বাংলাদেশের কাছে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে পরাজয়ের পর প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়াই দেখিয়েছে বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ মিডিয়া। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ম্যাচের পোস্ট মর্টেম করতে গিয়ে ইংলিশদের ব্যর্থতা ও টাইগারদের আক্রমণের কথা তুলে ধরেছে। অনেকে আবার মুণ্ডুপাত করেছে অ্যালিস্টার কুক বাহিনীর।

বিবিসি তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে ‌'ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়'। তাদের আরেকটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ‌'ধ্বসে পড়লো ইংল্যান্ড:বাংলাদেশের জয়'।

বিবিসির ক্রিকেট প্রতিনিধি জোনাথান অ্যাগনিউ লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ এর আগে জিম্বাবুয়ে ও একটি দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট জিতেছে, কিন্ত এমন জয় কখনও তারা অর্জন করেনি।’

‘দ্য টেলিগ্রাফ’- এর শিরোনাম, ‘ইংল্যান্ডের লজ্জাজনক হারে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা দিন।’

আরেক ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য গার্ডিয়ান’ শিরোনাম করেছে, ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়, ইংল্যান্ডের হারে সিরিজে সমতা।’

‘ডেইলি এক্সপ্রেস’ তো শুধু বাংলাদেশ নিয়ে পড়ে থাকেনি, সামনের ভারত সফরের বিষয়টিও এনেছে তাদের প্রতিবেদনে, ‘এই জয়ে বাংলাদেশ ১-১ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করলো। আর একই সঙ্গে ভারত সফরের আগে ইংল্যান্ডের কপালে এঁকে দিল বড় এক প্রশ্ন- উপমহাদেশের কন্ডিশনে খেলতে তারা কতটা পারদর্শী?’

‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ বাংলাদেশের জয়ের বিষয়টি হাইলাইট করে লিখেছে, ‘অনভিজ্ঞ মেহেদী হাসানের সামনে ভেঙে পড়লো ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার। প্রকাশ পেল স্পিনের বিপক্ষে তাদের দূর্বলতা আর বাংলাদেশ জিতলো ঐতিহাসিক টেস্ট।’

এ তো গেল সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম বা প্রতিবেদনের আলোচ্য বিষয়। যেখানে ইংল্যান্ডের হারকে ‘লজ্জাজনক’ উল্লেখ করেছে প্রায় সবাই। ইংলিশ সমর্থকদের কাছেও মাফ পাচ্ছেন না কুকরা।

তারা দলের হারে ক্ষুব্ধ হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়েছেন বাংলাদেশকে। জর্জ ড্রাইসডেল যেমন লিখেছেন, ‘সাবাশ বাংলাদেশ, তোমরাই জয়ের যোগ্য।’

ম্যারি সোমস লিখেছেন, ‘বাংলাদেশকে অভিনন্দন, তারা ইংল্যান্ডকে খেলে হারিয়েছে। নিরাপত্তার জন্য অভিনন্দন। এউইন মরগানের জন্য দুঃখ হচ্ছে, তিনি চমৎকার একটি সিরিজ মিস করলেন।’

শন পিটার জেমস জার্মান নামের একজন লিখেছেন, ‘দারুণ সিরিজ। টেস্টে যে একটি সেশনই ম্যাচ জেতাতে পারে, তা দৃশ্যমান হলো। আশা করি বাংলাদেশ এই সাফল্যকে পুঁজি করে সামনে এগিয়ে যাবে।’

এমবি