সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানেডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সমতায় ফিরেছে শ্রীলঙ্কা। বুধবার আমিলো আপনসোর অসাধারণ বোলিং, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের অলরাউন্ড নৈপুণ্য আর থিসারা পেরেরার দারুণ বোলিংয়ে ৮২ রানের জয় পায় স্বাগতিকরা।

এদিন জেমস ফকনারের হ্যাটট্রিক, ম্যাথু ওয়েডের ক্যারিয়ার সেরা ৭৬ রান অস্ট্রেলিয়ার হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। শ্রীলঙ্কার জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এসেছে ১-১ সমতা। রোববার ডাম্বুলায় হবে তৃতীয় ওয়ানডে।

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৭ বল বাকি থাকতে ২৮৮ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। জবাবে ৪৭ ওভার ২ বলে ২০৬ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।

১৬ রানের মধ্যে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দেন থিসারা পেরেরা। পাল্টা আক্রমণে যাওয়া স্মিথ বেশিক্ষণ টিকেননি। আপনসোর বলে মিড অনে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার ৩৩ বলে খেলা ৩০ রানের ইনিংস।

শুরু থেকেই নড়বড়ে জর্জ বেইলি বিদায় নেন থিতু হয়ে। বাঁহাতি স্পিনার আপনসোর বলে বোল্ড হওয়ার আগে ২৭ রান করতে তিনি খেলেন ৪৬ বল। দুই অঙ্কে যেতে পারেননি ময়জেস হেনরিকেস।

ট্যাভিস হেডের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়েন ওয়েড। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে আরও কঠিন হতে থাকে রান-বলের সমীকরণ। পেসাররা আবার আক্রমণ আসার পর চড়াও হতে গিয়ে ফিরে যান দুই জনই।

দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে ওয়েডকে বিদায় করে ৬৪ রানের জুটি ভাঙেন থিসারা। তার মতোই নিজের দ্বিতীয় স্পেলে আঘাত হানেন ম্যাথিউস। শ্রীলঙ্কর অধিনায়ক তিন বলের মধ্যে ফিরিয়ে দেন হেড ও মিচেল স্টার্ককে। বাকিটুকু সারতে বেশি সময় নেননি আপনসো। পরপর তুই ওভারে তুলে নেন অতিথিদের শেষ দুই উইকেট। ১৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আপনসোই শ্রীলঙ্কার সেরা বোলার।

এর আগে ১২ রানের মধ্যে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারানো শ্রীলঙ্কা প্রতিরোধ গড়ে ছন্দে থাকা দুই ব্যাটসম্যান কুসল মেন্ডিস ও দিনেশ চান্দিমালের ব্যাটে। দুই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের ১২৫ রানের জুটিতে একটু ধীরস্থির ছিলেন চান্দিমাল, সুযোগ পেলেই প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়েছেন মেন্ডিস।

সর্বশেষ পাঁচ ওয়ানডেতে চতুর্থ অর্ধশতক পাওয়া মেন্ডিস ফিরেছেন ৬৯ বলে ৯টি চারে ৬৯ রান করে। একটুর জন্য শ্রীলঙ্কার প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা ছয় ওয়ানডেতে অর্ধশতক পাননি চান্দিমাল। ৬৭ বলে ৪৮ করা এই ব্যাটসম্যানকে রিভিউ নিয়ে ফেরান অ্যাডাম জ্যামপা।

বড় জুটির পর ছোট ধসে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ২১ রানের মধ্যে মেন্ডিস-চান্দিমালের সঙ্গে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকেও হারায় স্বাগতিকরা। ষষ্ঠ উইকেটে কুসল পেরেরার সঙ্গে ১০৩ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন ম্যাচ সেরা ম্যাথিউস।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত রান সংগ্রহ করেন অর্ধশতক পাওয়া দুই ব্যাটসম্যান। এক সময়ে শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ২৬১ রান। সেখান থেকে তিনশ’ রান পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু ফকনারের হ্যাটট্রিক আর স্টার্কের জোড়া আঘাতে তত দূর যেতে পারেনি স্বাগতিকরা।

৪৬তম ওভারের শেষ বলে কুসল পেরেরাকে স্লোয়ারে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ফকনার। পরের ওভারে প্রথম বলে বিদায় করেন ম্যাথিউসকে। থিসারা পেরেরাকে বোল্ড করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার।

এমএনজে