বাংলাদেশে এ যাবতকাল পর্যন্ত যতগুলো ক্রিকেট দল এসেছে তাদের রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়েছে বিসিবি। শুধু নিরাপত্তা না, যেসব সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা না সেসবও দিয়েছে। আতিথীয়তায় সবসময় বিদেশী দলগুলোকে মুগ্ধ করেছে ক্রিকেট বোর্ড।

বিদেশী দলগুলোর দায়িত্বে থাকা লিঁয়াজো অফিসারদেরও চাকরির অফার দিয়েছে অতিথীরা। আজ পর্যন্ত নিরাপত্তার অজুহাতে কখনো বাজে কোনো কথাও শুনতে হয়নি আয়োজক বাংলাদেশকে।

সাফল্যের সঙ্গে ২০১১ ও ২০১৪ বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে বোর্ড। আইসিসির বোর্ড সভায় এ নিয়ে প্রশংসাও শুনেছেন বোর্ড কর্তারা। সেই বাংলাদেশে পরপর দু’বার সফর নিরাপত্তার অজুহাতে বর্জন করল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

অক্টোবরে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের। এবার জানুয়ারিতে আসার কথা যুব বিশ্বকাপে অংশ নিতে। কিন্তু কোনটাতেই দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

যুব বিশ্বকাপের মত মেগা ইভেন্ট বর্জন করায় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসিও বেশ হতাশ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সে ব্যাখ্যা দিয়ে আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন বলেছেন,‘আমরা তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। অস্ট্রেলিয়া সরকারের আদেশেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু আমরা তাদের এমন সিদ্ধান্তে সত্যিই হতাশ।’

সাফল্যের সঙ্গে বেশ দাপট দেখিয়ে একের পর এক ইভেন্ট কভার করছে বাংলাদেশ। সে জায়গায় পরপর দুটি সফর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বাতিল করায় বেশ হতাশ বিসিবি।

এ যেন শুদ্ধ থেকেও মুখে কালি মেখে দেওয়ার সমান! মঙ্গলবার বিসিবি অফিস পুরোটাই নিস্তব্ধ। অফিসারদের রুমে রুমে একটাই প্রশ্ন, ‘নিরাপত্তা নিয়ে তাদের এতটা বাড়াবাড়ি কেন?’ তাদের নিরাপত্তা উদ্বিগ্নকে অনেকেই ‘বিরক্তিকর’ বলতেও দ্বিধা করেননি। অস্ট্রেলিয়া থেকে খবরটি ঢাকা পৌঁছা মাত্র বিসিবি অফিসে গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দ্বারস্ত গণমাধ্যমকর্মীরা। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তকে দু:খজনক হিসেবে ব্যাখ্যা করে নিজামউদ্দিন সুজন চৌধুরী বলেন,‘আসলে বিষয়টি খুব দুঃখজনক। এটা সত্যিই হতাশাজনকও। আইসিসি ইভেন্ট এটি। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিষয়ে আমাদের বলার কিছুই নেই।’

আইসিসির ইভেন্টে কে আসলো, না আসলো তা নিয়ে মাথা ব্যাথা থাকার কথা না সংশ্লিষ্ট বোর্ড কর্মকর্তাদের। বিসিবিও একই পথে হাঁটছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার থেকেও বড় সংস্থা আইসিসি।

তাদের সম্মতিতেই যুব বিশ্বকাপের ১১তম আসর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আসিসিও অস্ট্রেলিয়াকে না পেয়ে বসে নেই। আয়ারল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে খেলার জন্য যারা কোয়ালিফাইংয়ে রানারআপ হয়েছিল।আইসিসি যেমন ইভেন্টটিকে সফল করতে উঠেপড়ে লেগেছে; বিসিবিও ঠিক তাই করছে।

এমকে