রাজনৈতিক উত্তাপে ন্যু ক্যাম্পের এল ক্লাসিকো ছিল নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো। সূচি পরিবর্তনের পরও ফুটবলের অন্যতম সেরা দ্বৈরথ মাঠে গড়ায় কিনা, তা নিয়ে ছিল সংশয়।

সব সংশয় উড়িয়ে আগুন ঝরানো এক ম্যাচ দেখলো ফুটবল বিশ্ব। যে ম্যাচে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের কেউই জেতেনি। ১৭ বছর পর প্রথমবার গোলশূন্য ড্রতে শেষ হলো এল ক্লাসিকো।

চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর হওয়ার কথা ছিল রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনার প্রথম এল ক্লাসিকো। কিন্তু রাজনৈতিক ইস্যুতে বার্সায় বিক্ষোভ শুরু হলে দ্রুত সূচি পরিবর্তন করা হয়।

কিন্তু সূচি পরিবর্তন হলেও ফুটবলের অন্যতম সেরা দ্বৈরথের উত্তাপ একটুও কমেনি। বরং ক্যাম্প ন্যুতে আগুন ঝরানো লড়াই দেখলো ফুটবল বিশ্ব। ড্র হলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালের বিপক্ষে টানা সাত ম্যাচ ধরে অপরাজিত রইলো বার্সেলোনা।

বার্সার মাঠে এদিন ম্যাচের শুরুতেই সুযোগ পায় রিয়াল। কিন্তু অতিথিদের হয়ে করিম বেনজেমার নেওয়া প্রথম শট রুখে দেন মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন।

প্রথমবার ব্যর্থ হয়ে আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে রিয়াল। পরপর আক্রমণে বার্সা শিবির কাঁপিয়ে দেয় জিনেদিন জিদানের দল। ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিট বার্সার ডি-বক্সে চাপ রেখেছে অতিথিরা।

সপ্তদশ মিনিটে আরেকটি সুযোগ আসে অতিথিদের। কিন্তু কর্নার থেকে কাসেমিরোর হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দলকে রক্ষা করেন জেরার্ড পিকে।

সাত মিনিট পর আবারো সুযোগ। এবার করিম বেনজেমার শট ঠেকিয়া দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন স্টেগেন। পরমুহূর্তে ঝাঁপিয়ে বাঁচান আরেকটি দূরপাল্লার শট।

চাপের মুখে থাকা বার্সার প্রথম সুযোগ আসে ৩১তম মিনিটে। সতীর্থের বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে পেয়ে যান মেসি। তবে তাঁর বুলেট গতির শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে সেই যাত্রায় রিয়ালকে বাঁচিয়ে দেন রামোস।

দশ মিনিট পর আরেকটি সুযোগ পায় বার্সা। কিন্তু এবারও মেসির লক্ষ্য পূরণ হতে দেয়নি রিয়াল মাদ্রিদ।

গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও গোলশূন্য দুদল। ৬০তম মিনিটে আরেকবার সুযোগ পান মেসি। এবারও ফরাসি তারকা গ্রিজম্যানের বাড়ানো বল ধরে সেটা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্রতেই শেষ হলো এল ক্লাসিকো।

চলতি লিগে এখন পর্যন্ত ১৭টি ম্যাচ খেলে ১১ জয় তিন হার ও তিন ড্রয়ে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে আছে বার্সেলোনা।

সমান ম্যাচ খেলে ১০ জয় ও ৬ ড্র ও ১ হারে সমান ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে রিয়াল মাদ্রিদ।

এএস