সবকিছুর উপযুক্ত প্রমাণ থাকার পরও বোলিং অ্যাকশনের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। নিষিদ্ধ হয়েছেন স্পিনার আরাফাত সানিও। তবে তাসকিনের বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন।

যে ম্যাচে তাসকিনের বোলিং নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, সে ম্যাচে কোনো ডেলিভারি অবৈধ ছিলো না। তারপরও কেন তাসকিনকে আটকানো হলো? এমন প্রশ্নই করেই বসলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

টুয়েন্টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ঐ ম্যাচ শেষে তাসকিন ও সানির বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ করে ম্যাচের দুই আম্পায়ার। এরপর দু’ধাপে আইসিসির নিজস্ব পরীক্ষাগারে পরীক্ষাও দেন তারা।

সেই রিপোর্টের ফলাফল গতকাল প্রকাশ করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে তাসকিন ও সানিকে নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি।

সানির ব্যাপারে খুব বেশি কৌতুহল না জাগলেও, তাসকিনের বিষয়টি সন্দেহ জগেছে স্বয়ং বাংলাদেশ শিবিরের। প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক।

কারণ উপযুক্ত সব প্রমাণ থাকার পরও, তাসকিনেরকে আটকানো হলো? প্রশ্নটা মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘ট্যাকনিক্যাল বিষয় হচ্ছে যে ম্যাচটায় বলা হয়েছে অবৈধ হতে পারে। ওই ম্যাচটার সঙ্গে মিলিয়ে যেই সব পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।

ওই ম্যাচের বল একটাও অবৈধ ছিলো না। এখন কথা হচ্ছে, ম্যাচে অবৈধ নেই, কিভাবে তাকে আমরা সাসপেন্ড করবো! কথা হচ্ছে টেস্ট দেয়ার সময় কিছু সমস্যা হয়েছে। তার ফুল লেন্থ ডেলিভারিতে কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। অনেকইতো বাউন্সার ছাড়া খেলছে।

যে ম্যাচটার উপর ভিত্তি করে তাকে পরীক্ষায় ডাকা হয়েছে। ওখানে তার কোনো সমস্যা না পাওয়ার পরও কি তাকে আটকিয়ে রাখবেন। নাকি রাখবেন না?

তাসকিন ও সানি ইস্যু নিয়ে মাঠেই খেলার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর কথাও বললেন মাশরাফি, ‘সবচেয়ে ভালো হয় মাঠে প্রতিবাদটা জানাতে পারলে। আমি কোন সময় বাড়তি কথা বলতে পছন্দ করি না, সামনে কি হবে না হবে।

আমরা অবশ্যই চাই সামনের ম্যাচটায় আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলা হোক। কিন্তু এরপরও প্রশ্ন থেকেই যায়, আমরা কি অনুভব করছি নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে নিয়ে এবং আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট কিনা এই বিষয়ে? আমাদের একটা সিস্টেম আছে, ওই সিস্টেমের বাইরেও আমরা যেতে পারি না।

আমাদের মন এক জায়গা, আমাদের করতে হবে অন্য কিছু। সানির বিষয়টা আমরা গ্রহণ করেছি। কিন্তু মনে তাসকিনের বিষয়টা চেপে রেখে কাজ করা খুবই কঠিন কাজ।’ সূত্র : বাসস

এসটি