শেষ হলো রিয়াল মাদ্রিদের এক যুগের অপেক্ষার। নাটকীয় ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে সফল দলটি জিতে নিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাদের দশম শিরোপা ‘লা দেসিমা’।
শনিবার রাতে লিসবনে এ মৌসুমের রূপকথার যাত্রাটিকে সফল সমাপ্তির দিকেই নিচ্ছিল দিয়েগো সিমেওনের দল। দিয়েগো গদিনের হেডে এগিয়ে থেকে শেষ বাঁশি শোনার অপেক্ষায় থাকা আতলেতিকোকে হেড করেই হতাশায় ডোবান স্যার্হিও রামোস। অতিরিক্ত সময়ে রিয়ালের সঙ্গে আর পেরে ওঠেনি নগর প্রতিদ্বন্দ্বীরা। গ্যারেথ বেল, মার্সেলো আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর গোলে যোগ্যতর দল হিসেবে শিরোপা জিতে নেয় কার্লো আনচেলত্তির দল।
২০০২ সালের পর আবার ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট আবার সবচেয়ে সফল দলটির মাথাতেই।
চোটের কারণে অন্যতম ভরসা আরদা তুরান ছিলেন না। দিয়েগো কস্তাকে খেলানোর জুয়াটাও কাজে আসেনি। মাত্র নবম মিনিটে চোটের কারণে দলের সেরা স্ট্রাইকারকে মাঠ ছাড়তে হয়। তবুও নগর প্রতিদ্বন্দ্বীকে কোনো ছাড় দেয়নি আতলেতিকো। ম্যাচের প্রথম সুযোগটির জন্য তাই ৩২ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে এর আগে নয়বার ইউরোপ সেরার শিরোপা জেতা রিয়ালকে।
থিয়াগোর ভুল পাস মাঝপথেই আয়ত্বে এনে সুযোগটি তৈরি করেছিলেন গ্যারেথ বেল। বাঁ দিকে নিজের প্রিয় জায়গাতেই বল পেয়েছিলেন ওয়ালসের এই তারকা। কিন্তু বাইরে মেরে সুবর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া করেন তিনি।
চার মিনিট পর ইকার ক্যাসিয়াসের মারাত্মক এক ভুলে এগিয়ে যায় আতলেতিকো। দিয়েগো গদিনের হেড জায়গায় দাঁড়িয়ে খুব সহজেই ধরতে পারতেন স্পেনের অধিনায়ক। তা না করে এগিয়ে এসে বিপদমুক্ত করতে গিয়ে দলকে উল্টো বিপদে ফেলে দেন।
ক্যাসিয়াস এগিয়ে আসায় বল তার মাথার ওপর দিয়ে গোল লাইনের দিকে চলে আসে। তিনি ঘুরে বল ধরার আগেই গোললাইন পার যায় তা।
গত সপ্তাহে বার্সেলোনার বিপক্ষে সমতা ফেরানো গোলটি এসেছিল গদিনের হেড থেকেই। সেই গোলেই দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে লা লিগার শিরোপা জেতে আতলেতিকো।
২৬তম মিনিটে রোনালদোর প্রথম ফ্রি-কিক সহজেই ফিরিয়েছিলেন আতলেতিকোর গোলরক্ষক। ৫৩তম মিনিটে তার দ্বিতীয় ফ্রি-কিকটি কোনোমতে ঠেকান তিনি।
৬২তম মিনিটে সার্হিও রামোসের ক্রসে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি রোনালদো। ম্যাচের ৭৩ ও ৭৮ মিনিটে আরো দুটি সুযোগ হাতছাড়া করেন বেল।
সমতা ফেরাতে একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুলে রিয়াল। রক্ষণাত্মক খেলে প্রাণপন চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি আতলেতিকোর। যোগ হওয়া সময়ের তৃতীয় মিনিটে কর্নার থেকে রামোসের জোরালো হেড ম্যাচ নিয়ে যায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ে প্রথমার্ধে কোনো দলই পরিস্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তবে সব নাটকীয়তা অপেক্ষা করছিল দ্বিতীয়ার্ধে। ১০৯তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন এর আগে তিনটি পরিস্কার সুযোগ হাতছাড়া করা বেল।
অবশ্য গোলের কৃতিত্ব পুরো ম্যাচে অসাধারণ ফুটবল খেলা আনহেল ডি মারিয়ার। ক্ষিপ্ত গতিতে বল নিয়ে ছুটে মারিয়ার নেয়া শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন গোলরক্ষক করতোয়া। বল শূন্যে পেয়ে হেড করে জালে বল পাঠাতে কোনো ভুল করেননি বেল।
১১৮তম মিনিটে মার্সেলোর গোলে ব্যবধান বাড়ায় রিয়াল। বল নিয়ে এগিয়ে ডি বক্সের সীমানা থেকে নেয়া তার শটটিও ঠিকমতো ফেরাতে পারেননি করতোয়া। আর ১২০তম মিনিটে রোনালদোর সফল পেনাল্টি রিয়ালের জয় নিশ্চিত করে। প্রতিযোগিতায় এটি রোনালদোর রেকর্ড ১৭তম গোল।
১৯৭৪ সালে ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বে লড়াইয়ের বায়ার্নের কাছে হেরেছিল আতলেতিকো। ৪০ বছর পর আবার ফাইনালে হারল দলটি। এবার প্রতিযোগিতায় এটাই তাদের প্রথম হার।
রিয়ালের কোচ কার্লো আনচেলত্তির এটি তৃতীয় শিরোপা। এর অগে ইউরোপ তিনবার সেরার শিরোপা জেতার কৃতিত্ব ছিল কেবল লিভারপুলের বব পাইসলির।
[b]ঢাকা,২৫ শে মে (টাইম নিউজবিডি.কম)/কেএ[/b]
খেলা
আতলেতিকোর স্বপ্ন ভেঙে রিয়ালের লা দেসিমা
শেষ হলো রিয়াল মাদ্রিদের এক যুগের অপেক্ষার। নাটকীয় ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে সফল দলটি জিতে নিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাদের দশম শিরোপা ‘লা দেসিমা’।





