দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সিরিজে সমতায় এনেছে বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে আট উইকেটে হারলেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সাত উইকেটে জিতেছে তারা।

রোববার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ৪৬ ওভারে সব উইকেটে হারিয়ে মাত্র ১৬২ রান করে টসজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে সৌম্য সরকার ও মাহমদুল্লাহর রেকর্ড গড়া জুটিতে ২৭.৪ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ১৬৭ রান জমা করে টাইগাররা।

অল্প রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে প্রোটিয়া বোলার রাবাদার প্রথম বলেই বোল্ড হন তামিম (৫)। চতুর্থ ওভারে সেই রাবাদার বলে বোল্ড হন লিটন দাস (১৭)।

তবে সৌম্য সরকার ও মাহমুদুল্লাহ দলের হাল ধরেন। ধীরে ধীরে দলের স্কোর হাফ-সেঞ্চুরি থেকে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তারা গড়ে তোলেন ১৩৫ রানের জুটি। এটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যেকোনো জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি।

সৌম্য সরকার আগেই হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন। পরে মাহমুদুল্লাহরও হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ হয়। কিন্তু ৫০ রান পূর্ণ করার পরের বলেই হামলার হাতে ক্যাচ আউট হন।

মাহমুদুল্লাহ যখন বিদায় নেন তখন দলের জয়ের জন্য দরকার মাত্র ৩ রান। ফলে সাকিব মাঠে এসে রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ইমরান তাহিরের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন সৌম্য। ৮০ বলে ১৩টি চার ও একটি ছক্কায় ৮৮ রান করে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে পঞ্চম ওভারে মুস্তাফিজের প্রথম বলেই ক্যাচ তুলে দেন ডি কক (২)। সেটি লুফে নিতে ভুল করেননি সাব্বির রহমান।

ডু প্লেসিসকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা ঘুরানোর চেষ্টা করেন আমলা। কিন্তু ১৩তম ওভারের প্রথম বলে সরাসরি তাকে বোল্ড করে দনে রুবেল হোসাইন। ৩৭ বলে মাত্র ২২ রান করেন প্রোটিয়া অধিনায়ক।

১৯তম ওভারে নাসিরের হাতে বল তুলে দেন দলনেতা মাশরাফি। প্রথম বলেই রুশোকে বোল্ড করে দিলেন তিনি। মাঠ ছাড়ার আগে মাত্র ৪ রান করেন রুশো।

২৪তম ওভারে বল করতে এসেই উইকেট নিলেন মাহমুদুল্লাহ। তার পঞ্চম বলে মিলারের (৯) দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন মাশরাফি।

২৬তম ওভারে মাহমুদুল্লাহর বলে ডু প্লেসিস নিশ্চিত এলবিডব্লিউ'র ফাঁদে পড়লেও আম্পায়ার অজানা কারণে আউট দেননি। রিভিউ নিলে দেখা যায় মিডল স্টাম্প উড়ে যেত, তারপরও উইকেট বঞ্চিত হয় টাইগাররা।

তবে ২৯তম ওভারে নাসিরের বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে সৌম্য সরকারের তালুবন্দী হন। ফলে শেষ হয়ে যায় তার ৪১ রানের ইনিংস।

৩১তম ওভারে নাসিরের তৃতীয় বলে বেহারদাইনকে এলবিডব্লিউ আউট দেয়া হলেও রিভিউতে সেটা বাতিল হয়ে যায়। তবে ৩২তম ওভারে মুস্তাফিজের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান ১৩ রান করা ডুমিনি।

ক্রিস মরিস মাঠে এসে অন্যদের চেয়ে ভিন্নপথে হাঁটা শুরু করেন। কিন্তু তার মারমুখী ব্যাটিং থেমে যায় রুবেলের বলে এলবিডব্লিউ'র ফাঁদে পড়লে।

অন্যরা নিয়মিত বিরতিতে মাঠ থেকে বিদায় নিলেও ব্যতিক্রম ছিলেন বেহারদেইন। তার ব্যাটেই ভর করে দলীয় স্কোর ১৫০ পার হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে টিকতে দেননি মাশরাফি। ৪৬তম ওবারের শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিযে নাসিরের হাতে ক্যাচ আউট হন এই ব্যাটসম্যান। মাঠ ছাড়ার আগে ৪৪ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ৩৬ রান করেন তিনি।

বাংলাদেশের বোলার মুস্তাফিজুর রহমান ও নাসির হোসাইন তিনটি করে উইকেট পান। দুটি উইকেট নেন রুবেল হোসাইন। মাশরাফি ও মাহমুদুল্লাহ নেন বাকি উইকেট দুটি।

জেডআই