‘ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস’। এই কথাটা শতভাগ প্রমাণিত হলো বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ক্যাচ মিস করেন বাংলাদেশের ক্রিকেটারা। যে কারণে অসিদের কাছে ৩ উইকেটে পরাজিত হলো বাংলাদেশ। তবে ম্যাচটিতে হারলেও অসিদের ঝাঁকুনি দিতে সক্ষম হয়েছেন মাশরাফি-সাকিবরা।

সোমবার বেঙ্গালুরুর এম চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে তামিম ইকবালকে ছাড়াই খেলতে নামে বাংলাদেশ। বোলিং অ্যাকশনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ছিলেন না আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদ। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫৬ রান করে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার সামনে ১৫৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুড়ে দিয়েছে মাশরাফি বাহিনী। জয়ের লক্ষ্যে বোলিং করছেন মাশরাফি-সাকিবরা।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার দারুণ সূচনা এনে দেন ওসমান খাজা ও শেন ওয়াটসন। ছয় ওভার শেষ না হতেই অসিদের স্কোরশিট সমৃদ্ধ হয় রানের ফিফটিতে। ষষ্ঠতম ওভারে শেষ বলে বাংলাদেশ পেতে পারত একটি উইকেট। কাটার মুস্তাফিজের করা বলটি শূন্যে ভাসিয়ে দেন ওয়াটসন। মাশরাফি দুহাত বাড়িয়ে বলটি লুফে নেয়ার চেষ্টা করেন।

অপরদিকে ব্যর্থ চেষ্টায় মেতে ওঠেন মোহাম্মদ মিঠুনও। প্রচেষ্টার প্লাস-মাইনাসে যা হওয়ার হলো ঠিক তা-ই। ফল মাইনাস, অর্থাৎ ক্যাচটি হাতছাড়া হলো বাংলাদেশের। আর তাতে বেশ কয়েকটি ম্যাচের পর দলে ফিরে নিশ্চিত উইকেটটি হাতছাড়া হলো মুস্তাফিজের।

এরপর ওয়াটসন প্যাভিলিয়নে ফিরতে খুব একটা সময় নিলেন না। জীবন পাওয়ার পরের ওভারেই সাব্বির রহমান ও মুশফিকুর রহিমের যৌথ চেষ্টায় রানআউটে কাটা পড়েন অসি এই ওপেনার। ১৫ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ২১ রান করেন ওয়াটসন। ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারে বল হাতে ভেলকি দেখালেন মুস্তাফিজ। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে অসি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথকে সরাসরি বোল্ড করেন বাংলাদেশের এই তারকা পেসার। ১৩ বলে একটি ছক্কায় ১৪ রান করেন স্মিথ।

উইকেটের দেখা পেলেন আল-আমিন হোসেনও। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠান ওসমান খাজাকে বোল্ডআউট করেন তিনি। বিদায়ের আগে অবশ্য ফিফটি করে গেছেন খাজা। ৪৫ বলে ৭টি চার ও একটি ছক্কায় ৫৮ রানের মূল্যবান ইনিংসটি সাজান অসি এই ওপেনার। ছন্দে ফেরা সাকিব ঝুলিতে সংগ্রহ করলেন উইকেট। নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিলেন তিনি। ১৭ রান করা ওয়ার্নানের ব্যাটে আঘাত প্রাপ্ত বুলেট গতিতে ছুটে যাওয়া বলটা অসাধারণ দক্ষতায় আটকে তালুবন্দী করলেন সাকিব। মুস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার মিচেল মার্শ। ব্যক্তিগত চতুর্থ ওভারে দুর্দান্ত কাটারে বোকা বানান মার্শকে। ক্যাচটি লুফে নেন সাকিব।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ১৭ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৮ রান।

এর আগে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৯* রান করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ২৯ বলে ৭টি চার একটি ছক্কায় মূল্যবান এই ইনিংসটি সাজান তিনি। সাকিব আল হাসানের ব্যাট থেকে আসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় গড়া ৩৩ রান।

২২ বলে একটি করে চার ছক্কায় ২৩ রান করেন মোহাম্মদ মিঠুন। মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ছিলেন ১১ বলে দুটি চারে ১৫ রান করে। আর ১৭ বলে দুটি চারে ১২ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাব্বির। মাত্র ১ রান করেই প্যাভিলিয়নের পথ বেছে নেন সৌম্য সরকার।

৪ ওভারে ২৩ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলার অ্যাডাম জাম্পা। বাকি উইকেট দুটি দখলে নেন শেন ওয়াটসন। ৪ ওভারে তিনি খরচ করেছেন ৩১ রান।

প্রসঙ্গত, দু’দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরেছিল। অস্ট্রেলিয়া ৮ রানে পরাজয় বরণ করে নিউজিল্যান্ডের কাছে। কিউইদের ১৪২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ১৩৪ রানে। আর বাংলাদেশ হেরে যায় পাকিস্তানের কাছে ৫৫ রানে। শহীদ আফ্রিদির দলের ছুড়ে দেয়া ২০১ রানের টার্গেটে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৪৬ রানে।

এবি