দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া স্বাগতিক মালদ্বীপের কাছে হেরে গেল আগের দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পাওয়া বাংলাদেশ। যাদের সাথে আগের তিন ম্যাচে বড় হার, যারা সাফের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কেন তাদের এই দাপট গতকাল মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে সেটাই দেখিয়েছে মালদ্বীপ। আগের ম্যাচে নেপালের কাছে হারা দলটির জয়ের বিকল্প ছিল না জামালদের বিপক্ষে। সেই কাজই তারা করেছে বাংলাদেশকে ২-০ গোলে হারিয়ে।
এতে দুই খেলায় ৩ পয়েন্ট পাওয়া মালদ্বীপ টিকে থাকল ফাইনালের রেসে। আর ১৬ অক্টোবর ফাইনালে খেলতে হলে বাংলাদেশকে এখন ১৩ তারিখে জিততে হবে নেপালের বিপক্ষে। সে সাথে অন্য দলগুলোর দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে। সাফে এটি বাংলাদেশের বিপক্ষে মালদ্বীপের টানা তৃতীয় ও পরপর চার ম্যাচে জয়।
কার্ড সমস্যার জন্য বাধ্য হয়েই রাকিব আর বিশ্বনাথের বদলে একাদশে সোহেল রানা ও রহমত মিয়া। রহমতের পরিচয়টা পুরোপুরি উইংব্যাক হলেও কোচ অস্কার ব্রুজন তাকে রাইট উইংয়ে খেলান। আর সাদউদ্দিন খেলেন রাইটব্যাকে। ম্যাচের ২ মিনিট বয়সেই মালদ্বীপের গোলরক্ষককে পরীক্ষার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। বিপলুর শট কিপার সোজা যাওয়ায় সম্ভাবনার ইতি। এরপর তার আরেকটি শট যায় বার উঁচিয়ে। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে দুই দলই বিপক্ষ রক্ষণভাগে ফাটল ধরানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।
বাংলাদেশের মিডফিল্ডার এবং ডিফেন্ডাররা কোনো সুযোগই দিচ্ছিলেন না আলী আশফাকসহ বিপক্ষ অন্য ফরোয়ার্ডদের। প্রেসিং ফুটবলে আটকে দিচ্ছিল প্রতিপক্ষকে। অন্য দিকে এক মতিন মিয়াকে সামনে রেখে লালসবুজরাও গোলের সুযোগ করতে পারছিল না। প্রথমার্ধের এক মিনিট ইনজুরি টাইমের সময় গোলের খুব কাছে চলে যায় মালদ্বীপ। আলী আশফাকের ফ্রি-কিক বাংলাদেশ কিপার আনিসুর রহমান জিকো ডান দিকে শরীর ভাসিয়ে ঠেকিয়ে দেয়ায় রক্ষা জামাল ভূঁইয়াদের।
৫৩ মিনিটে আলী ফাসিরের শট ঠেকিয়ে দেন জিকো। ৫৫ মিনেটে গোলের দেখা সাফের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। কর্নার থেকে আসা বল ডিফেন্স ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বক্সের ওপর থেকে সে বল আসে বক্সে থাকা হামজা মোহাম্মদের কাছে। সে বলে তার ডান পায়ের দর্শনীয় সাইড ভলি লালসবুজদের হতাশায় ডুবিয়ে পুরো মালদ্বীপে উল্লাসের বান ডাকেন। এটি ছিল তাদের চতুর্থ কর্নার। ৬৫ মিনিটে রহমত, ইব্রাহিম ও বিপলুকে তুলে সুফিল, জুয়েল রানা এবং সুমন রেজাকে নামান কোচ। তা আক্রমণভাগে খেলোয়াড় বাড়িয়ে সমতা আনার জন্য। কিন্তু ৭৩ মিনিটে সোহেল রানা বক্সে অযথা নাইজ হোসেনকে ফাউল করলে আলী আশফাকের পেনাল্টিতে ২-০তে লিড মালদ্বীপের। সাফে এটি আশফাকের ২১তম গোল।
এর ঠিক আগেই জামাল ভূঁইয়ার শট মতিন মিয়ার পায়ে লেগে অল্পের জন্য জালে যায়নি। ২ গোলে এগিয়ে গিয়ে মালদ্বীপ বাকি সময়ে নিজেদের ইচ্ছে মতো খেলেছে। বাংলাদেশ পারেনি কিছুই করতে। একেবারে শেষ সময়ে মতিনের শট বাইরে গেলে ব্যবধান কামনোর সুযোগ হারায় ২০০৩ এর সাফ চ্যাম্পিয়নরা।
বাংলাদেশ-মালদ্বীপের এই ম্যাচ দেখতেই ৫ তারিখে ঢাকা ফেরার বিমানের টিকিট বাতিল করেন বাফুফে ও সাফ সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। আর মালদ্বীপ দলকে উৎসাহ দিতে স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট।
ম্যাচে বাংলাদেশের ডিফেন্ডার তারিক কাজী হলুদ কার্ড পাওয়ায় নেপালের বিপক্ষে খেলা হবে না তার।
বাংলাদেশ দল : জিকো, তপু, আরাফাত, তারিক , রহমত (জুয়েল রানা ৬৫ মি.) জামাল, বিপলু (সুমন রেজা ৬৫ মি.) সোহেল রানা, ইব্রাহিম (সুফিল ৬৫ মি.), মতিন, সাদউদ্দিন।
এবিএস





