দ্বিতীয় সেমিফাইনালে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। শেষ পর্যন্ত বড় ম্যাচের চাপই তাদের জন্য কাল হয়েছে বলে মনে করছেন ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার সাত উইকেটে গড়া ৩২৮ রানের সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে ৪৭তম ওভারে ২৩৩ রানেই গুটিয়ে যায় ধোনির দল। সর্বোচ্চ ৬৫ রানের ইনিংস খেললেও দলের হার এড়াতে পারেননি ভারতীয় অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে ধোনি বলেন, ‘ওরা (অস্ট্রেলিয়া) খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। তিনশর বেশী রান সব সময়ই দুরূহ স্কোর। ওরা হয়তো সাড়ে তিনশ’ রানও করতে পারতো।’
বৃহস্পতিবার ভারতের শুরুটা ভালোই ছিল। প্রথম ১৩ ওভারে ৭৬ রানের ভালো উদ্বোধনী জুটি উপহার দেন রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। ৪৫ রান করে ধাওয়ানের বিদায়ের পর হোঁচট খাওয়া শুরু হয় ভারতের। শেষ পর্যন্ত তারা হারে ৯৫ রানে। এ বিষয়ে ধোনি বলেন, ‘আমাদের শুরুটা ঠিক ছিল কিন্তু ওরা ভালো বল করেছে। তবে সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের পারফরমেন্সে আমি খুবই খুশি।’
তবে ভারতীয় অধিনায়ক মনে করেন ধাওয়ান সে সময় আউট না হলে অস্ট্রেলিয়ার বোলিংকে চাপে ফেলা যেত। এ বিষয়ে তিনি বলেন , ‘ওই সময় বড় শট খেলার প্রয়োজন ছিল না। তবে সব মিলিয়ে ৩২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করায় চাপ থাকেই। আর চাপে আপনি এমন কিছু করে ফেলেন যা করতে চান না।’
বিশ্বকাপ শুরুর আগে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার কাছে টেস্ট সিরিজে হারের পর টেস্ট ক্রিকেট থেকে হুট করেই অবসর নিয়েছিলেন ধোনি। আর তাই সেমিফাইনাল ম্যাচটির আগে মিডিয়ায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল যে এই ম্যাচ হারলে তিনি ওয়ানডে ক্রিকেটকেও বিদায় জানাবেন। তবে নিকট ভবিষ্যতে সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে খেলার ব্যাপারে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেননি ধোনি।
তবে আগামী বছর ভারতে হতে যাওয়া টি২০ বিশ্বকাপের দিকে তার নজর থাকার কথা জানান। সেই সময় আগামী বিশ্বকাপের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন ভারতের সবচেয়ে সফল এই অধিনায়ক। এ ব্যাপারে ধোনি বলেন, ‘আপনাদের (সাংবাদিকদের) উচিত ভাল করে গবেষণা করার পর কোনো কিছু সম্পর্কে লেখালেখি করা। তাহলে সত্য বিষয়টি লিখতে পারবেন। অবসর নেয়ার জন্য যে দিনটিকে বেছে নেব, সেদিন আমি হাসিমুখে ব্যাগ কাঁধে হাঁটতে শুরু করব।
জেআই





