আবুল কাসেম। একজন বাবা। সব বাবারাই সন্তানের উজ্জল ভবিষ্যতের জন্য চিন্তিত থাকেন। তিনিও ছিলেন। পাঠকরা ভবছেন কে এই আবুল কাসেম, কেনই বা তার এতো আলোচনা। হ্যা তিনিই আমাদের সোনার ছেলে মুস্তাফিজুর রহমানের বাবা।
ছেলেকে নিয়ে অনেক চিন্তা ছিল। ঠিক মতো পড়ালেখা করত না। দিন ভর শুধু খেলা, আর খেলা। স্কুল পালিয়ে কাজ ফাঁকি দিয়ে শুধু ক্রিকেটের পেছনেই পড়ে থাকত। সবার ছোট এই ছেলেটিকে নিয়ে বাবা আবুল কাসেমের যতো টেনশন।
বাবা আবুল কাসেম চেয়েছিলেন, ছেলে মুস্তাফিজুর রহমানকে পড়াশোনা করিয়ে বড় চিকিৎসক বানাবেন। সবর মুখ উজ্জল করবেন। কিন্তু ছেলে পড়ালেখা না করায় তাকে নিয়েই আবুল কাসেমের সব টেনশন। বাবা সেই টেনশন এখন আর নেই বলেই জানালেন আবুল কাসেম।
বাবা চিকিৎসক বানাতে চাইলেও কিন্তু বাবার স্বপ্নের পথে না হেঁটে চলেছেন নিজের পথে। স্কুল পালিয়ে ক্রিকেট খেলতেন, মেতে থাকতেন অনুশীলনে। বাবার কথা না শোনা সেই মুস্তাফিজুর রহমান ভারতের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। আর দ্বিতীয় ম্যাচে ছয় উইকেট। দুই ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে গড়েছেন ক্রিকেটের নতুন ইতিহাস।
বাবা আবুল কাসেমের আর আক্ষেপ নেই। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার চিকিৎসক এক আত্মীয় ফোন করে বলেছেন, চিকিৎসক হয়ে মানুষের মনে স্থান করে নিতে পারিনি। কিন্তু মুস্তাফিজ এখন বাংলাদেশের সবার অন্তরে ঠাঁই করে নিয়েছে।
আবুল কাসেম বলেন, আমার সব থেকে পছন্দের খেলোয়াড় পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদি। দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন তিনি। সেই শহিদ আফ্রিদিকে যখন আমার ছেলে আউট করে দিল, তখন আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলাম।
সাতক্ষীরা শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে কালীগঞ্জের তারালি ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে মুস্তাফিজদের বাড়িটি এখন উৎসবের কেন্দ্রস্থল। বাড়িতে পাড়া-পড়শী, কাছের-দূরের সব শ্রেণি-পেশা-বয়সের মানুষের ভিড়।
আবুল কাসেম বলেন, স্কুলে তেমন মনোযোগ ছিল না মুস্তাফিজের। ক্রিকেট খেলার খুব ভক্ত ছিল। ক্লাস নাইনে ওঠার পর সে অনেকের নজরে আসে। স্কুলে যাওয়ার নাম করে ক্রিকেট খেলতে যেত।
তিনি বলেন, ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হোক। পরে দেখি ভালো খেলছে। প্রিমিয়ার লিগে ডাক পেল। এ রকমই হঠাৎ শুনতে পেলাম টি-টোয়েন্টিতে খেলার সুযোগ পেয়েছে মুস্তাফিজ।
এখন কেবল হেসেই যাচ্ছেন কাসেম। চোখে-মুখে রাজ্যের প্রশান্তি।
রবিবার রাতেও মুস্তাফিজদের বাড়িতে ছিল ভিড়। মুস্তাফিজের ঘরে সাজানো তার অর্জন করা ট্রফিসহ বিভিন্ন পুরস্কার। প্রতিবেশীরা তো বটেই গ্রামের মানুষ আসছে মুস্তাফিজদের বাড়ি দেখার জন্য।
মুস্তাফিজ বিদ্যালয়ে মনোযোগী ছিলেন না। কিন্তু মুস্তাফিজের বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও চলে এসেছেন তাঁদের বাড়িতে। মুস্তাফিজের কারণে আজ গর্বিত সবাই।
এসএইচ





