দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা নিয়মিত ঘটনা। পারমাণবিক বোমার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কূটনৈতিক চাপান-উতোরও প্রকাশ্যে আসে মাঝেমধ্যেই। এর প্রভাব পড়ে ক্রিকেটেও। এই বিশ্বকাপেও তো ভারতে খেলতে আসার ব্যাপারে নিরাপত্তা শঙ্কায় ছিল পাকিস্তান। আগামীকাল ভারত-পাকিস্তানের দ্বৈরথ ধর্মশালায় হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা শঙ্কা মিলিয়ে ভেন্যু বদলে গেছে কলকাতায়। এর আগে গত ডিসেম্বরে পাকিস্তানে পূর্বনির্ধারিত সিরিজটি তো হয়ইনি। তবে এবার ক্রিকেট ঘিরে আবার দুই দেশের মানুষ একে অন্যের কাছাকাছি আসছে।

কীভাবে? ফেসবুক আছে না! বিশ্বকাপ উপলক্ষে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ছবিতে নিজের পছন্দের দলকে সমর্থন জানিয়ে পতাকার রংয়ে রাঙানোর সুযোগ করে দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। আর এটিকেই দূরত্ব ঘোচানোর সুযোগ হিসেবে নিয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীরা। ইডেন লড়াইয়ের আগে দারুণ এক উদাহরণ তৈরি হয়েছে। ভারতের দর্শকেরা নিজেদের ছবি রাঙিয়েছেন পাকিস্তানের পতাকার রংয়ে, পাকিস্তানিরা ভারতের।

ফেসবুকে হ্যাশট্যাগ দিয়ে ‘প্রোফাইল ফর পিস’ ট্রেন্ড তৈরি করেছিলেন দুই দেশের সমর্থকেরা। তারপর শুরু হলো এভাবে একে অন্যকে সমর্থন জানানো। যেটিতে মুগ্ধ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গও। নিজের প্রোফাইলে তিনি লিখেছেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানে ফেসবুকজুড়ে মজার একটা ব্যাপার ঘটছে। হাজারো ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থক পাকিস্তানি ফ্রেমে নিজেদের প্রোফাইল ছবি রাঙাচ্ছেন, পাকিস্তানিরাও একই কাজ করছেন।’

শুধু ছবি রাঙানোই নয়, এর মাধ্যমে দুই দেশের সরকারকে একটা বার্তাও দিতে চাইছেন সমর্থকেরা। নিজের প্রোফাইলে পাকিস্তানের চাঁদ-তারায় রাঙানো মুম্বাইয়ের চিত্রশিল্পী রাম সুব্রামনিয়াম বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলছেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনা হওয়া দরকার। আর কত দিন এভাবে উত্তেজনা চলতে থাকবে?’ ৩৭ বছর বয়সী রাম নাকি ছবি বদলানোর সময় ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের প্রতি কোনো ঘৃণা নেই আমার।’

একই অনুভূতি লাহোরের আইনজীবী এহসান উল্লাহরও। ভারতের তিন রঙা পতাকায় নিজের ফেসবুক ছবি রাঙানো এই ৩০ বছর বয়সী বলেছেন, ‘ভারতে অনেক বন্ধু আছে আমার, যাঁদের আমি হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে ভালোবাসি। দুই দেশের মধ্যে শান্তির আবেদন সব সময়ই জানাই। তাই আমার বন্ধুদের জন্য, শান্তির জন্য বার্তা দেওয়ার এই সুযোগটি যখন এল, আমি নিশ্চয়ই সেটি হাতছাড়া করতে পারি না।’

ক্রিকেট বারবার দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে থাকে, সেই ক্রিকেটই আরও একবার দুই দেশকে কাছাকাছি আনতে বড় প্রভাবক হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এআইজে