ক্রিস গেইল যেভাবে ঝড় তুলছিলেন তাতে করে মনে হচ্ছিল ২০০ ছুঁই ছুঁই সংগ্রহ গড়বে রংপুর রাইডার্স। কিন্তু গেইল বিদায় নিতেই বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঢাকা ডায়নামাইটসের বোলাররা দারুণ বোলিংয়ে কোণঠাসা করে ফেলে প্রতিপক্ষকে।
ফলে ঢাকার সামনে সাকল্যে ১৪৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুড়ে দিতে সক্ষম হয়েয়ে রংপুর। রংপুরকে কম রানে বেঁধে রাখার পথে দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য উপহার দেন সাকিব।
মঙ্গলবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে রংপুরকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দুর্দান্ত শুরুর পর শেষদিকে পথ হারিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারের ১ বল বাকি থাকতেই ১৪২ রানে গুটিয়ে যায় রংপুর রাইডার্সের ইনিংস।
রংপুর রাইডার্সের হয়ে ২৮ বলে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন গেইল। এছাড়া মোহাম্মদ মিঠুন ২৬ বলে ২২, মাশরাফি ১১ বলে ১৫, থিসারা পেরেরা ৯ বলে ১৫, রবি বোপারা ১৩ বলে ১০ রান করেন। ম্যাককালাম ৮ বলে মাত্র ৬ রান করে আ্উট হন।
ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে সর্বোচ্চ ৫টি উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। ৩.৫ ওভারে মাত্র ১৫ রান দেন ঢাকার অধিনায়ক। এছাড়া আফ্রিদি দুটি এবং একটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ আমির ও মোসাদ্দেক হোসেন।
ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে নিয়ে ইনিংস ওপেন করতে নেমে শুরু থেকে সাবধানী ছিলেন গেইল। দ্বিতীয় ওভারেই বিদায় নিতে পারতেন রংপুরের ওপেনার। নারিনের করা দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে তুলে মারতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দেন এই জ্যামাইকান তারকা। তবে শর্ট থার্ডম্যানে সহজ ক্যাচ লুফে নিতে ব্যর্থ হন আবু হায়দার।
নতুন জীবন পেয়ে মোহাম্মদ আমিরের করা তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ঝড়ের আভাস দেন গেইল। নারিনের করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারের শেষ তিন বলে দুটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে দর্শকদের বিনোদিত করেন এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান।
আফ্রিদির করা পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে সঙ্গী ম্যাককালাম বোল্ড হয়ে ফিরে গেলেও দমে যাননি গেইল। একই ওভারের চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে রংপুরকে চাপমুক্ত করেন তিনি।
এরপর আমিরের করা ষষ্ঠ ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে টানা চার হাঁকিয়ে দলের রানের চাকা সচল রাখেন গেইল। আফ্রিদির করা সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান।
গেইলের মারমুখী ব্যাটিংয়ে দিশেহারা হয়ে বোলিং আক্রমণে পরিবর্তন এনেই সফলতার মুখ দেখেন সাকিব। মোসাদ্দেক হোসেনের করা অষ্টম ওভারের প্রথম বলে মিডউইকেটে দুর্দান্ত এক ক্যাচ লুফে নিয়ে যেন আগের 'অপরাধে'র প্রায়শ্চিত্ত করেন আবু হায়দার। ফলে গেইলের ঝোড়ো ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।
গেইল ফিরে যাওয়ার পরই রানের চাকা 'স্লো' হয়ে যায় রংপুর রাইডার্সের। সাকিব, আবু হায়দার ও পোলার্ডের আঁটসাট বোলিংয়ে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটি।
প্রথম ৭ ওভারে ৭১ রান তোলা রংপুর পরের ৭ ওভার সাকল্যে করে ৪১ রান। ১৪তম ওভারের শেষ বলে মিঠুনকে মোসাদ্দেকের শিকার বানিয়ে ঢাকাকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন সাকিব।
বোপারা ও পেরেরা মিলে রংপুরের রানের চাকা সচল করার চেষ্টা চালান। তবে আমিরের করা ১৭তম ওভারের চতুর্থ বলে পেরেরা পয়েন্টে আবু হায়দারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলে সেই চেষ্টা বিফলে যায়।
আমির, সাকিবদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ১৫০ রানের আগেই গুটিয়ে যায় রংপুরের ইনিংস। ইনিংসের শেষ ওভারের পাঁচ বলে একটি রানআউট-সহ চারটি উইকেটের পতন ঘটে রংপুরের; যার তিনটি যোগ হয় সাকিবের নামের সঙ্গে।
শেষ ১০ ওভারে ৫৪, শেষ ৮ ওভারে ৪৩ ও শেষ ৪ ওভারে (পুরো ২০ ওভার ধরে) ১৬ রান করেছে মাশরাফির দল। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে শেষদিকে রানের জন্য কতটা সংগ্রাম করেছেন রংপুরের ব্যাটসম্যানরা।
৭ ম্যাচ শেষে ৪টি জয় ও ১টি ড্রয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে রয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। অন্যদিকে ৫ ম্যাচের দুটিতে জেতা রংপুর রাইডার্স সাত দলের টুর্নামেন্টে রয়েছে পাঁচ নম্বরে।
এমএ





