উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতে ফাইনালে এক পা দিয়েই রেখেছে বার্সেলোনা। তাই বার্সার ঠিকানা বদলে ফাইনালে নিজেদের নাম লেখাতে অলৌকিক কিছু করতে হবে বায়ার্নকে। এ জন্য মঙ্গলবার সেমির দ্বিতীয় লেগে নিজেদের মাঠে কঠিন এক পরীক্ষায় নামতে হবে পেপ গার্দিওয়ালার দলকে। পরীক্ষায় পাশ করতে হলে ৪ গোলের ব্যবধানে ম্যাচ জিতেই হবে বায়ার্নকে। আর অন্তত দু’গোল হজম করলেও নিশ্চিন্তেই ফাইনালে নাম লেখাবে বার্সেলোনা।
নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে কখনো কঠিন পরীক্ষায় পড়েছিলো কি-না বায়ার্ন মিউনিখ তা ক্লাবের রেকর্ডই জানে। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমিফাইনালে দ্বিতীয় লেগে কঠিন এক পরীক্ষায় পড়তে যাচ্ছে বায়ার্ন এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। কারণ, চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ইতিহাসে কখনো সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে কোনো দল ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকে খেলতে নামেনি। এই প্রথমবারের মতো তা করতে যাচ্ছে বায়ার্ন।
নিজের কোচিং ক্যারিয়ারেও হয়তো এমন অবিশ্বাস্য কঠিন পরীক্ষায় কখনো পড়েননি বার্সেলোনার সাবেক ও বায়ার্ন মিউনিখের বর্তমান কোচ পেপ গার্দিওয়ালা। তার শিষ্যরাই তাকে এমন পরীক্ষায় ফেলে দিলো। তারপরও খেই হারাচ্ছেন গার্দিওয়ালা। সেই চেনারুপেই টেকনিকালি কথা বললেন দ্বিতীয় লেগ নিয়ে, ‘আমি বাস্তববাদী। জয় ছাড়া কোন পথ নেই। আমাদের এখনো স্বপ্ন বেঁচে আছে। আমাদের হাতে ৯০ মিনিট সময় রয়েছে। কাজটা সহজ হবে না। কিন্তু আমি যোদ্ধা, লড়াই করতে পছন্দ করি।’
কঠিন পরীক্ষার আগে কথা দিয়ে গার্দিওয়ালার মতো নিজেদের টগবগে রাখার চেষ্টা করছেন বায়ার্নের খেলোয়াড়রাও। সেই তালিকায় আছেন দুই স্ট্রাইকার টমাস মুলার ও বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার। ম্যাচ নিয়ে মুলার বলেন, ‘আমরা জানি অনেক বড় পরীক্ষা। কিন্তু সহজে হাল ছাড়ছি না।’
তবে মুলারের মতো লড়াইয়ের ঘোষণা দেননি শোয়েনস্টাইগার। অলৌকিকতার ওপরই নির্ভরতা দেখালেন তিনি, ‘মাঝে মাঝে ফুটবলে অবিশ্বাস্য কিছু ঘটে। আমরা আশার করছি ম্যাচের দিনও এমন কিছু ঘটবে। যা আমাদের পক্ষে আসবে।’
অবিশ্বাস্য কিছু ঘটে তা দলের পক্ষে যে আসবে, তেমন ইঙ্গিত কিন্তু নেই। কারণ, বায়ার্ন মিউনিখের বর্তমান ফর্ম তেমন ইঙ্গিত দিচ্ছে না। জার্মান কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ও বুন্দেস লীগা মিলিয়ে শেষ চার ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছে বায়ার্ন। প্রতিপক্ষের এমন হার নিজ কক্ষে বসেই দেখেছেন বার্সেলোনার কোচ লুইস এনরিক। তাতে নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না এনরিক। কারণ, গুুরত্বপূর্ণ সময়ে জ্বলে ওঠার সামর্থ্য রয়েছে বায়ার্নের বলে মনে করেন এনরিক, ‘তাদের হেরে যাওয়া ম্যাচগুলো আমি দেখেছি। শেষ ম্যাচের (অগসবার্গ) ৭০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলেছে তারা। অনেক কষ্ট করে ম্যাচটি খেলেছে বায়ার্ন। তারপরও প্রতিপক্ষ হিসেবে কঠিন দল বায়ার্ন। বড় বড় ম্যাচে ঘুড়ে দাড়ানোর সামর্থ্য তাদের রয়েছে। তাই দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি আমরা সহজভাবে নিচ্ছি না। জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলবো। গোল করার লক্ষ্য নিয়েই খেলবো।’
তিন গোলে এগিয়ে থেকেও আরও গোল করার ইঙ্গিত কিন্তু দিলেন বার্সা বস এনরিক। দেয়াটাই স¦াভাবিক। কারন নিজেদের শেষ পাঁচ ম্যাচে (চারটি স্প্যানিশ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ) ২১ গোল করেছে বার্সা। এ ম্যাচেও যে গোল করবে না তাই-বা কে জানে। ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন বার্সেলোনার সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। বায়ার্নের বিপক্ষে তার দু’টি চোখ ধাধাঁনো গোলই বলে দিচ্ছে মেসির জাত। তাই দ্বিতীয় লেগেও মেসিকে টেকাতে চেষ্টা চালাবে বায়ার্ন খেলোয়াড়রা। তাও অপরিকল্পতিভাবে। কারন বায়ার্ন কোচ গার্দিওয়ালা তো বলেই দিয়েছেন, ‘এই মেসিকে আটকানোর কোন ফর্মুলা আমার হাতে নেই।’ তাই হয়তো বার্সেলোনার পাশাপাশি মেসির কাছেও অবিশ্বাস্য এক পরীক্ষা দিতেই হবে বায়ার্ন মিউনিখকে।
জেডআই





