অভাব নিয়েই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেটি খেলেছে বাংলাদেশ। সে অর্থে তাই সমস্যাটা নতুন কিছু নয়। তারপরও কাল রাতে বাংলাদেশ দলে বড় প্রশ্ন ছিল—তিন পেসার খেলানো হবে, নাকি তিন স্পিনার।
সাকিব ছাড়া বাংলাদেশ কিছুটা পঙ্গু। তবে সাকিব যেমন একের ভেতর তিন, ভারতও তেমনি মিস করবে তাদের ‘একের ভেতর তিন’ মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। তাঁর জায়গায় উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে আসা দীনেশ কার্তিক অবশ্য সুযোগের সদ্ব্যবহারের ব্যাপারে আশাবাদী।
এ রকম সুযোগ বাংলাদেশেরও অনেকে পাচ্ছেন। অন্তত এটুকু তো ধরেই নেওয়া যায় যে সাকিব-তামিম থাকলে আজকের দলের অন্তত দুজনের খেলা হতো না ম্যাচটা। তাদের জন্য যেমন এটা একটা সুযোগ, বাংলাদেশ দলের জন্যও সুযোগ গত দেড়-দুই বছরের সাফল্যের ধারায় ফেরার। শ্রীলঙ্কা সিরিজের কলঙ্ক ভুলে নতুন করে হাসার জন্য ভারত-বধের মতো উপলক্ষ আর হয় না। এখন দেখার পালা কি উপায়ে ভারতকে কাঁদায় টাইগাররা।
[b]ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)// জেইউ/এফএ[/b]
খেলা
ভারতের বিপক্ষে উজ্জীবিত মুশফিক বাহিনী
বন্ধুত্ব থাকলেও প্রতিযোগিতায় নিজে হেরে কে বন্ধুকে জিতিয়ে দিতে চায়? বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশ দুই দেশকে বন্ধু বলে মানে। ক্রিকেটের বাইরে অনেক সংকট মিটিয়ে বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে। ক্রিকেট জগতেও দুই দেশের বোর্ডও পরস্পর বন্ধু। কিন্তু ক্রিকেট মাঠে যে একে অপরের শত্রু





