অবশেষে ঘাম ঝড়িয়ে জয় পেল বাংলাদেশ। ৭ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান করে স্বাগতিকরা। আর প্রথম টেস্টটিও ৩ উইকেটে জিতে নেয় তারা। এর আগে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে দলীয় স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না হতেই সাজঘরে ফেরেন তামিম ইকবাল। চিগুম্বুরার বলে টেইলরের কাছে সহজ ক্যাচ তুলে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন গত ইনিংসে ৫ রান করা তামিম। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে পানিয়াঙ্গারা বোল্ড আউট করে সাজঘরে ফেরত পাঠান শামসুর রহমানকে। আর পরের ওভারে চিগুম্বুরা নিজের বলে নিজেই ক্যাচ ধরে মুমিনুলকে ফেরত পাঠান।

 ১০১ রানের টার্গেটে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুন্য রানেই তিন উইকেট পড়ে স্বাগতিকদের। এরপর ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন মাহামুদুল্লাহ এবং সাকিব আল হাসান। দুজনে জুটি গড়েন ৪৬ রানের। সাকিব চাতারার বলে স্লিপে দাঁড়ানো নাইম্বুর হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১৫ রানে আউট হন। চা বিরতির আগে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল আরো ৩৯ রান। ব্যাটিং ক্রিজে অপরাজিত ছিলেন টাইগার দলপতি মুশফিক এবং মাহামুদুল্লাহ।

বিরতি থেকে ফিরে দলীয় ৬২ রানে আর ব্যক্তিগত ২৮ রানে চিগুম্বুরার বলে বোল্ড হন মাহামুদুল্লাহ। একই ওভারে শুভাগত হোমকেও ফেরান তিনি। দলীয় ৮২ রানের মাথায় শাহাদাত হোসেন পানিয়াঙ্গারার বলে টেইলরের হাতে ধরা দেন। এর আগে তরুণ বাঁহাতি অফস্পিনার তাইজুল ইসলামের স্পিন ঘূর্ণিতে মাত্র ১১৪ রানে সবকটি উইকেট হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে।

তৃতীয় দিনের শুরুতে সকাল থেকেই তাইজুলের একের পর এক আঘাতে নাস্তানাবুদ হতে হয় জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের। ১৬ ওভার পাঁচ বলে তাইজুল নিয়েছেন ৮ উইকেট। কোনো বাংলাদেশি বোলারের এক ইনিংসে এটাই সর্বোচ্চ উইকেট প্রাপ্তি।

জিম্বাবুয়ের বাকি দুটি উইকেট ফেলেছেন নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও পেসার শাহাদাত হোসেন। দুজনেই পেয়েছেন একটি করে উইকেট। দিনের শুরুতে সকাল বেলায় মাত্র ৫৮ রানেই জিম্বাবুয়ে হারিয়ে ফেলে প্রথম সারির পাঁচজন ব্যাটসম্যানকে। এরপর মধ্যাহ্ন বিরতির আগে পর্যন্ত সফরকারীরা সাত উইকেট হারিয়ে ৯৪ রান তুলে বিরতিতে যায়।

এর আগে ব্যাটিং ক্রিজে আগের দিনের অপরাজিত দুই অতিথি ব্যাটসম্যান রেগিস চাকাভা এবং ভুসি সিবান্দা নতুন দিন শুরু করেছিলেন। সিবান্দাকে (১৪ রান) উইকেটের পিছনে মুশফিকের ক্যাচে পরিণত করেন তাইজুল ইসলাম। এরপর প্রায় ১৮ মাস পরে জাতীয় দলের টেস্ট দলে ফেরা শাহাদাত হোসেন সরাসরি বোল্ড আউট করেন মাসাকাদজাকে। অভিজ্ঞ মাসাকাদজা আউট হওয়ার আগে করেন মাত্র ৫ রান।

দ্বিতীয় ইনিংসে ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা সিকান্দার রাজাকে সাকিবের তালুবন্দি করে সাজঘরে ফেরত পাঠান তাইজুল। রাজা আউট হওয়ার আগে করেন ৩২ বলে ২৫ রান। আর রাজাকে ফেরত পাঠিয়ে তাইজুল তার ব্যক্তিগত দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন। এক ওভার পর আবারো তাইজুলকে আক্রমণে নিয়ে আসেন মুশফিক। আর সেই সুযোগে একই ওভারে চাকাভা এবং চিগুম্বুরাকে সাজঘরে পাঠান তাইজুল।

এরপর ৩৪ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দিচ্ছিলেন আরভিন ও টেইলর। কিন্তু তাইজুলের ঘূর্ণি যাদুতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন আরভিন (১০ রান)। এটি ছিল তাইজুলের পঞ্চম উইকেট। তাইজুলের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হওয়া জিম্বাবুয়ে দলীয় ৯৩ রানের মাথায় তাদের সপ্তম উইকেট হারায়। নাইম্বুকে মুশফিকের হাতে ধরা দিতে বাধ্য করেন সাকিব।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ২৫৪ রানে থামিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল জিম্বাবুয়ে। আগের দিনের ৫ রান নিয়ে সোমবার তৃতীয় দিন শুরু করে সফরকারীরা। এর আগে বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিনে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৪ রানের লিড নিয়েছিল।

প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়েকে ২৪০ রানে গুটিয়ে দিয়ে মুমিনুল হক, মাহামুদুল্লাহ এবং মুশফিকের অর্ধশতকে ব্যাটিং ব্যর্থতার চরম পরিচয় দিয়ে স্বাগতিকরা ২৫৪ রানে থেমে গিয়েছিল।

জেআই