হারের বৃত্ত থেকে কিছুতেই বের হতে পারছে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগই দিচ্ছে না পাকিস্তান। টি-টুয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর এবার টেস্টেও সেই একই গল্প। এক ম্যাচ হাতে রেখেই মিসবাহ-উল- হকের দল টেস্ট সিরিজও জিতে নিল। তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয়টিতে ক্যারিবীয়দের ১৩৩ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান।
দ্বিতীয় টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২০ উইকেটের মধ্যে ১০টিই নিয়েছেন ইয়াসির শাহ। মূলত এই ডানহাতি লেগস্পিনারের ঘূর্ণিতেই হার মানতে বাধ্য হয়েছে ক্যারিবীয়রা।
আবুধাবি টেস্টের প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান ৪৫২ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। সেটির জবাবে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাক বোলারদের তোপের মুখে পড়ে মাত্র ২২৪ রানেই গুটিয়ে যায়। ২২৮ রানের বিশাল লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান ২ উইকেটে ২২৭ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ৪৫৬ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য দাঁড়ায়। সেই লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা ক্যারিবিয়ানরা ৩২২ রানেই গুটিয়ে গেল। আর ১৩৩ রানের জয় নিয়ে মাঠে ছাড়লো মিসবাহ-উল-হকের দল।
জয়ের জন্য ৪৫৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে আগের দিনই ৪ উইকেটে ১৭১ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৬ উইকেট হাতে নিয়ে আরো ২৮৫ রান করার লক্ষ্যে আবুধাবি টেস্টের পঞ্চম দিনে ব্যাটিংয়ে নামে তার। দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান জার্মেইন ব্লাকউড ৪১ ও রোস্টন চেইজ ১৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।
মঙ্গলবার ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের বোলারদের দেখেশুনেই খেলছিলেন ব্লাকউড ও চেইজ। কিন্তু দলীয় স্কোরের সঙ্গে এদিন আর মাত্র ১৫ রান যোগ হতেই চেইজকে (২০) সরফরাজের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান ইয়াসির শাহ।
তবে অন্য প্রান্তে দারুণ খেলছিলেন ব্লাকউড। ষষ্ঠ উইকেটে শাই হোপকে সঙ্গে নিয়ে ৫৭ রানের জুটি গড়েন তিনি। কিন্তু আবারো প্রতিপক্ষ শিবিরে আঘাতে হেনে সবকিছু এলোমেলো করে দেন সেই ইয়াসির শাহ। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৫ রান দূরে থাকতেই এই লেগস্পিনারের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ব্লাকউড (৯৫)।
ব্লাকউড ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবারো ক্যারিবীয় শিবিরে ফাটল ধরান ইয়াসির। এবার এই ডানহাতি স্পিনারের শিকার দলটির অধিনায়ক জেসন হোল্ডার (১৬)। এরপর শাই হোপ কিছুটা সময় পাক বোলারদের বিপক্ষে লড়াই চালিয়ে যান। কিন্তু তাকে বেশিদূর এগোনোর সুযোগ দেননি জুলফিকার বাবর। দুর্দান্ত ডেলিভারিতে হোপকে (৪১) ইউনিসের হাতে ধরা পড়ান এই বাঁহাতি স্পিনার।
এর আগে ৪৫৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলীয় ২৮ রানের মাথায় জনসন (৯) এবং দলীয় ৬৩ রানের মাথায় ব্রাভোকে (১৩) হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায়। তৃতীয় উইকেটে ব্রাফেট ও স্যামুয়েলস মিলে ৬১ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপদ সামলান।
তবে ১১২ থেকে ১২৪- এই ১২ রানের ব্যবধানে স্যামুয়েলস (২৩) ও ব্রাফেটকে (৫৭) আউট করে পাকিস্তানকে ম্যাচের লাগাম এনে দেন নওয়াজ ও ইয়াসির শাহ।
দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে ৬টি উইকেট নিয়েছেন ইয়াসির শাহ। জুলফিকার বাবর নিয়েছেন ২টি উইকেট। এছাড়া মোহাম্মদ নাওয়াজ ও রাহাত আলি নেন একটি করে উইকেট।
প্রথম ইনিংসে ইউনুস খানের ১২৭, মিসবাহ-উল হকের ৯৬, আসাদ শফিকের ৬৮ ও সরফরাজ আহমেদের ৫৬ রানে ভর করে ৪৫২ রান করেছিল পাকিস্তান।
প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফলতম বোলার গ্যাব্রিয়েল; ৯৬ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া জেসন হোল্ডার তিনটি এবং ব্রাফেট ও বিশু নেন একটি করে উইকেট।
পাকিস্তানের ৪৫২ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ইয়াসির শাহ ও রাহাত আলির বোলিং তোপে প্রথম ইনিংসে মাত্র ২২৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন ড্যারেন ব্রাভো। এছাড়া শাই হোপ ও জেসন হোল্ডার করেন সমান ৩১ রান করে। আর মারলন স্যামুয়েলসের ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান।
পাকিস্তানের হয়ে প্রথম ইনিংসে ইয়াসির শাহ ৪টি ও রাহাত আলি নেন ৩টি করে উইকেট।
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ফলোঅনে ফেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ২২৮ রানের লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে পাকিস্তান। আজহার আলি (৭৯), আসাদ শফিক (৫৮*), সামি আসলাম (৫০) ও ইউনুস খানের (২৯*) ব্যাটিংয়ে ভর করে ২ উইকেটে ২২৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১টি করে উইকেট নেন গ্যাব্রিয়েল ও কামিন্স।
এই জয়ে তিন ম্যাচ লড়াইয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০তে জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিলো পাকিস্তান। আগামী ৩০ অক্টোবর শারজায় সিরিজের তৃতীয় টেস্টে মুখোমুখি হবে দুদল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৪৫২ ও ২য় ইনিংস: ৬৭ ওভারে ২২৭/২ (ইনিংস ঘোষণা) (আসলাম ৫০, আজহার ৭৯, শফিক ৫৮*, ইউনুস ২৯*; কামিন্স ১/২৬, গ্যাব্রিয়েল ১/৩৬)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ২২৪ ও ২য় ইনিংস: ১০৮ ওভারে ৩২২/১০ (ব্রাফেট ৬৭, জনসন ৯, ব্রাভো ১৩, স্যামুয়েলস ২৩, ব্লাকউড ৯৫, হোপ ৪১; ইয়াসির ৬/১২৪, জুলফিকার ২/৫১, নাওয়াজ ১/২৯)
ফল: পাকিস্তান ১৩৩ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: ইয়াসির শাহ
সিরিজ: ৩ টেস্ট ম্যাচ সিরিজে পাকিস্তান ২-০ 'তে এগিয়ে





