চারদিনেই নির্ধারিত হয়ে গেল সেন্ট লুসিয়া টেস্টের ভাগ্য। আর এর ফলে প্রত্যাশামতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হলো বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার আগের দিনের ৪ উইকেটে করা ২০৮ রান নিয়ে খেলতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৬৯ রান করে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে। শিবনারায়ণ চন্দরপালের সেঞ্চুরি সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটসম্যানদের সাঁজঘরে ডাকেন অধিনায়ক দীনেশ রামদিন। ফলে জয়ের জন্য দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন পড়ে ৪৮৯ রান।
এ বিশাল লক্ষ্যমাত্রা ও প্রায় দু’দিন সময়কে সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমেই বাংলাদেশের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শামসুর রহমান টি২০ স্টাইলে ব্যাট চালাতে থাকেন। ২৭ বলে ৩৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তিনি। মারমার কাটকাট এ ইনিংসে তিনি ২টি ছক্কা এবং চারটি ৪ মারেন। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন এভাবে চার-ছক্কা মেরেই ৪৮৯ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্ট জেতা যাবে।
অবশ্য স্বভাবের বিপরীতে অপর উদ্বোধনি ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল চরম ধৈর্য্য দেখিয়ে ক্রিজে পড়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ও মুমিনুল হক মিলে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১১০ রান সংগ্রহ করেন। একমাত্র এই জুটির ব্যাট করার সময় মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ হয়তো খেলাটিকে অন্তত পঞ্চম দিনে টেনে নিতে পারবে। কিন্তু তা হয়নি দলীয় ১৫৮ রানের মাথায় তামিম ব্যক্তিগত ৬৪ রানে আউট হয়ে গেলে আবার চিরচেনা রূপে আবির্ভূত হয় বাংলাদেশ। ১৬০ রানের মাথায় মাহমুদউল্লাহ এবং একই রানে অপর হাফ সেঞ্চুরিয়ান মমিনুল হক আউট হয়ে যান। এরপর টেলএন্ডাররাও আর দাঁড়াতে পারেননি। ১৯২ রান করে সবাই আউট হয়ে যান। ফলে ২৯৬ রানের বড় ব্যবধানে হার মেনে নেয় টাইগাররা। এর মাধ্যমে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইট ওয়াশের ষোলকলাও পূর্ণ হয়ে যায়। চন্দরপাল ম্যান অব দ্যা ম্যাচ এবং ব্র্যাথওয়েট ম্যান অব দ্যা সিরিজের পুরষ্কার পান।
এর আগে চলতি সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াই ওয়াশ হওয়ার পাশাপাশি একমাত্র টি২০ ম্যাচেও পরাজিত হয় বাংলাদেশ। এরপর আগামী মাসে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে যাচ্ছে টাইগাররা।
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই





