গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট। তবে দলটির নিকটাতীতের রেকর্ড মোটেই ভালো যাচ্ছিল না। বাজে ফর্মের জন্য এবারের ইউরো আসর থেকে রেলিগেটেড হয়ে গেছে। তাই সমালোচনা কম হচ্ছিল না গেরেথ সাউথগেট বাহিনীর। সে জবাবটা গতকাল তারা বিশ্বকাপের মাঠেই দিয়েছে। একেবারে হাফ ডজন গোলে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু। যদিও প্রতিপক্ষ দুর্বল ইরান বলে কারো কারো ভ্রু কুচকাতে পারে। তবে এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নরা জানান দিয়েছে, সাম্প্রতিক বাজে ফর্মের দিন তাদের শেষ।
এবারো তারা বিশ্ব ফুটবলের সর্ববৃহৎ এ আসরের শিরোপার দাবিদার। তবে ২-৬ গোলে হারলেও ইরানের প্রাপ্তি স্ট্রাইকার মেহেদি তারিমি। পর্তুগালের ক্লাব পোর্তোতে খেলা এই ফুটবলার করেছেন দুই গোল। ‘বি’ গ্রুপের এই ম্যাচ জিতে ইংল্যান্ড নকআউটে যাওয়ার রাস্তা প্রশস্ত করল।
কাতারের খলিফা স্টেডিয়ামে পাল্লা দিয়েই দর্শক উপস্থিতি ছিল ইরান ও ইংল্যান্ডের। অবশ্য ইরানিদের থামিয়ে দিতে শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলা ইংলিশদের। শুরুতে কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও প্রথম ৪৫ মিনিটেই ম্যাচ নিজেদের করে নেয় ইউরোপের দেশটি। তবে ইরানিরা যেন অল্পতেই খুশি। ৬ গোলের বিপরীতে তাদের করা গোল মাত্র ২টি। তাতেই কি আনন্দ পারসিয়ানদের।
ইরান অবশ্য ইংল্যান্ডকে ৩৪ মিনিট পর্যন্ত রুখে দিতে পেরেছিল। এরপরই তরুণ প্রতিভা জুডি বেলিংহ্যামের গোলে লিড। তার হেডে পরাস্ত ইরানের গোলরক্ষক। ৪৩ মিনিটে বুয়াকো সাকার গোলটি দর্শনীয়। বক্সের বাইরে থেকে তার নেয়া বাম পায়ের তীব্র ভলির সৌন্দর্য শুধু চেয়েই দেখেছে ইরানি ফুটবলাররা। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাহিম স্ট্রালিং। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে তার ডান পায়ের টোকা জালের সন্ধান পায়। ৬২ মিনিটে বুয়াকো সাকা দ্বিতীয় গোল আদায়ের পর ৭১ মিনিটে মার্কুস রাশফোর্ড এবং ৮৯ মিনিটে জ্যাক গ্রিলিশ গোল করলে বড় জয় নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের।
তবে গত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেন এই ম্যাচে কোনো গোল পাননি।
ইরানের তারকা ফুটবলার মেহেদি তারিমি ৬৫ মিনিটে গোল করার পর ইনজুরি টাইমের ১৩ মিনিট সময়ে পেনাল্টি থেকে ইরানিদের দ্বিতীয় উল্লাসের উপলক্ষ তৈরি করেন।
ডাচদের কাছে হারতেই হলো সেনেগালকে পোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী নেদারল্যান্ডসের আন্দ্রিয়াস নোপের্ট। এই গোলরক্ষকের প্রতিরোধেই পোস্ট ছিল অক্ষত। বিপরীতে দুই দফা ভুল পাস দেন সেনেগালের গোলরক্ষক এডুয়ার্ডো মেন্ডে। চেলসিতে খেলা এই কিপারের কারণেই দুই গোল হজম। ফলে তাদের ২-০তে হারিয়ে বিশ্বকাপে ফেরাটা স্মরণীয় করে রাখল ডাচরা। গত বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারা দলটির ‘এ’ গ্রুপের এই জয়ে তাদের পরের রাউন্ডে যাওয়ার পথ এগিয়ে রাখল। আল থুমামা স্টেডিয়ামে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর শেষ ছয় মিনিটে জোড়া গোল এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিটদের।
বিশ্বকাপ এবং ইউরো নেশন্স লিগে ধারাবাহিক ভালো করার অংশ হিসেবেই কাল জয়ে শুরু তিনবারের রানার্সআপদের। ৮৪ মিনিটে আফ্রিকান দেশটির গোলরক্ষক বলের ফ্লাইট মিস করার জেরেই হেডে বল জালে পাঠান চোডে গাকপো। ইনজুরি টাইমের ৯ মিনিটে ডাবে কালসেনের শটেও পরাস্ত মেন্ডে। গোলরক্ষক প্রথমে আসা শট ঠিকমতো রুখতে না পারায় ফাঁকায় বল পেয়ে যান কালসেন।
এবিএস





