নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবার ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নদেরকে নিজেদের মাঠে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে স্প্যানিশ লিগকে দারুণ জমিয়ে তুলেছে দিয়েগো সিমিয়োনের শিষ্যরা।

টিয়াগো ও সাওল নিগুয়েজের প্রথমার্ধের দুই গোল বিরতির আগে অ্যাটলেটিকোকে এগিয়ে রেখেছিল। সেই পালে হাওয়া দিয়ে ম্যাচ শেষ করেছে অ্যান্টোনিও গ্রিয়েজম্যান এবং মারিও মানজুকিচ। এই নিয়ে এবারের মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ষষ্ঠবারের মত রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে অপরাজিত থাকার ধারা অব্যাহত রাখলো অ্যাটলেটিকো।

১৯৯৯ সালের পরে এটাই ছিল রিয়ালের বিপক্ষে লিগে তাদের প্রথম হোম ম্যাচে জয়। এবারের লিগে এই নিয়ে নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুইবার পরাজিত করলো অ্যাটলেটিকো। এছাড়া স্প্যানিশ সুপার কাপের দুই লেগে এবং কোপা ডেল রে’তেও পরাজিত হয়েছে গ্যালাকটিকোরা।

গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পরাজিত হবার পরে রিয়ালের উপর একের পর এক প্রতিশোধ নিয়েই চলেছে অ্যাটলেটিকো। এই পরাজয় সত্তেও অবশ্য লস রোজিব্ল্যানকোসদের থেকে চার পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে রিয়াল।

দুই ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বিশ্বসেরা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো শনিবার মাঠে ফিরেছিলেন। কিন্তু ইনজুরি আক্রান্ত সার্জিও রামোস, পেপে, লুকা মোদ্রিচ, জেমস রদ্রিগেজ এবং নিষেধাজ্ঞায় থাকা রামোসের অনুপস্থিতি যে এভাবে দলকে ভোগাবে তা মোটেই বুঝতে পারেনি রিয়াল ভক্তরা।

ম্যাচের ১০ মিনিটে অবশ্য স্প্যানিশ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার কোক ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে মাঠ ত্যাগ করলে তা অ্যাটলেটিকোর জন্য দু:সংবাদ বয়ে নিয়ে আসে। তবে তার পরিবর্তে মাঠে নামা সাওল যেন দলের জন্য আর্শিবাদ হয়ে এসেছিলেন। ১৪ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে হুয়ানফ্র্যানের ক্রস থেকে মানজুকিচ হয়ে গোল এরিয়ার মধ্যে বল টিয়াগোর কাছে আসলে শক্তিশালী লো শটে ইকার ক্যাসিয়ারকে পরাস্ত করেন এই পর্তুগীজ। চার মিনিট পরে গিলহারমে সিকুয়েইরার ক্রস থেকে সাওল ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

বিরতির আগে অ্যাটলেটিকোর গোল আরো বাড়তে পারত। কিন্তু গ্রিয়েজম্যানের শট অল্পের জন্য অফ সাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এছাড়া দিয়াগো গোডিনের একটি প্রচেষ্টা সামি খেদিরা হাত দিয়ে আটকে দেয়ায় তার বিপরীতে অ্যাটলেটিকোর করা শক্তিশালী পেনাল্টির আবেদনটি নাকচ করে দেন রেফারি।

বিপরীতে ম্যাচের প্রথমার্ধে রিয়ালের আক্রমণভাগ থেকে তেমন জোড়ালো কোন হুমকি মোকাবেলা করেনি অ্যাটলেটিকো রক্ষণভাগ। বিরতির পরে তাই ম্যাচে ফিরে আসার লক্ষ্যে কার্লো আনচেলত্তি খেদিরার স্থানে জেসে রদ্রিগুয়েজকে মাঠে নামান। তারপরেও পুরো ৯০ মিনিটে রিয়ালের পক্ষ থেকে কোন সংঘবদ্ধ আক্রমনই দেখা যায়নি। গ্রিয়েজম্যানের দুটি জোড়ালো শট ক্যাসিয়াস রক্ষা না করলে ব্যবধান আরো বাড়তে পারতো। তবে ৬৭ মিনিটে স্বাগতিকদের আর হতাশ করেননি এই ফ্রেঞ্চম্যান। আরডা টুরানের ক্রস থেকে সাওলের হেড থেকে পাওয়া বলে রাফায়েল ভারানেকে পাশ কাটিয়ে জালে জড়ান ২৩ বছর বয়সী এই ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকার। ম্যাচ শেষের মিনিটখানেক আগে বদলী খেলোয়াড় ফার্নান্দো টরেসের ক্রস থেকে মানজুকিচের শক্তিশালী হেড রিয়ালের হতাশাই কেবল বাড়িয়েছে।

জেডআই