দীর্ঘ এক যুগের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চ্যাম্পিয়নস লীগের শেষ চারে পৌঁছে গেছে জুভেন্টাস। বুধবার কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে মোনাকোর সাথে গোলশূন্য ড্র করার পরে দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ তে এগিয়ে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইতালিয়ান জায়ান্টরা।

গত সপ্তাহে তুরিনে প্রথম লেগে আরটুরো ভিডালের বিতর্কিত পেনাল্টিতে সিরি-আ লীগ চ্যাম্পিয়নদের জয় নিশ্চিত হয়েছিল। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে ফিরতি রেগে জুভেন্টাস পুরোপুরি রক্ষনাত্মক ভঙ্গিমায় খেলেছে।

বিপরীতে তারুণ্যনির্ভর মোনাকো পূর্ণ শক্তি নিয়েই আক্রমনাত্মক খেলা চালিয়ে গেছে। কিন্তু তারপরেও পুরো ম্যাচেই নিয়ন্ত্রণ ছিল ইতালিয়ান জায়ান্টদের কাছেই। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ানলুইজি বুফনকেও খুব একটা হুমকির মুখে পড়তে হয়নি। ম্যাচের একেবারে শেষ মিনিটে আন্দ্রে পিরলোর ফ্রি-কিকে জুভেন্টাস প্রায় গোল করেই ফেলেছিল। কিন্তু বারে লেগে বলটি ফেরত আসায় শেষ পর্যন্ত ডেডলক ভাঙ্গতে পারেনি জুভরা।

বায়ার্ন মিউনিখ, বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসকে নিয়ে শেষ চারের লড়াইয়ের আগে কাল সেমিফাইনালের ড্র অনুষ্ঠিত হবে।

কোয়ার্টার ফাইনালে এসে ফ্রেঞ্চ দল মোনাকোর যাত্রা থেমে গেলেও পুরো টুর্নামেন্টে তাদের অনবদ্য নৈপুন্য সকলের দৃষ্টি কেড়েছে। যদিও এবারের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লীগে চারটি হোম ম্যাচে তারা মাত্র তিনটি গোল দিতে সক্ষম হয়েছে। স্টেড ডি লুইস টু’তে নিজেদের মাটিতে গত নয়টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয়ী হয়েছে। মোনাকো কোচ লিওনার্দো জারদিম পর্তুগীজ তারকা বারনার্ডো সিলভার উপরই মূল একাদশে আস্থা রেখেছিলেন। এই পর্তুগীজ মিডফিল্ডার শেষ তিনটি ঘরোয়া আসরের ম্যাচেই গোল করেছেন। তার সাথে আক্রমনভাগে দিমিতার বারবাতোভের স্থানে আরো ছিলেন তরুন এ্যান্থনি মারশাল। তবে কাল মাঠে নামনেনি অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রিকার্ডো কারভালহো। সব মিলিয়ে তারুণ্য নির্ভর একটি দল নিয়েই কাল খেলতে নেমেছিল স্বাগতিকরা। বিপরীতে রক্ষনাত্মক কৌশলে খেলতে নামা অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দল জুভেন্টাস প্রথম থেকে মোনাকোকে চাপে রাখে। তারা প্রায়ই স্বাগতিকদের নিজেদের রক্ষনভাগে আক্রমনের আমন্ত্রন জানিয়েছে। তবে বরাবরের মত গোলবারে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল বুফনের। কার্লোস তেভেজ, আলভারো মোরাতার কল্যাণে বিরতির আগে জুভরা কয়েকটি আক্রমন চালালেও তা সফল হয়নি।

এমনকি দ্বিতীয়ার্ধেও ইতালিয়ান ফরোয়ার্ডদের খুব একটা সরব মনে হয়নি। বিরতির পরে জেরেমি টোলালানের স্থানে বারবাতোভ নামার পরে মোনাকো কিছুটা আক্রমনের ধার বাড়ায়। কিন্তু যতটা না তারা গোলের জন্য এগিয়ে গেছে শেষ মুহূর্তে তাদের কাছ থেকে তেমন সাফল্য নজরে পড়েনি।

জেডআই