চন্ডিকা হাথুরুসিংহে যে আসবেন না, সেটা আগেই আঁচ করা যাচ্ছিল। তার পরও ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান নাঈমুর রহমান অপেক্ষায় ছিলেন নিজ কক্ষে। ছিলেন সভায় আমন্ত্রিত তিন নির্বাচকসহ অন্যরাও।

 

কিন্তু বিসিবি কার্যালয়ের জানালার স্বচ্ছ কাচ দিয়ে তারা দেখলেন, একাডেমি ভবন থেকে এসে কোচ খেলোয়াড়দের নিয়ে সোজা মাঠে নেমে যাচ্ছেন। পাকিস্তান সিরিজের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার জন্য ক্রিকেট পরিচালনা প্রধানের ডাকা সভায় তিনি এলেনই না।

 

কোচ ছাড়াও সভায় আসার কথা ছিল টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কদের। প্রয়োজন মনে করলে হাথুরুসিংহে সঙ্গে আনতে পারতেন কোচিং স্টাফের অন্য কোনো সদস্যকেও। কিন্তু এলেন না এদের কেউই! ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবাল সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন অনুশীলনে। সেটাই অবশ্য স্বাভাবিক।

 

যে সভায় নিজেই আসার প্রয়োজন মনে করেন না, সেখানে অন্যদের কেন পাঠাবেন কোচ? পরশু ভারত থেকে ফেরা ওয়ানডের সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অবশ্য এদিন অনুশীলনেই আসেননি। কেন আসেননি, সে ব্যাপারেও পাওয়া যায়নি কোনো সদুত্তর।

 

কোচ, অধিনায়ক, সহ-অধিনায়কেরা না এলেও ক্রিকেট পরিচালনা প্রধানের ডাকা সমন্বয় সভায় এসেছিলেন আমন্ত্রিত অন্য সবাই। মূলত পাকিস্তান সিরিজে কেমন উইকেট হলে ভালো হয়, ফতুল্লায় আগামীকাল অনুষ্ঠেয় পাকিস্তান-বিসিবি একাদশ প্রস্তুতি ম্যাচ—এসব নিয়েই আলোচনা হয়েছে সেখানে।

 

কিন্তু যারা খেলবেন আর যারা খেলাবেন, তাদের ছাড়া কতটা ফলপ্রসূ হলো সভা? নাঈমুরের কথার সুরে অসন্তুষ্টি খুজে পেতে সমস্যা হলো না, ‘তারা নাকি প্র্যাকটিসের টাইট শিডিউলের কারণে আসতে পারেননি। প্রতিনিধি হিসেবে ম্যানেজারকে পাঠিয়েছেন। আমরা সিরিজের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছি। তবে অবশ্যই কোচ, অধিনায়কেরা থাকলে সভাটা আরও ভালো হতো। সব সিরিজের আগেই এ রকম সভা হয় এবং তাতে কোচ, অধিনায়কেরা থাকেন।’

 

কোচ, অধিনায়কদের সভায় না আসার প্রায় একই ব্যাখ্যা দিলেন টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদও, ‘একাডেমি ভবনে একটা টিম মিটিং ছিল। সেটার পর অনুশীলন। মাঝে খুব বেশি সময় না থাকায় তাঁরা সভায় আসেননি। কোচ চাননি অনুশীলন ক্ষতিগ্রস্ত হোক। সে জন্যই আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছেন।’

 

যদিও কোচের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, আমন্ত্রিত হিসেবেই সভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল মাহমুদের। এ বিষয়ে কোচের বক্তব্য জানা যায়নি। কারণ, বিকেল সাড়ে পাঁচটায় অনুশীলন শুরু হয়ে ফ্লাডলাইটের আলোয় সেটা চলেছে রাত পর্যন্ত। হাথুরুসিংহে ব্যস্ত ছিলেন মাঠেই।

 

বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান নাঈমুরের সঙ্গে কোচের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলে আসছে বিশ্বকাপের পর থেকেই। বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ বিদায় নেওয়ার কদিন পর সিডনিতে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিশ্বকাপের দল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাথুরুসিংহে। নির্বাচক কমিটিতে নিজের অন্তর্ভুক্তির পক্ষেও তুলে ধরেন যুক্তি।

 

তার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে নাঈমুরও নেন কঠোর অবস্থান। এসব বলে কোচ আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন বলে যৌক্তিক অভিযোগ আনেন। সব ব্যাপারে সরাসরি বোর্ড সভাপতির কাছে না গিয়ে তাঁকে ‘চেইন অব কমান্ড’ মেনে চলারও পরামর্শ দেন। বিসিবি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও হাথুরুসিংহেকে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছিল একটি সূত্রে।

 

তা দেওয়া হয়ে থাকলেও তাতে কাজ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। নইলে যে সভাটা প্রতি সিরিজের আগেই হয়, সেটাকে এভাবে এড়িয়ে যাওয়ার ঔদ্ধত্য দেখাতেন না হাথুরুসিংহে। অবশ্য বড়দের ‘প্রশ্রয়’ থাকলে সবই সম্ভব। নাঈমুরের কঠোর অবস্থানের কথা অস্ট্রেলিয়ায় বসেই শুনে থাকবেন কোচ। ঢাকায় এসে আবারও ‘চেইন অব কমান্ডের’ তোয়াক্কা না করে সরাসরি দেখা করেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসানের সঙ্গে।

 

ওই সাক্ষাতে সভাপতি কোচকে কী বলেছেন, সেটি সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও কোচের কালকের আচরণে একটা জিনিসই তো পরিষ্কারই। বোর্ড সভাপতি নাঈমুরের যৌক্তিক অবস্থানের পক্ষে না দাঁড়িয়ে কোচ-তোষণের নীতিই বজায় রেখেছেন।

 

ইআর