প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। আহামরি দল বললেও ভুল হবে। অথচ এমন দলের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ মিশনে নামার আগে বাংলাদেশ শিবিরে প্রতিশোধের আবহ। কেন? কারণ ২০১২ সালের দুঃসহ স্মৃতি মাথাচাড়া দিয়েছে ওমানে।

বিশ্বকাপে দুই দল মুখোমুখি হচ্ছে এই প্রথম। তবে টি টোয়েন্টিতে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে একবারের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। আর সেটা ২০১২ সালে। সেই ম্যাচে স্কটিশদের কাছে খুব বাজেভাবে হেরেছিল টাইগাররা। বিশ্বকাপ মিশনের আগে প্রতিশোধ শব্দটি তাই খুব ভালোমতো যাচ্ছে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের সাথে।

২০১২ সালে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে আয়ারল্যান্ড-নেদারল্যান্ডস সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। আয়াল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতলেও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৪ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ।

দুই দল ২০১২ সালের জুলাইয়ে হল্যান্ডে একমাত্র টি টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিল। বাংলাদেশকে সত্যিই সেই ম্যাচে পাত্তা দেয়নি স্কটল্যান্ড। আগে ব্যাট করে ওপেনার রিচি বেরিংটনের ৫৮ বলে করা ১০০ রানের ইনিংসে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ১৬২ রান করেছিল স্কটল্যান্ড। বেরিংটন এবারো আছেন দলে। বাংলাদেশ ১৮ ওভারে ১২৮ রান করতেই গুটিয়ে যায়। দলে মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোহাম্মদ আশরাফুল, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেন, জিয়াউর রহমান, আবদুর রাজ্জাক ছিলেন না কে? এরপরও হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।

আজ রাত ৮টায় বিশ্বকাপ মিশনে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। মাসকাটের আল আমেরাত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ-স্কটল্যান্ড ম্যাচটি।

বাংলাদেশের প্রস্তুতি খুবই বাজে হয়েছে। আনুষ্ঠানিক দুটি প্রস্তুতি ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের সাথে। সেই দিক থেকে স্কটল্যান্ডের প্রস্তুতি খুবই ভালো। আয়ারল্যান্ডসহ দুটি প্রস্তুতি ম্যাচেই জিতেছে তারা।

ফলে বি গ্রুপে নিজেদের বেশ ফেবারিট ভাবছে স্কটল্যান্ড। দলটির কোচ শেন বার্জার তো বাংলাদেশকে ওমান ও পাপুয়া নিউ গিনির চেয়ে এগিয়ে রাখতেও নারাজ। তার মতে, এই দুই দলের মতোই বাংলাদেশ।

স্কটিশ কোচ বলেছেন, ‘প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলোয় বাংলাদেশকে আমরা পিএনজি বা ওমানের চেয়ে ওপরে কোথাও দেখি না। আমরা জানি, সব দলই আমাদের বিপক্ষে জিততে তেড়ে আসবে। তবে আমরা তাদের সবার জন্যই সবচেয়ে বড় ম্যাচ হবো, আমরা প্রস্তুত।’

তবে ওই ভদ্রলোকের কথায় খুব বেশি কান দিচ্ছেন না বাংলাদেশ ক্যাপ্টেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ‘উনি কী বলেছেন এটা নিয়ে আমি খুব একটা ভাবছি না। আমরা আমাদের সামর্থ্য সম্পর্কে জানি। আশা করি দল হিসেবে আমরা সেরাটাই মাঠে দিব। আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে যতটুকু থাকবে আমরা ততটুকু মাঠে দিবই। প্রতিটি দলকেই সমানভাবে সম্মান করি। আমরা বিনয়ী থাকতে চাই।’

প্রস্তুতি ম্যাচের হারও ভাবাচ্ছে না মাহমুদউল্লাহকে, ‘আমরা দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ হেরেছি। আমার মনে হয় এর কোনো প্রভাব পড়বে না। আমরা এই ম্যাচের জন্য প্রস্তুত আছি। দলের আত্মবিশ্বাস আগের মতোই আছে। আমরা সেরা ক্রিকেটই খেলতে পারব।’

 এবিএস