"ভোরের আলো দেখেই ধারণা করা যায় দিনটি কেমন যাবে"-এ কথাটি মিথ্যা প্রমাণিত করল টাইগাররা। শুরুতে বাজে ব্যাটিং-বোলিংয়ের পর হয়তো কেউই কল্পনা করেনি বাংলাদেশ দল জিতবে। জয়ের কথা ভাবলেও হয়তো ৮৭ রানে জয়ের কথা কল্পনা করেননি কেউই। কিন্তু সেই কল্পনাতীত কাজটিই করল মাশরাফিরা। জিম্বাবুয়েকে ৮৭ রানে হারিয়ে ওয়ানডেতেও শুভ সূচনা করল তারা।

শুক্রবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে ১১.৪ ওভারে মাত্র ৩১ রান সংগ্রহ করতেই তিন উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ৭০ রানে নেই চার উইকেট। বিপরীতে জিম্বাবুয়ে ব্যাটিং শুরুতে মাত্র ৬ ওভারে তুলে নিয়েছিল ৪৫ রান। হারাতে হয়নি কোনো উইকেট। কিন্তু দিন শেষে ফলাফলটি উল্টোই আসল। স্বাগতিকদের সাত উইকেটে ২৮১ রানের জবাবে ৪২.১ ওভারে ১৯৪ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস।

বলা চলে এদিন একমাত্র সাকিবের কাছেই হেরে গেছে জিম্বাবুয়ে। ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি করার পর বল হাতে চার উইকেট তুলে নিয়েছেন এই অল রাউন্ডার। এতে ম্যাচসেরার পুরস্কারটিও জিতেছেন তিনি।

৭০ রানের চার উইকেট হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশকে পঞ্চম উইকেটে ১৪৮ রান এনে দেন সাকিব ও মুশফিক। এতে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাকিব। তবে ৯৯ বলে ১০১ রান করে কামুঙ্গিজির বলে পানিয়ানগারার তালুবন্দী হন তিনি।

এরপর ৬৫ রান করে মাঠ থেকে বিদায় নেন মুশফিকুর রহিম। তাদের পর আলো ছড়িয়েছেন অভিষিক্ত সাব্বির রহমান। মাত্র ২৫ বলে হার না মানা ৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন এই ক্রিকেটার।

জবাবে মাত্র ছয় ওভারে ৪৫ রান সংগ্রহ করেছিল জিম্বাবুয়ের হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও সিকান্দার রাজা। তাদের যখন কেউই আউট করতে পারেনি, তখন আবার ত্রাণকর্তা হিসেবে বল হাতে দলের হাল ধরলেন সাকিব। অষ্টম ওভারের তৃতীয় বলে সিকান্দার রাজাকে (১৫) স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন। একই ওভারের পঞ্চম বলে সিবান্দাকে (০) বিদায় করে দেন এই অল রাউন্ডার।

এরপর দীর্ঘ খরা কাটিয়ে ১৭তম ওভারের তৃতীয় বলে আরেক উইকেট শিকার করেন মাহমুদুল্লাহ। তার বলে এলবিডব্লিউ'র ফাঁদে পড়েন ওপেনার মাসাকাদজা। মাঠ ছাড়ার আগে ৪৮ বলে সাতটি চারে ৪২ রান করেন তিনি।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোর ৫৪ রান করা ব্রেন্ডন টেইলর আউট হন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফির বলে। তাকে সাজঘরে ফিরাতে অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ ধরেন মুশফিকুর রহিম। জিম্বাবুয়ের আর কোনো ব্যাটসম্যানই উল্লেখযোগ্য স্কোর করতে পারেননি।

বাংলাদেশের বোলার সাকিবের চার উইকেট ছাড়া আরাফাত সানি, মাশরাফি ও মাহমুদুল্লাহ দুটি করে উইকেট নেন।

জেডআই