পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডের পর এবার টি-টোয়েন্টিতে জয়ের গেরো খুলল বাংলাদেশ। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এই প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে জয় পেল টাইগাররা।

শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের দেয়া ১৪২ রানের জবাবে ১৬.২ ওভারে সাত উইকেট হাতে থাকতে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

এই ম্যাচের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাতটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু একটিতেও জয়ের দেখা পায়নি। অবশেষে সেই জয় খরা ঘুঁচিয়ে দিলেন মাশরাফিরা।

এদিন জবাবে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ হাফিজের দ্বিতীয় বলে ছক্কায় দিয়ে রানের খাতা খোলেন তামিম। পরের দুই বলে আরো দুটি চার। পঞ্চম বলে রান নিতে গিয়ে সাঈদ আজমলের হাতে আউট হন সৌম্য।

তৃতীয় ওভারে উমর গুলের দ্বিতীয় বলে স্লিপে মোহাম্মদ হাফিজের তালুবন্দী হয়ে মাঠ থেকে বিদায় নেন ১০ বলে ১৪ রান করা তামিম।

মুশফিক ও সাকিব দলের রানের চাকা ঘুরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে ওয়াহাব রিয়াজের চতুর্থ বলে ইনসাইডের ফলে বোল্ড হন মি. ডিপেন্ডবল মুশফিক। মাঠ ছাড়ার আগে ১৫ বলে ৪টি চারে ১৯ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি।

মাত্র ৩৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া টাইগার বাহিনীর হাল ধরেন সাকিব ও সাব্বির। টাইফুন তোলা ব্যাট করে মাত্র ৬৪ বলে ১০৫ রানের জুটি গড়ে দলকে জয় এনে দেন তারা।

টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথম অর্ধশতক পূর্ণ করা সাব্বির ৫১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। ৩১ বলে ৭টি চার ও একটি ছক্কায় এই স্কোর করেন তিনি।

এদিকে ক্যারিয়ারের পঞ্চম অর্ধশতক করা সাকিব ৪১ বলে ৯টি চারে ৫৭ রান নিয়ে খেলা শেষ করেন।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটের বিনিময় ১৪১ রান সংগ্রহ করেছে পাকিস্তান।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিলেন পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটির মুখতার আহমেদ ও আহমেদ শেহজাদ। গড়ে তোলেন ৫০ রানের জুটি।

অবশেষে ৯ম ওভারে তাসকিনের শেষ বলে দুর্দান্ত অকল্পনীয় এক ক্যাচ ধরে শেহজাদকে বিদায় করে দেন টাইগার নেতা মাশরাফি। ৩১ বলে মাত্র ১৭ রান করে শেহজাদ।

১১তম ওভারে অভিষিক্ত মুস্তাফিজুর রহমানের চতুর্থ বলে উইকেটরক্ষক মুশফিকের হাতে ক্যাচ আউট হন শহীদ আফ্রিদি। ৯ বলে একটি ছক্কায় ১২ রান করেই সাজঘরে ফিরেছেন পাক অধিনায়ক।

১৩তম ওভারে আরাফাত সানির প্রথম বলে মুশফিকের হাতে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে মাঠ থেকে বিদায় নেন পাকিস্তানের ওপেনার মুখতার আহমেদ। এর আগে ৩০ বলে ৫টি চার ও একটি ছক্কায় ৩৭ রান করেন।

চাপে পড়ে যাওয়া পাকিস্তান দলের হাল ধরেন হারিস সোহাইল ও মোহাম্মদ হাফিজ। চতুর্থ উইকেটে মাত্র ৩৪ বলে ৪৯ রানের জুটি গড়ে তোলেন। ১৮ বলে ২৬ রান করা হাফিজকে এলবিডব্লিউ'র ফাঁদে ফেলে তাদের জুটি ভেঙে দেন বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজ।

শেষ বলে রান আউট হন ৮ রান করা তানভীর সোহাইল। ২৪ বলে ৩০ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন হারিস সোহাইল।

বাংলাদেশের সেরা বোলার ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে দুটি উইকেট শিকার করেন। একটি করে উইকেট পান আরাফাত ও তাসকিন।

জেডআই