টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টেন পর্বে প্রথম দুই ম্যাচে হেরেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় না পেলেও অন্তত লড়াই করার প্রত্যাশা ছিল সমর্থকদের। কিন্তু সেটিও পূরণ করতে পারলেন না মুশফিকরা। বলের পর ব্যাট হাতেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন তারা। ফলে হেরেছে ৫০ রানের ব্যবধানে।
এই হারে শেষ চারে যাওয়ার ক্ষীণতম সম্ভাবনাটুকুও শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের। একই সঙ্গে সেমি-ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে ‘ফেভারিট’ অস্ট্রেলিয়ারও। এদিকে জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভালোমতোই টিকে রইলো পাকিস্তান। আগেই শেষ চার নিশ্চিত করেছিল ভারত। এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের মধ্যে ম্যাচের জয়ী দল সঙ্গী হবে তাদের।
রোববার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আহমেদ শেহজাদের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ১৯০ রান করে পাকিস্তান। জবাবে ৭ উইকেটে ১৪০ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩০ রানের উদ্বোধনী জুটি পরও ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৫৩/৪। তামিম ইকবাল, এনামুল হক, শামসুর রহমান ও মুশফিকুর রহিমের বিদায়ে ততক্ষণে ওভারপ্রতি রানের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় পনেরতে।
নাসির হোসেনের সঙ্গে সাকিব আল হাসানের ৪৪ রানের জুটি বিপর্যরয়ের হাত থেকে রক্ষা করলেও বড় হার এড়াতে পারেননি। তিন নম্বরে ফিরে ৩২ বলে দুটি করে ছক্কা ও চারের সাহায্যে ৩৮ রান করেন সাকিব।
শেষ ৩০ বলে প্রয়োজন ছিল ১০০ রানে। ১০ম ওভারে মুশফিকের বিদায়ের পর থেকেই অবশ্য লক্ষ্য তাড়া করার আশা ছেড়ে দেয় বাংলাদেশ। পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর চেষ্টাই করেছেন নাসির, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মাশরাফি বিন মুর্তজা।
এর আগে বল হাতে এক আহমেদ শেহজাদের কাছেই পরাস্ত হয়েছে বাংলাদেশের বোলাররা। শেহজাদ ব্যাট হাতে দুর্দান্ত হলেও বাকিরা বেশি সুবিধা করতে পারেনি। ওপেনিং জুটির ৪৩ রানে মাত্র ৯ রান অবদান রেখে মাঠ থেকে বিদায় নিয়েছেন কামরান আকমল। ৮ রান করে বিদায় নেন ওয়ানডাউনে মাঠে আসা মোহাম্মদ হাফিজ। আগের উইকেট শিকারি আব্দুর রাজ্জাকের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন তিনি।
ক্রিজে এসে উমর আকমল রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে গেছেন। মাহমুদুল্লাহর বলে তামিমের তালুবন্দী হন এই ব্যাটসম্যান। পরে শোয়েব মালিক ২৩ বলে ২৬ রান করে আউট হলে মাঠ আসেন আফ্রিদি। ৯ বলেই করেন ২২ রান। বুম বুম আফ্রিদিকে মাঠ টিকতে দেননি আল আমিন হোসাইন। তবে ঠিকই খেলা শেষ করে মাঠ ছেড়েছেন শেহজাদ। সেঞ্চুরির পর ক্যাচ তুলে দিয়ে একবার সাজঘরের দিকেও রওয়ানা হয়েছিলেন। কিন্তু 'নো' বলের কারণে বেঁচে যান শেহজাদ। অপরাজিত থাকেন ১১১ রান নিয়ে। ৬২ বলে ১০টি চার ও ৫টি ছক্কায় এই স্কোর করেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৯০/৫ (কামরান ৯, শেহজাদ ১১১*, হাফিজ ৮, উমর আকমল ০, শোয়েব ২৬, আফ্রিদি ২২, মাকসুদ ১*; রাজ্জাক ২/২০, সাকিব ১/২১, মাহমুদুল্লাহ ১/২৪, আল-আমিন ১/৩৭)।
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৪০/৭ (তামিম ১৬, এনামুল ১৮, সাকিব ৩৮, শামসুর ৪, মুশফিকুর ২, নাসির ২৩, মাহমুদুল্লাহ ১৭*, জিয়া ০, মাশরাফি ১৭*; গুল ৩/৩০, আজমল ২/২০, আফ্রিদি ১/২১, বাবর ১/২৪)।