ওয়ানডে ও একমাত্র টি-টোয়েন্টির পর এবার টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে ধবল ধোলাইয়ের মিশন বাংলাদেশের। আগামীকাল মঙ্গলবার দুই ম্যাচ টেস্টে সিরিজের প্রথম ম্যাচ খুলনার আবু নাসের স্টেডিয়ামে খেলাটি শুরু হবে সকাল ১০টায়।
৩-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর একমাত্র টি-২০ ম্যাচেও বাংলাদেশের কাছে প্রথমবারের মত পরাজয়ের পর এ পর্যন্ত পাকিস্তানীদের জন্য যেন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
মিসবাহ ও ইউনিস দুই সিনিয়র খেলোয়াড় সীমিত ওভারের সিরিজে দলের অংশ ছিলেন না। আগামী মাসে ৪১ বছরে পা রাখা মিসবাহ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নেন এবং ৩৭ বছর বয়সী ইউনিস দলে সুযোগ পাননি।
টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান শিকারী জাভেদ মিঁয়াদাদের চেয়ে মাত্র ৫০৬ রানে পিছিয়ে থাকা ইউনিস দেশের সর্বোচ্চ ২৮ সেঞ্চুরিরও মালিক।
তরুণ ব্যাটসম্যান ১৯ বছর বয়সী সামি আসলাম বলেন, ‘তারা খুবই অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এবং তারা যখন দলে থাকে পাকিস্তান সাধারণত ভাল করে। উভয়েই বিশ্ব মানের খেলোয়াড় এবং অবশ্যই এ সিরিজে তারা পার্থক্য গড়ে দেবেন।’
গত বিশ্বকাপের দল থেকে মাত্র চার খেলোয়াড় রেখে ওয়ানডে সিরিজের জন্য নতুন রূপের দল ঘোষণা করে পাকিস্তান। তবে বিশ্বকাপের আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানে ড্র করা টেস্ট দল নিয়েই বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামবে সফরকারী পাকিস্তান।
ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে আট নম্বরে থাকলেও মিসবাহ নেতৃত্বাধীন দলটি টেস্ট র্যাংকিংয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
গত সপ্তাহে ওয়ানডে অভিষেকেই ৪৫ রান করার পর টেস্ট ক্যাপ পড়তে যাওয়া আসলাম বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে এই ফর্মেটে আমাদের দল ভাল করবে।’
তবে ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ৮৮ ম্যাচের মধ্যে মাত্র সাতটিতে জয় ও ৭০ টিতে পরাজিত হওয়া বাংলাদেশ নিজেদের টেস্ট রেকর্ড ভাল করার ব্যপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী।
সাত জয়ের মধ্যে পাঁচটি এসেছে জিম্বাবুয়ে এবং দুইটি এসেছে দ্বিতীয় সারির ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০০৯ সালে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে কোন টেস্টে জয় পায়নি বাংলাদেশ। সীমিত ওভারে জয়ের পর টেস্টে সিরিজেও ভাল করবে বলে আত্মবিশ্বাসী শীর্ষ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
সাংবাদিকদের সাকিব বলেন, ‘একই মান এবং আত্মবিশ্বাস দেখাতে পারলে এটা খুবই ভাল সিরিজ হবে বলে আমি মনে করছি।’
বাংলাদেশ দল (সম্ভাব্য) : মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মুমিনুল হক, সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মাহমুদুল্লাহ, শুভাগত হোম, সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম, জুবায়ের হোসেন, রুবেল হোসেন, শাহাদাত হোসেন এবং মোহাম্মদ শহিদ।
পাকিস্তান দল (সম্ভাব্য): মিসবাহ উল হক (অধিনায়ক), বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, সামি আসলাম, আসাদ শফিক, আজহার আলী, ইউনিস খান, হারিস সোহেল, সাঈদ আজমল, ইয়াসির শাহ, জুলফিকার বাবর, সরফরাজ আহমেদ, ওয়াহাব রিয়াজ, জুনাইদ খান, ইমরান খান।
জেডআই





