এক দিকে দায়িত্ব, অপরদিকে আবেগ। এ দুই অবস্থার মাঝামাঝি এক পর্যায়ে থেকে আজ দায়িত্ব পালন করছেন বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। জানা গেল, আজ বিমানবন্দরে মানুষের ঢল নামতে পারে এমনটা মাথায় রেখে আগে কিছু থেকেই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে কর্তব্যরত পুলিশের সংখ্যা। তাদের মাঝেও দেখা গেল বাড়তি উচ্ছ্বাস। গায়ে ইউনিফর্ম চাপানো হলে কী হবে, ভেতরের আবেগটায় তাঁরাও তো ক্রিকেটের পাগল সমর্থক!
বিমানবন্দরের ভিআইপি সড়কটি লোকে লোকারণ্য। মানুষজন সরিয়ে গাড়ি চলাচল চালু রাখতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। এরই ফাঁকে একটু কথা বলা গেল সেখানকার আর্মড পুলিশের ইনচার্জ সাব-ইন্সপেক্টর মতিনের সঙ্গে। ঘেমেনেয়ে একাকার। তবু যেন এতটুকু বিরক্তি নেই। এত মানুষের উপস্থিতিতে কাজে বাধা পড়ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘খেলোয়াড়েরা তো জনগণের নায়ক। তাঁদের জন্য কিছু কষ্ট তো সহ্য করা যেতেই পারে। আমারও ইচ্ছে করছে জনগণের সঙ্গে এক কাতারে শামিল হয়ে তাঁদের অভ্যর্থনা জানাতে। কিন্তু সেটা তো সম্ভব নয়। আমি আমার দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের মাধ্যমেই তাঁদের অভ্যর্থনা জানাতে চাই।’
মিল পাওয়া গেল তাঁর কাজেও। কী চমৎকারভাবে ধৈর্য ধরে রেখে তিনি খেলা পাগল মানুষগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
কর্তব্যের খাতিরে নাম প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানালেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের আরও কয়েকজন সদস্য। বার বার বলে দিলেন, ‘নামটা গোপন রাখেন। কিন্তু আমাদের অনুভূতিটা লিখবেন প্লিজ।’ তো কি তাঁদের অনুভূতি? একজন বললেন কষ্টের কথা, ‘সবাই কিন্তু অফিস করার ফাঁকেও খেলা দেখার সুযোগ পায়। অন্তত একটু হলেও টিভির সামনে ঢুঁ মারে। কিংবা রেডিওতে শোনে। কিন্তু আমাদের অনেকেরই সেই সুযোগ নেই। দায়িত্ব পালন করতে হয় যে।’
আরেকজন জানালেন, ‘আজ অনেকেই খেলোয়াড়দের জন্য স্লোগান দিচ্ছে। আমারও ইচ্ছে করছে সেই কাতারে সামিল হয়ে স্লোগান দেই। ক্রিকেটাররা আমাদের কত গর্বের!’ পাশেই দাঁড়ানো আরেকজনের বক্তব্যে ঝরে পড়ল সমর্থকের আব্দার, ‘ইশ্, আমরাও যদি খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছবি তুলতে পারতাম!’ এই শুনে আরেকজন বললেন, ‘আমার ছোট ছেলেটা তো বলে দিয়েছে মাশরাফি-সাকিবদের অটোগ্রাফ যেন এনে দেই, তা কি আর সম্ভব বলুন!’ সূত্র: প্রথম আলো।
কেএইচ





