বয়স বাড়লেও বলের ধার একটুও কমেনি পেসার মোহাম্মদ শরীফের। তারই একটি নিদর্শন পাওয়া গেল বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলায়।
ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বুধবার ৮৮তম লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলতে নেমে শরীফ পেয়েছেন হ্যাটট্রিকের স্বাদ। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের সপ্তম হ্যাটট্রিক (আন্তর্জাতিক ম্যাচসহ)।
এর আগে ঢাকা লিগে গাজী ট্যাংকের (বর্তমানে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ) রুবেল হোসেন বিকেএসপিতে ব্রাদার্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ২০১৩ সালে। একই বছর বগুড়াতে তাপস বৈশ্য প্রাইম ব্যাংকের হয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের বিপক্ষে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে তাইজুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এবং রুবেল হোসেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন।

বুধবার মিরপুরে শেখ জামালের বিপক্ষে ষষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে আসেন শরীফ। প্রথম তিন ওভারে খরচ করেন ২০ রান। বৃষ্টির কারণে ৩৮ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ২৮তম ওভারে দ্বিতীয় স্পেল শুরু করেন শরীফ। দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম দুই ওভারে আরো ১২ রান দেন ডানহাতি এ পেসার।
ম্যাচের রোমাঞ্চ ছড়িয়ে যায় শরীফের করা ৩৪তম ওভারে। তৃতীয় বলে শেখ জামালের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকে আউট করে উইকেটের শুরু শরীফের। মাহমুদউল্লাহ ক্যাচ দেন সাঈদ আনোয়ার জুনিয়রের হাতে। প্রান্ত বদলে ব্যাটিংয়ে আসেন জাবিদ হোসেন। উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান জাবিদ সরাসরি বোল্ড। পঞ্চম বলে শরীফের শিকার বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নাজমুস সাদাত, হ্যাটট্রিক।
শরীফের দ্রুতগতির বল আঘাত করে নাজমুস সাদাতের প্যাডে। আম্পায়ার আঙুল তুলতে একটুও দ্বিধাবোধ করেননি। আম্পায়ারের আঙুল তোলার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠেন গাজী গ্রুপের এ পেসার। উল্লাস ছড়িয়ে যায় গোটা গাজী গ্রুপ শিবিরেও।

ওই ওভারে শরীফের শেষ বলেও উইকেট পড়েছে। তবে সেটি জমা হয়নি তার ঝুলিতে। রানআউট হন মুক্তার আলী। শরীফ নিজেই মুক্তারকে রানআউট করেন।
ইনিংসের শেষ বলে শফিউল ইসলামকে বোল্ড করে আরো একটি সাফল্য পান শরীফ। শেষ পর্যন্ত তার বোলিং ছিল এরকম ৮-০-৪৩-৪।
ওএফ





