বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্সের পর বাংলাদেশ সফরে এসে প্রথম ম্যাচেই হারল পাকিস্তান। তাও আবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একাদশের বিপক্ষে। জাতীয় দলের বিপক্ষে লড়াই শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে নাসিরদের কাছে এক উইকেটে হারল সফরকারীরা।
বুধবার ফতুল্লাহর খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের দেয়া ২৬৮ রানের জবাবে ৭ বল হাতে থাকতে ২৭০ রান জমা করে বিসিবি একাদশ।
১৯৮৬ সাল থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলছে বাংলাদেশ। এ পর্যন্ত ৩২টি ম্যাচ খেলেছে টাইগাররা। কিন্তু জয় মাত্র একটি। তাও সেই ১৯৯৯ বিশ্বকাপে। এরপর শুধু হারই দেখেছে বাংলাদেশ। জাতীয় দল সেই হারের গণ্ডি থেকে বের হতে না পারলেও পাকদেরকে ঠিকই ধরে দিয়েছে বিসিবি একাদশ।
বিপরীতে যেন মন্দ ভাগ্য নিয়ে বাংলাদেশে পা রেখেছে পাকিস্তানের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক আযহার আলী। দলকে নেতৃত্ব দেয়া প্রথম ম্যাচটিতেই হেরে গেলেন।
এদিন জবাবে ব্যাট করতে নেমে বিসিবি একাদশ মাত্র ৯ রানে দুটি উইকেট হারায়। জুনায়েদ খানের বলে ইয়াসির শাহ'র হাতে রনি তালুকদার (০) আউট হওয়ার পর রাহাত আলীর বলে এলবিডব্লিউ'র ফাঁদে পড়েন তামিম ইকবাল (৯)।
ওয়ানডাউনে মাঠে নামা লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে দরের রানের চাকা ঘুরানোর চেষ্টা করেন সাব্বির রহমান। কিন্তু ২২ রান করেই বিদায় নেন লিটন। মাঠে এসে ১২ রান করতেই সাজঘরে ফিরে যান মুমিনুল হক।
৮১ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বিসিবি একাদশ। এখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্স করা সাব্বির রহমান। ইমরুল কায়েসকে সঙ্গে নিয়ে দলের রানের চাকা ঘুরাতে থাকেন তিনি।
ইমরুল ৫৬ বলে ৩৬ রান করে বিদায় নিলে তাদের ১২৪ রানের জুটি ভেঙে যায়। তবে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা সাব্বির দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখান। তবে জুনায়েদ খান শিকারে পরিণত হন এই ব্যাটসম্যান। হারিস সোহাইলের হাতে ক্যাচ আউট হওয়ার আগে ৯৯ বলে ৭টি চার ও ৮টি ছক্কায় ১২৩ রান করেন।
সাব্বিরে পর শুভাগত হোমের (৫) ফিরতি ক্যাচ নিয়ে হ্যাটট্রিক করার সুযোগ পান জুনায়েদ। কিন্তু সোহাগ গাজী তাকে সফল হতে দেননি। মুক্তার আলী (১) আউট হলে ফের চাপে পড়ে যায় বিসিবি একাদশ।
শেষ পর্যন্ত সোহাগ গাজীর হাত ধরে জয়ের বন্দরের কাছাকাছি পৌঁছে স্বাগতিক দলটি। জয়ের জন্য মাত্র ৯ রান দূরে থাকতে সেই জুনায়েদেরই শিকার হন এই অল রাউন্ডার। বিদায় নেয়ার আগে ২৮ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৬ রান করেন তিনি।
মোহাম্মদ শহীদ (১২) ও তাইজুল ইসলাম (৬) দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।
পাকিস্তানের বোলার জুনায়েদ খান সর্বোচ্চ চারটি উইকেট পান।
এর আগে টস জয়ী পাকিস্তান ৫০ ওভারে ৯ উইকেটের বিনিময় ২৬৮ রান করে। তাদের শুরুটা দুর্দান্ত হলেও শেষ দিকে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বেশি দূর যেতে পারেনি তারা।
ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ ৮৫ রান করে আউট হন। এটাই তাদের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর। এছাড়া ফাওয়াদ আলম ৬৭ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের সেরা বোলার শুভাগত হোম ৭ ওভারে ৩৯ দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন।
জেডআই





