সাবেক ক্রিকেটার, বাংলাদেশে ক্রিকেট কোচিংয়ের অগ্রদূত ও জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আলতাফ হোসেন আর নেই।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে ৮১ বছর বয়সে তিনি মারা গেছেন। রাতে শরীর খারাপ হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বুধবার বাদ যোহর মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা হবে নাজিম উদ্দিন রোডের হোসনি দালান মসজিদে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা বিকেল সাড়ে তিনটায়।
১৯৩৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে তার জন্ম। দেশভাগের পর পুরো পরিবার চলে আসে এই বাংলায়। খেলোয়াড়ি জীবনে আলতাফ হোসেন ছিলেন পেসার, তবে ব্যাটিংয়ের হাতও মন্দ ছিল না। ১৯৫৪ সালে কায়েদে আজম ক্লাবের হয়ে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু। এরপর খেলেছেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স, পিডব্লিউডি, ইস্ট পাকিস্তান জিমখানা ও শান্তিনগর ক্লাবে।
ক্রিকেটের পাশাপাশি একসময় ফুটবল খেলেছেন ঢাকার তৃতীয় বিভাগে, দাপটের সাথে খেলেছেন বাস্কেটবলও। তবে শেষ পর্যন্ত থিতু হন ক্রিকেটেই।
১৯৬৫ সালের মার্চে আসে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের মাহেন্দ্রক্ষণ। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ডাক পান পাকিস্তান টেস্ট দলে। জায়গা পান নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে। খেলার সুযোগ যদিও পাননি, বাইরেই বসিয়ে রাখা হয়েছিল।
১৯৬১ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান দলের অন্যতম ভরসা হয়ে ছিলেন তিনি। টুকটাক ক্রিকেট খেলে গেছেন ১৯৮২ সাল পর্যন্ত। খেলেয়াড়ি জীবনেই ১৯৭০ সালে শুরু করেন আম্পায়ারিং। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের আম্পায়ার হয়ে পরিচালনা করেছেন প্রথম শ্রেণির ম্যাচ।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিযুক্ত হন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোচ। পরে কোচ হিসেবে নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে, তার খেলোয়াড়ী জীবনও অনেকটা আড়াল হয়ে গেছে কোচ হিসেবে সাফল্যে। যাদের হাত ধরে গড়ে উঠেছে স্বাধীন বাংলাদেশের মাঠের ক্রিকেট, তাদের অন্যতম ছিলেন তিনি। ভারতের পাতিয়ালায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টস থেকে কোচিং কোর্স করে আসা বাংলাদেশের প্রথম কোচ তিনি। পরে কোচিং কোর্স করে এসেছেন ইংল্যান্ড থেকেও।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোচ হিসেবে কাজ করেছেন ১৯৭৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত। আশির দশকে অনেকবারই বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯০ এশিয়া কাপেও ছিলেন বাংলাদেশ দলের ডেপুটি ম্যানেজার কাম কোচ। ‘এ’ দল ও বয়সভিত্তিক দলগুলির দায়িত্বে ছিলেন অনেকবার।
বাংলাদেশে মহিলা ক্রিকেট চালুর অন্যতম অগ্রদূতও আলতাফ হোসেন। ১৯৮৩ সালে ঢাকা আবাহনী দল নিয়ে গেছেন কলকাতায়। ১৯৯৭ সালে তাকেই মহিলা দল গড়ে তোলার দায়িত্ব দেয় বিসিবি। ২০০৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থেকে চেষ্টা করেছেন মহিলা ক্রিকেটের ভিত শক্ত করার।
১৯৯৯ সালে পেয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার। দেশের ক্রীড়ার সর্বোচ্চ এই স্বীকৃতি পাওয়া প্রথম ক্রিকেট কোচ ছিলেন তিনিই।
২০০৯ সালে মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর কোমায় ছিলেন প্রায় ২৪ ঘণ্টা। সে যাত্রায় ফিরে এলেও শরীরে বাসা বেধেছিল নানা ব্যাধি। শেষ পর্যন্ত অমোঘ নিয়তি মেনে নিতেই হলো।
তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।





