মাশরাফির সৌভাগ্য, না মুশফিকের দুর্ভাগ্য! বিশ্বকাপের চার মাস আগে মাশরাফির ওয়ানডের অধিনায়কত্ব পাওয়া সৌভাগ্যের! নাকি মুশফিকের অধিনায়কত্ব হারানো দুর্ভাগ্যের! তা বলা যাচ্ছে না। তবে মাঠের পারফরম্যান্স তাদের দুজনের মুখে হাসি ফোটাবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে।
চলতি বছরে মুশফিকের অধীনে ১৩টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। যার ১২টিতেই হার। একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। তবে অনেকগুলো ম্যাচই বাংলাদেশ জয়ের মুখ দেখতে পারত। শ্রীলঙ্কাকে ১৮০ ও ভারতকে ১০৫ রানে আটকে দিয়েও জয়ের মুখ দেখেনি মুশফিকের দল। আবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩২৬ রান করেও পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। হারতে হয়েছে দুর্বল আফগানিস্তানের বিপক্ষেও।
যাক, সেসব পুরোনো কথা। নতুন অধিনায়কের নেতৃত্বে শুক্রবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। পাঁচটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে দুই দল। এর আগে টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইট-ওয়াশ হয়েছেন সফরকারীরা। একই সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটিও হেরেছে জিম্বাবুয়ে। সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের সামনে ভঙ্গুর জিম্বাবুয়ে।
কয়েক দিন আগেও বাংলাদেশের খেলা হলে মাঠে নেমে উইকেট দেখতেন মুশফিকুর রহিম। বৃহস্পতিবার সেই কাজটিই করলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। দুপুরে অনুশীলনে নামার আগে ম্যাচ উইকেট ভালোভাবে পরখ করে নিলেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি। উইকেটের দিকে গভীর মনোযোগে অনেকক্ষণ তাকিয়ে নিজের পরিকল্পনা হয়তো সাজিয়ে নিয়েছেন।
এর আগে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন মাশরাফি। তবে ইনজুরির কারণে অধিনায়কত্ব হারাতে হয় তাকে। মাশরাফির অধীনে বাংলাদেশ সাতটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে। জয়-পরাজয়ের রেকর্ড ৩ : ৪।
নতুন অধীনের হাত ধরে বাংলাদেশের ভাগ্যের চাকা ঘুরবে, এমনটিই প্রত্যাশা করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। মাশরাফি বিন মর্তুজাও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জিততে আত্মবিশ্বাসী।
তবে আশার বাণী হচ্ছে, সিনিয়র ক্রিকেটাররা ফর্মে রয়েছেন। ওপেনার তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মাশরাফি সবাই ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন। তামিম টেস্ট সিরিজে শতকের দেখা পান। সাকিব নিজের প্রত্যাবর্তন সিরিজের সেরা নির্বাচিত হন। আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ টেস্ট সিরিজে করেছেন ২৬৪ রান। সব মিলিয়ে পুরো দলই ফিট।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশই। ৫৯ ম্যাচ খেলেছে দুই দল। বাংলাদেশের ৩১ জয়ের বিপরীতে জিম্বাবুয়ের জয় ২৮। ২৮টি জয়ের ১১টি এসেছে বাংলাদেশের মাটিতে।
তবে দুই দলের সর্বশেষ মুখোমুখিতে জয় পেয়েছে জিম্বাবুয়ে এবং সিরিজও জিতেছিল তারা। ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে প্রথম ম্যাচ জেতার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ হেরে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারায়।
ফর্মের সঙ্গে টিম বাংলাদেশ সিরিজ জয়ের ব্যাপারেও বেশ আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইট-ওয়াশ হওয়ায় সফরকারীরা খানিকটা পিছিয়ে থাকবেন। এমনটি জানিয়েছেন ওপেনার এনামুল হক বিজয়। চলতি বছরে দুটি শতক পাওয়া এনামুল জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিংয়ের সময় শিশিরের কারণে বোলারদের খানিকটা সমস্যা হবে। বল ঠিকমতো গ্রিপ করা যাবে না। তাই দিবারাত্রির ম্যাচগুলোতে টসগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ স্কোয়াড: মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান রুম্মন, ইমরুল কায়েস, আল-আমিন হোসেন, রুবেল হোসেন, আরাফাত সানি ও জুবায়ের হোসেন লিখন।
জিম্বাবুয়ে স্কোয়াড: এলটন চিগুম্বুরা (অধিনায়ক), ব্রেন্ডন টেইলর, সিকান্দার রাজা, রেগিস চাকাবভা, টেন্ডাই চাটারা, ক্রেইগ আরভিন, টাফাজয়া কামুনগোজি, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, রিচমন্ড মুতুমবামি, জন নিউম্বু, টিনাশে পানিয়াঙ্গারা, ভুসিমুজি সিবান্দা, নেভিল মাডজিভা, টিমিসেন মারুমা, সলোমন মায়ার, পিটার মুর।
জেআই





