শ্রীলংকার সফর থেকে শুরু। প্রতি ম্যাচেই জয়ের স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ। মাঠে নামলে স্বপ্নটা প্রায় পূর্ণ হতে যায় তাদের। কিন্তু বার বারই হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মুশফিকদের। ব্যতিক্রম হয়নি এশিয়া কাপের শেষ ম্যাচেও। সান্ত্বনার ম্যাচটিতে শ্রীলংকাকে ২০৫ রানের টার্গেট দিলেও বল হাতে শুরুতে ছিল দুর্দান্ত। মাত্র ৭৫ রানেই লংকানদের ৫ উইকেট শিকার করে সমর্থকদের মনে আশার আলো সঞ্চার করে। কিন্তু এবার বাধা হয়ে দাঁড়ালেন লংকান দলনেতা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। তাকে পরাস্ত করতে না পারায় শেষ ম্যাচেও ৩ উইকেটে হেরেছে লাল সবুজ বাহিনী।
বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টসের ভাগ্য দেবতা বাংলাদেশের পক্ষেই ছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে রানের পাহাড় গড়েছিলেন স্বাগতিকরা। হয়তো সেই আশায় এই ম্যাচেও প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তবে ব্যাট হাতে প্রায় সবাই ছিলেন অনুজ্বল। ফলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২০৪ রান সংগ্রহ করতে পারে বাংলাদেশ।
ব্যাট হাতে বেশি আগ্রাসী না হলেও বল হাতে ঠিকই হুঙ্কার ছেড়েছিল টাইগার বাহিনী। রানের খাতা খোলার আগেই শ্রীলংকার প্রথম উইকেট শিকার করে তারা। দেখতে না দেখতে লংকানদের মাত্র ৮ রানে ৩ উইকেট শিকার করে স্বাগতকিরা। ৭৫ রানে পাঁচ উইকেট শিকার করে ফাইনাল নিশ্চিত করা দলটিকে চাপে ফেলে দেয় তারা। কিন্তু এরপর চতুরঙ্গ ডি সিলভাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ম্যাথুস। তাদের ৮২ রানের জুটিতে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্নটা ফিকে হয়ে যায়। সিলভা ৪৪ রান করে আউট হয়ে গেলেও অপরাজিত ছিলেন ম্যাথুস। তার হার না মানা ৭৪ রানে ৬ বল হাতে থাকতেই ৩ উইকেটে জয় পায় শ্রীলংকা।
লংকানদের প্রথম দিকের ব্যাটসম্যানরা বেশি সফল হতে না পারলেও ওপেনিং জুটির লাহিরু থিরিমান্নের ৩৩ রান ও আশান প্রিয়াঞ্জনের ২৪ রান উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের বোলার আল আমিন হোসাইন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট পান।
এর আগে ব্যাট হাতে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটির এনামুল হক ও শামসুর রহমান। মাঠ থেকে তাদের বিদায় নেয়ার পর কেউই দলের হাল ধরতে পারেননি। দলীয় ৭৪ রানে শামসুর রহমান (৩৯) অজন্তা মেন্ডিজের বলে এলবিডব্লিউ'র শিকার হন। দলের রানের খাতায় আর মাত্র ২ রান যোগ হতেই প্রিয়াঞ্জনের বলে থিরিমান্নের তালুবন্দী হন এনামুল হক। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যান মাত্র ১ রানের জন্য এদিন হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে পারেননি। তবে তার ৪৯ রানই দলীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যান নাসির হোসাইন ও মাহমুদুল্লাহ দু'জনই ৩০ রান করে আউট হন। এছাড়া সাকিব আল হাসানের ২০ রানই দুই অঙ্কের ঘরের স্কোর। লংকান বোলার মেন্ডিজ, লাকমাল, প্রিয়াঞ্জন ও থিসারা প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট পান।