বিশ্বের যে কোন দেশের দাবাড়ুরা খেলতে পারলেও বাংলাদেশেকে শত্রু মনে করায় ভারতের দাবা আসরে খেলতে পারলেন না নাইম হক ও জাভেদ!
কোভিড-১৯ এর প্রভাবে পুরো বিশ্বের খেলাধুলাই প্রায় স্তব্ধ। এর মাঝে থেমে নেই দাবা প্রতিযোগীতা তবে সেটা অনলইনে। অনলাইন দাবা। ঘরোয়া, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক দাবা টুর্নামেন্ট স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ।
বর্তমানে দাবাড়ুদের আশীর্বাদ হিসেবে একমাত্র ভরসা অনলাইন চেস টুর্নামেন্টগুলো।
যদিও এসব অনলাইন দাবায় প্রাইজমানির পরিমাণ থাকে খুবই নগণ্য। তারপরও দাবারুদের কাছে এটা ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল’-এর মতো।
বাংলাদেশের অনেক দাবাড়ুই সাম্প্রতিক সময়ে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন অনলাইন চেস টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন। এমনই একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট ‘লেট ভাওসাহেব পাদসালগিকার মেমোরিয়াল চেস টুর্নামেন্ট।’
আয়োজনে ভারতের নতুন বুধিবাল ম-ল এবং পুরোহিত চেস একাডেমি। টুনামেন্টটি শুরু হবে আগামী ৫ জুলাই থেকে। প্রাইজমানি মাত্র ১০ হাজার রুপী।
এতে অংশ নেয়ার জন্য টুর্নামেন্টের আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বাংলাদেশের দুই দাবাড়ু জাভেদ আল আজাদ এবং নাইম হক। নাম নিবন্ধনের জন্য যোগাযোগ করেন শ্রেয়াস বিবেক পুরোহিতর সঙ্গে। এজন্য তারা আশ্রয় নেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপের।
এ পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। কিন্তু এরপরের ঘটনা দুঃখজনক। হোয়াটসঅ্যাপে বিবেকের সঙ্গে চ্যাট করতে গিয়ে বিরূপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন জাভেদ-নাইম।
বিবেক যখন জানতে পারেন তারা বাংলাদেশের খেলোয়াড়, তখন তিনি সাফ জানিয়ে দেন তাদের এই টুর্নামেন্টে খেলার কোন অধিকার নেই।
বিস্মিত হয়ে জাভেদ-নাইম এর কারণ জানতে চাইলে বিবেক যা বলেন, তা আরও বিস্ময়কর, ‘এই টুর্নামেন্টে অন্য যে কোন দেশের দাবাড়ুরা খেলতে পারবে। কিন্তু বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের কোন দাবাড়ু খেলতে পারবে না। কারণ এই তিন দেশকে আমরা ভারতের শত্রুদেশ বলে মনে করি!’
জাভেদ-নাইম জানান, স্পোর্টসের সঙ্গে কোন দেশের বা ধর্মের সংঘাত থাকতে পারে না। জাভেদ বলেন, ‘আমাদের দেশে এই দাবা আসরটি হলে ভারতেরই দাবাড়ু থাকত ৭০ শতাংশ। আমরা তো ভারতকে বন্ধু দেশই মনে করি।’ বিবেক জানান, ২০১২ সালে ভারতের আজাদ ময়দানে সংঘটিত একটি ঘটনার উদাহরণ দেন (পরবর্তীতে ঘটনাটি ভুয়া ছিল বলে অনেকেই মনে করেন)। যা হোক, জাভেদ-নাইম বিবেকের কাছে বাংলাদেশ বিদ্বেষের কারণ জেনে হাসবেন, না কাঁদবেন, বুঝতে পারছিলেন না। দেশের এই অপমানে প্রচ- রাগ হচ্ছিল তাদের।
প্রতিবেদককে, নাইম বিবেকের সঙ্গে চ্যাটিংয়ের স্ক্রিনশট প্রমাণ হিসেবে পাঠিয়ে জানান, ‘এই অপমানের প্রতিকার চেয়ে কারুর কাছে বিচারও দিতে পারছি না, কারণ এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ-ভারতের কোন দাবা ফেডারেশনেরই সম্পৃক্ততা নেই।’
সিরাজগঞ্জের ছেলে ক্যান্ডিডেট মাস্টার নাইমের বয়স ১৮। গত বছর জাতীয় দাবায় অ-১৯ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। এছাড়া প্রথম বিভাগ দাবা লীগে লিওনাইন চেস ক্লাবের হয়ে দলগত শিরোপাও জিতেছেন। ২০১৬ সালে এশিয়ান অ-১৪ দাবায় (চীনে অনুষ্ঠিত) চতুর্থ হয়েছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ অনলাইন চেস দাবায় রানারআপ হন (ওই আসরে গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব অংশ নিয়ে সপ্তম হন)। আরও দুটি অনলাইন দাবা আসরেও শিরোপা জিতেছেন চীনের গ্র্যান্ডমাস্টার দিং লিরেনকে আদর্শ মানা নাইম হক।
মানিকগঞ্জের সন্তান জাভেদ। ২২ বছর বছর বয়সী জাতীয় এই দাবাড়ু ২০১৯ সালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক দাবা আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। এছাড়া এ বছর অনলাইনে বিসিএ দাবায় এবং দ্বিতীয় বিভাগ দাবায় চ্যাম্পিয়ন হন। জাভেদের আদর্শ দাবাড়ু গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। ভারতীয় বিবেকের বাংলাদেশকে অপমান করার বিষয়টা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না জাভেদ-নাইম, তাদের হৃদয়ে জ্বলছে আগুন।
নাজমুল/এমবি





