সন্তান সম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে সাকিব আল হাসানের জিম্বাবুয়ে সিরিজ খেলা নিয়ে ছিল সংশয়। কিন্তু সাকিব জানালেন, স্ত্রী শিশিরই তাকে পাঠিয়েছেন দেশের হয়ে খেলতে।

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ে এখন আছেন সাকিব আল হাসান, যেটির সঙ্গে তুলনীয় নয় কিছুই। পিতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার অপেক্ষায় রোমাঞ্চ নিয়ে প্রহর গুণছেন সাকিব।

চিকিৎসকের দেওয়া তারিখ অনুযায়ী আগামী ২১ নভেম্বর পৃথিবীর আলোয় আসার কথা সাকিব-শিশির দম্পতির প্রথম সন্তানের। বিসিবিও এই সময়টায় পাশেই ছিল সাকিবের।

চাইলেই সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে জিম্বাবুয়ে সিরিজে ছুটি নিতে পারতেন সাকিব। স্ত্রীর সঙ্গে থাকতে পারতেন যুক্তরাষ্ট্রেই।

কিন্তু অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজ খেলতেও ছুটে এসেছেন সাকিব। গত শনিবার রাতে দেশে ফিরেছেন। পর দিন দলের অনুশীলন না থাকলেও অনুশীলন করেছেন একা।

সোমবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করলেন দলের সঙ্গে। এরপর মুখোমুখি হলেন সংবাদমাধ্যমের। জানালেন, যার পাশে থাকার জন্য ছুটি দরকার ছিল, সেই শিশিরের অনুরোধেই এই সিরিজ খেলতে এসেছেন তিনি।

“আমার স্ত্রীর সাহায্যটাই ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে-ই আমাকে বলেছে, ‘তুমি যাও। যদি জরুরি কিছু হয়, তাহলে আবার চলে এসো।’ ওর কারণেই আসলে আসা হয়েছে দেশে।”

এই সময়ে নিশ্চয়ই সাকিবকে সবসময় পাশে চেয়েছিলেন শিশির। কিন্তু সাকিবের মন পড়তে পেরেছিলেন বলেই হয়ত অনুরোধ করে পাঠিয়ে দিয়েছেন দেশের হয়ে খেলতে।

“ছুটি নেওয়ার সুযোগ তো ছিলই। কিন্তু সে (শিশির) আমাকে বলেছে, ‘তুমি এখানে বসে টিভিতে খেলা দেখলে চেহারার যে অবস্থা হবে, সেটা আমার দেখতে ভালো লাগবে না। তার চেয়ে তুমি গিয়ে খেল’।”

খুব জরুরি কিছু না হলে তাই জিম্বাবুয়ে সিরিজ শেষ করে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন সাকিব। জানালেন, স্ত্রী শিশির খুব ভালো ও সুস্থ আছেন। তাই খুব বেশি টেনশনের কিছু নেই তার।

তবে রোমাঞ্চ আছে। বাবা হওয়ার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রোমাঞ্চে ডুবে যাচ্ছেন আরও বেশি করে। সঙ্গে যোগ হয়েছে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রোমাঞ্চ। সাকিব নিজেই জানালেন জোড়া রোমাঞ্চের কথা।

“খুবই রোমঞ্চিত আমি। এখন সিরিজ আছে, এটা নিয়ে রোমাঞ্চিত। আর ওটা (বাবা হওয়া) নিয়েও রোমাঞ্চিত। রোমাঞ্চের মাত্রা তাই একটু বেশি।”

এমআর